দ্বাদশ শ্রেণী শিক্ষা বিজ্ঞান ( সাজেশন টেস্ট ২০২৪)

1.কম্পিউটারের শিক্ষামূলক উপযোগিতাগুলি লেখো।
উত্তর- কম্পিউটার আধুনিক সভ্যতার শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীর শিক্ষাকার্য সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কম্পিউটারের সাহায্যে শিক্ষা দেওয়ার কাজ আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে গেছে। Network যুক্ত কম্পিউটারগুলি দ্রুত যোগাযোগ এবং ওয়েব এক্সেস করতে সক্ষম হয় ফলে তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত ডেটা প্রসেসিং, শিখনে অডিও ভিসুয়াল সহায়তা, শিক্ষার্থীরা আজ ঘরে বসেই পাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ সমাধান করা সম্ভব হয়। আজ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কম্পিউটার মূল ভূমিকা পালন করে।
• কম্পিউটারের শিক্ষামূলক উপযোগিতা:
1. শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে দ্রুত গণনা, ভুল সংশোধন, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
2. শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা, পাঠ্যসূচি তৈরি করা, কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন।
3. হোম এসাইনমেন্ট ছাত্র-ছাত্রীদের প্রজেক্টের বিভিন্ন কাজ এর ক্ষেত্রে শিক্ষক কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে থাকেন।
4. কম্পিউটার তথ্যের অডিও ভিসুয়াল উপস্থাপনা সহজ করে। ফলে পাঠদানের প্রক্রিয়াটিকে মিথস্ক্রিয়ামূলক এবং আকর্ষণীয় করে তোলে ।

বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা কম্পিউটার ছাড়া অকল্পনীয়। তথ্য অ্যাক্সেস, ডেটা স্টোরেজ, তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ উপস্থাপনার জন্য কম্পিউটার শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ।
2. শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর - আধুনিক যুগের শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয় প্রযুক্তিবিজ্ঞানের দ্বারা। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহারিত সমস্ত শ্রাব্য-দৃশ্য উপকরণ হল এই প্রযুক্তির অন্তর্গত। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাকে আরো অর্থময় করা সম্ভব। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষা শিখন প্রক্রিয়া, মূল্যায়ন ইত্যাদি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি প্রয়োগ করা হয় শিক্ষাপ্রযুক্তির মাধ্যমে ।
প্রযুক্তিবিদ্যার ব্যবহার:
১.বিষয়বস্তু উপস্থাপনের পদ্ধতি: বিষয়বস্তু উপস্থাপন করার সময় শিক্ষক কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্রত্যেকটি পাটকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রিপারেটরি মেটেরিয়াল তৈরি করেন, তাহলে তা শিক্ষার্থীরা সহজেই গ্রহণ করতে সমর্থ হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের অগ্রগতি বুঝতে পারবে।
২. প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুশীলন: কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনুশীলন করলে তাদের ভুলগুলি অতি সহজে শুধরে নিতে পারে ।
৩. স্বাধীন চিন্তার বিকাশ: শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের ব্যবহার করার ফলে স্বাধীন চিন্তার সুযোগ পায়। পরবর্তীকালে যে কোনো সমস্যার সমাধান শিক্ষার্থীরা Exclusive স্বাধীনভাবে নিজেরাই করে থাকে।
৪.বিভিন্ন বিষয়ে কম্পিউটারের ব্যবহার: ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বর্তমানে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়। ছবি আঁকা দেশ-বিদেশের নানান তথ্য জানার জন্য কম্পিউটার এবং ইনটারনেট আজ শিক্ষা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলির মাধ্যমে শিক্ষাকে সমস্ত শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপন করার ফলে শিক্ষণীয় বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। শিক্ষার্থীর আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষাপ্রযুক্তি গ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।
3. শিক্ষায় প্রযুক্তিবিজ্ঞানের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর - বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিদ্যমান। সারা দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। প্রযুক্তি ছাড়া গোটা পৃথিবীই আজ অচল। গবেষণা থেকে শুরু করে, ব্যবসা, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসাসহ ঘরে-বাইরে, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে সকল ক্ষেত্রেই আজ প্রযুক্তির ছোঁয়া। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিবিদ্যার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
• শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিজ্ঞানের ভূমিকাগুলি নিম্নরূপ:
1. বর্তমানেকম্পিউটার,ওভারহেড প্রোজেক্টরবিভিন্ন গণমাধ্যম এর সাহায্যে পড়াশোনার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়বস্তু খুব সহজ করা সম্ভব হয়।
2. শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানের প্রোগ্রাম শিক্ষন ব্যবস্থা শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট বিষয় অনেক বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
3. অনুশিক্ষন হল শিক্ষণ-শিখন ক্ষেত্রে একটি আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি। এই শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকগণ উন্নতমানের শিক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকেন।
4. মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে পাঠদানের ফলে শিক্ষণীয় বিষয়গুলি অনেক সহজ ও আকর্ষণীয় হচ্ছে ফলে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
5. তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের ফলে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্ঞান সঞ্জয় করতে পারছে।
6. ইনটারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পরিচিত লাভ করছে।
বর্তমানে মেধাচর্চা ও সৃজনশীলতার বিকাশে প্রযুক্তিবিদ্যার গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে কল্পনা করা যায় না ।
4. শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর- শিক্ষাক্ষেত্রে বহুমুখী প্রযুক্তি ও কৌশলের প্রয়োগকে এককথায় শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা বলা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলে বলা যায় যে, শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার পারস্পরিক সমন্বয় সাধনই হল শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা।
G.O.Leith-এর মতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রসার ও উপযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা অর্জনে ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় শর্ত ও পরিবেশ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগই হল শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা।
• শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(i) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা হল একটি দ্রুত ক্রমবর্ধমান আধুনিক শাখা ।
(ii) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা হল কৌশল এবং পদ্ধতির বিজ্ঞান। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তাদের প্রতিকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
(iii) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
(iv) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, প্রকৌশল বিজ্ঞান এবং সামাজিক মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলকে ব্যবহার করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে।
(v) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা হল শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার কারিগরি কৌশলের প্রয়োগ সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
(vi) শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা তাত্ত্বিক দিকের তুলনায় ব্যবহারিক দিকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।
(vii) পরিশেষে শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা কার্যকরী উপায় অবলম্বন করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একজোট হতে সাহায্য করে।
 শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক ও অনুশীলনমূলক জ্ঞান প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য অপরিহার্য। এই প্রযুক্তিবিদ্যাকে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন স্তরের পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিখনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে সচেষ্ট হবে ও তাদের পারদর্শিতা বৃদ্ধি পাবে।
5.কম্পিউটার কি শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও ।
 উত্তর- কম্পিউটার মানুষের উপকারী যন্ত্র। আবার শিক্ষক একজন অনুভূতিপ্রবণ, সংবেদনশীল মানুষ, যন্ত্রকে চালায় মানুষ। সেই যন্ত্র কখনো মানুষকে চালাতে পারে না বা মানুষের বিকল্প হতে পারে না। শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠক্রম রচনার মূল্যায়নে, প্রকাশন কর্মে, প্রশ্নপত্র রচনায়, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণায় সমস্ত কাজেই কম্পিউটার সাহায্য করে। কিন্তু এই সমস্ত কাজের নিয়ন্ত্রক হচ্ছে মানুষ তথা শিক্ষক। কোনো কম্পিউটারই শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। তার কয়েকটি কারণ নিম্নরূপ—
* মানবিক স্পর্শের অভাব : সঠিক উত্তর দিয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে সে যা উৎসাহ ও প্রশংসা পায় তার পিছনে থাকে মানবিক হৃদয়ের স্পর্শ। কম্পিউটারে নির্ভুল প্রতিক্রিয়া বা নির্ভুল তথ্য পেয়ে থাকলে আন্তরিকতার ছোঁয়া কম্পিউটারে পাওয়া সম্ভব নয় ।
* যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা: কম্পিউটার যন্ত্রে যে প্রোগ্রামগুলি সেভ করা থাকে তার বহির্ভূত অন্য কোনো জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। শিক্ষক কিন্তু প্রয়োজনবোধে তাঁর শিক্ষাদান কৌশল বা শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহকে ইচ্ছামতো আলোচনার দিক পরিবর্তন করতে পারেন।
* চরিত্র গঠনে সুযোগের অভাব: কম্পিউটার একেবারেই যান্ত্রিকভাবে কাজ করে। শিক্ষকের সুযোগ্য তত্ত্বাবধানে ও মানবিক ছোঁয়া শিক্ষার্থীর চরিত্র সুগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে।
* শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা : শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন অভিভাবকদের সম্পর্কে বহু তথ্য শিক্ষক সংগ্রহ করতে পারেন। শিক্ষার্থীর মনোজগতের আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্নের কী টানাপোড়েন চলছে সে সম্পর্কে শিক্ষক জানতে পারেন। কিন্তু কম্পিউটারে তা সম্ভব নয়।
* কৃত্রিম পরিবেশ : শ্রেণিতে পঠন-পাঠনের সময় আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও কর্মপ্রবাহ সচল থাকে। কম্পিউটারে কৃত্রিম পরিবেশে এই আন্তরিকতার স্পর্শ থাকে না ।
      বর্তমানে কম্পিউটার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উপকরণ হলেও শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। আজও শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

6.জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা' বাস্তবায়িত করতে বিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
 উত্তর- 1993 খ্রিস্টাব্দের জ্যাকস ডেলর্স (Jacques Delors)-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষা কমিশন শিক্ষার চারটি স্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ 'জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা’ বা ‘Learning to know শিশু গৃহ পরিবেশে, সামাজিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করে সে অজানাকে জানতে চায়, অচেনাকে চিনতে চায়। এই চেনা জানার প্রবণতাই তার জ্ঞানার্জনের স্পৃহাকে বৃদ্ধি করে। ফলে অপরিপক্ক শিশুমন সমৃদ্ধ হয়।জ্ঞান অর্জনে শিক্ষার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতে বিদ্যালয়ের যে ভূমিকা থাকতে পারে সেগুলি নিম্নরূপ।
 * স্মৃতিশক্তির বিকাশ সাধন: শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে মানুষের স্মৃতি শক্তির যথার্থ বিকাশ ঘটানো। শিক্ষকের কাজ হবে স্মৃতি শক্তির উন্নতির বিভিন্ন কৌশলগুলি আয়ত্ব করতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। 
* চিন্তা শক্তির বিকাশ সাধন: চিন্তা দুই ধরনের বিষয়ের উপর নির্ভর করে মূর্ত ও বিমূর্ত বিষয়। বিমূর্ত বিষয়ের চিন্তন হল উন্নতমানের চিন্তন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাজই হবে শিক্ষার্থীদের বিমূর্ত বিষয়ের চিন্তনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সমস্যামূলক পরিস্থিতির সম্মুখীন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের যাতে প্রয়োজন মতো শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা সমাধানের সচেষ্ট হয়।
* মনোসংযোগ করতে শেখা: মনোসংযোগের কাজটি শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকেই লাভ করে। খেলার মাঠ, পরীক্ষা কেন্দ্রে, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি সকল ক্ষেত্রেই মনোসংযোগের প্রয়োজন। শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে থাকার ফলে এই মনোসংযোগের বিষয়টিতে সে দক্ষ হয়ে ওঠে।
* শিক্ষার্থীর চাহিদা: শিক্ষার্থীর চাহিদাকে যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী তার মধ্যে কৌতূহল জাগবে এবং সেই কৌতূহল নিরসন করবেন শিক্ষক।
* শিক্ষার্থীর আগ্রহ: আগ্রহ হল জ্ঞানলাভের সোপান। আগ্রহ না থাকলে বিষয়ের গভীরে পৌঁছানো যায় না। তাই শিক্ষকের কাজই হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে আগ্রহ সঞ্চার করানো।
       বিদ্যালয় জ্ঞান ও দক্ষতা লাভের উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যালয় জ্ঞান যথাযথ প্রয়োগের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। তাকেই জ্ঞান অর্জনের যথার্থতা প্রকাশ হবে ।
7.একসঙ্গে বাঁচার শিক্ষা'—শিক্ষার এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতে বিদ্যালয়ের ভূমিকা লেখো।[HS. 22]
উত্তর- 1993 খ্রিঃ ডেলর্স কমিশন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তার তৃতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ জীবনব্যাপী শিক্ষার উদ্দেশ্যর তৃতীয়টি ছিল ‘একসঙ্গে বাঁচার শিক্ষা' বা Learning to live Together. এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিম্নরূপ। 
* বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা: শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষার মাধ্যমে কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে পারে সেই রকম শিক্ষা তাদের দিতে হবে।
* জীবনাদর্শভিত্তিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা: একদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অন্য দেশের বিস্তর প্রভেদ, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে চিন্তার ও ভাবের আদান-প্রদানের দ্বারা এই প্রভেদ দূর করা।
* জাতীয় ঐক্যবোধ গড়ে তোলা: গোটা দেশে একই ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে দেশের মধ্যে ঐক্যবোধ গড়ে ওঠে। আগে দেশের মধ্যে ঐক্যস্থাপন করতে হবে তার থেকেই আসবে বিশ্ব ঐক্যবোধ।
* পাঠ্যক্রম: পাঠক্রমে এমন সব বিষয় এর আধিক্য থাকবে যাতে তার মধ্যে দিয়েই শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি, নির্ভরশীলতার বোধ তৈরি হয়।
* সহপাঠ্যক্রম: শিক্ষামূলক ভ্রমণ, দেশাত্মবোধক আলোচনা, সংগীত, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, মনীষীদের বাণীপাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাবের আদান প্রদান হবে। ফলে তাদের মধ্যে এক সঙ্গে বসবাসের গুরুত্ব উপলব্ধি হবে।
* ধর্ম নিরপেক্ষতা; একই মানসিকতা সম্পন্ন নাগরিক তৈরি করার জন্য ধর্ম নিরপেক্ষ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতবর্ষের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্বীকার করা হয়েছে।
    এই সকল বিষয়গুলি যদি প্রতিটি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৈশবেই গড়ে তোলা যায় তবেই শিশুর মধ্যে সংকীর্ণতা, হিংসা, বিদ্বেষ তৈরি হবে না এবং এক সঙ্গে বাস করার গুরুত্ব উপলব্ধি হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

8. ‘কর্মের জন্য শিক্ষা’র উদ্দেশ্যগুলি পূরণে বিদ্যালয়ের ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো। [HS. 17]

উত্তর -ডেলর কমিশন বিংশ শতকের নতুন প্রজন্মকে কেন্দ্র করে শিক্ষার যে চারটি স্তম্ভের কথা বলেন তার দ্বিতীয় স্তম্ভ হল Learning to do বা কর্মের জন্য শিক্ষা। দক্ষতার সঙ্গে বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কার্য সম্পাদন করাই এর লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিম্নরূপ:
1. শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মের প্রতি উৎসাহ, শ্রমের প্রতি মর্যাদাবোধ তৈরিতে বিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
2. শিক্ষায় গণতান্ত্রিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে এমন পরিবেশ বিদ্যালয় তৈরি করবে সেখানে সকলেই শিক্ষার অধিকার লাভ করবে।
3. বিদ্যালয় সৃজনাত্মক কর্মের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করবে যাতে সকল শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করতে পারে।
4. কর্ম সম্পাদনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাক্ষোভিক বিকাশ ঘটে। বিদ্যালয় বিভিন্ন কর্ম সম্পাদনের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে।
5. হাতের কাজ, মাটির কাজ, কাঠের কাজ, সুতোর কাজ, বাড়ির বাতিল অংশের সাহায্য নতুন নতুন জিনিস তৈরির কাজ ইত্যাদি তৈরিতে বিদ্যালয় সর্বদা শিক্ষার্থীকে উৎসাহ প্রদান করবে।
6. উৎপাদনশীলতাই শিক্ষার্থীকে কর্মদক্ষ, কর্মনিপুণ করে তোলে। ফলে শিক্ষার্থী মানসিক তৃপ্তি, সামাজিক পরিচয় ও আনন্দ লাভ করতে পারে। তাই বিদ্যালয়কে উৎপাদনশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।
  সুতরাং শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হবে কর্মের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
9. সর্বশিক্ষা অভিযান কী? সর্বশিক্ষা অভিযান সফল করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ আলোচনা করো।
উত্তর- কেন্দ্রীয় সরকার একটি শিক্ষামুখী সমাজ গড়ে তুলতে 1999-2000 বর্ষে 14 বছর বয়স পর্যন্ত সকল স্তরের ছেলেমেয়েকে 10 বছরের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়ার যে কর্মসূচি, তাকেই বলে সর্বশিক্ষা অভিযান।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি নিম্নরূপ:
1. পিছিয়ে পড়া শিশুদের সংখ্যা কমিয়ে আনা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। শহরের পিছিয়ে থাকা ও অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে শিশুশিক্ষা প্রকল্প ৷
2. সামাজিক, লিঙ্গ ও অক্ষমতাগত বৈষম্য কমিয়ে আনা: সর্বশিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে মেয়েদের এবং সামাজিক দিক থেকে অবহেলিত, বঞ্চিত শ্রেণির শিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। মেয়েদের তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ একটি প্রধান সহায়তা হিসেবে গণ্য হয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অক্ষমতা অতিক্রম করার জন্য সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
3. শিক্ষণের গুণগত মনোন্নয়ন: NCERT প্রস্তাবিত CCE-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মনোন্নয়নের প্রয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
4. প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা সৃষ্টি: পশ্চিমবঙ্গের সর্বশিক্ষা অভিযানকে কার্যকরী করে তুলতে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সর্বপ্রকার সহায়তা দান করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি জেলা প্রকল্প আধিকারিক এবং অন্যান্য পদাধিকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। কয়েকটি PITT-কে DIET-এ রূপান্তরিত করে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কীয় গবেষণা, আলোচনা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
10.বয়স্ক শিক্ষা বলতে কী বোঝো? বয়স্ক শিক্ষার লক্ষ্যগুলি লেখো।
উত্তর- বয়স্ক শিক্ষা হল মহান দেশের মহান নাগরিক হিসেবে বয়স্কদের কর্তব্যপরায়ণ, উদারদৃষ্টি সম্পন্ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় সংহতির মূল্যবোধযুক্ত ও বিজ্ঞানচেতনায় সমৃদ্ধ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করার শিক্ষা। কোঠারি কমিশন বলেছেন ‘বয়স্ক শিক্ষা হল শিক্ষায় জাতীয়- প্রক্রিয়ার একটি স্থায়ী বৃত্তি'। বয়স্ক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ নাগরিকের সামাজিক ; অর্থনৈতিক, নৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা।
• বয়স্ক শিক্ষার লক্ষ্য:
1. বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদের স্বাক্ষর করে মানসিক শক্তির বিকাশ সাধন করা।
2. ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বয়স্ক ব্যক্তিদের সচেতন করা।
3. বয়স্কদের স্বাক্ষর করে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটানো।
4. বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে কুসংস্কার দূর করা।
5. বয়স্ক মন থেকে ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করা।
6. নাগরিকদের সংবিধান অনুযায়ী অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে বয়স্কদের সচেতন করা।
7. বিভিন্ন পেশায় যুক্ত 'বয়স্কব্যক্তিরা যাতে তার পেশায় উন্নতি হয় তারজন্য দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যবস্থা করা।
         বয়স্ক ব্যক্তিদের অক্ষর পরিচিতির মধ্যে বেঁধে না রেখে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাকে তাঁর সমাজের ও জাতির দায়িত্ব পালন করতে পারে।
11. সর্বশিক্ষা অভিযান কী ? এর লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলি লেখো।
উত্তর- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রয়াসে সকলের জন্য 'Education For all' মহান উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে 6 থেকে 14 বছর বয়স পর্যন্ত সকল ছেলে মেয়েকে বিদ্যালয়ে এনে নথিভুক্তির পর তাদের শিক্ষাগত মান বৃদ্ধির জন্য ধরে রেখে নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম সমাপ্তির মহান প্রয়াসই হল সর্বশিক্ষা অভিযান। “Sarba Siksha Abhijyan'.
সর্বশিক্ষা অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলি নিম্নরূপ :
(1) শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ও অন্যান্য সামাজিক বৈষম্য দূর করে 6–14 বছর বয়সি সকল ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সুনিশ্চিত করা।
(2) 2003 সালের মধ্যে ভারতের সকল শিশুকে ‘শিক্ষা সুনিশ্চিত কেন্দ্ৰ’, ‘বিকল্প বিদ্যালয়', বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়া ।
(3) 6–14 বছর বয়সি সকল ছেলেমেয়ে বিদ্যালয় অভাবে অথবা স্কুল ছুট এর কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে আছে; তাদের খুঁজে বের করে “সর্বশিক্ষা অভিযান” প্রকল্পভুক্ত করা।
(4) 2007 সালের মধ্যে সকল শিশুকে 5 বছরের নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করা। 
(5) 2010 সালের মধ্যে সকল শিশুকে ৪ বছরে উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করা।
(6) কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন করা।
(7) জীবনধর্ম শিক্ষায় গুরুত্ব আরোপ করে গুণগত মান অর্জনে সহায়তা করা।
(৪) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতকে তুলে ধরা।
12. প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার কয়েকটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তর- ভারতীয় সংবিধানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলকে শিক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধীরা যেহেতু সামাজিক, দৈহিক, মানসিক প্রভৃতি দিক থেকে অন্য শিশুদের থেকে পিছিয়ে তাই তাদের শিক্ষার প্রয়োজন আরো অনেক বেশি। নিম্নে এদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণগুলি আলোচনা করা হল।
 * আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করা: প্রতিবন্ধী শিশুদের আত্মবিশ্বাস-এর অভাব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষার মাধ্যমেই এদের আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করা সম্ভব।
* অভিযোজনে সহায়তা করা: এই শিশুরা বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজন না করতে পারার জন্য এড়িয়ে চলার মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্যা দূর করার জন্য উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন।
* বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ : প্রতিবন্ধীদের দায়িত্ব সবাই নিতে চায় না। একমাত্র শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবিকা অর্জন করতে পারে। 
* হীনমন্যতা দূরীকরণ : প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সর্বদা হীনমন্যতায় ভোগে। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই এই বাধা দূর করা সম্ভব।
* প্রাক্ষোভিক চাহিদা পূরণে সহায়তা : শারীরিক ত্রুটির জন্য এই শিক্ষার্থীরা অস্বাভাবিক আচরণ করে। তাই ওই অস্বাভাবিক প্রক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষার প্রয়োজন।    সুতরাং প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সমাজের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য একান্ত শিক্ষার প্রয়োজন।
13. মূক ও বধির শিশুদের শিক্ষাদানের পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর- যেসব শিশুরা কথা বলতে পারে না ও শুনতে পায় না তাদের . মুক বলে। অন্যদিকে যে ব্যক্তি শ্রবণযন্ত্রের সহায়তায় বা সহায়তা ভিন্ন 70 ডেসিবেল এর শব্দ শুনতে পায় না, তাদেরকে বধির বলে।
* মৌখিক পদ্ধতি বা ওষ্ঠপঠন : এই পদ্ধতির প্রবর্তক হলেন জুয়ান প্যাবলো বনে। মুখের নড়াচড়া, ঠোঁট নড়ার কৌশল প্রভৃতি দেখে মুখ ও বধির বা বক্তার কথা বুঝতে পারে। 
* কম্পন ও স্পর্শ পদ্ধতি: কেটি অ্যালকর্ণ ও সোফিয়া অ্যালকর্ণ এর প্রবর্তক। এই পদ্ধতিতে শিক্ষকের উচ্চারণ শিশুরা গালে, কণ্ঠনালি প্রভৃতিতে হাত দিয়ে শব্দের কম্পন অনুভব করে।
* সঞ্চালন মূলক পদ্ধতি : এই পদ্ধতির প্রবর্তক পিরিয়ার। আঙুলের সঞ্চালনের দ্বারা এখানে মনের ভাব প্রকাশক হয়।
* দর্শন নির্ভর পদ্ধতি : এখানে কয়েকটি প্রতীকের ব্যবহার করা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের উচ্চারণের সময় মুখের আকৃতি লক্ষ্য করে বর্ণ উচ্চারণ করতে শেখানো হয়।
* শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতি: বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল শ্রবণ সহায়কযন্ত্র তৈরি হয়েছে, যার সাহায্যে শিক্ষাদান করা হয়। এটি সহজ ও বহুলপ্রচারিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতি বলা হয় শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতি বা Hearing aid Method.এই পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত জটিল। দক্ষ প্রশিক্ষক ছাড়া মূক ও বধির শিক্ষার্থীদের শেখানো অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া যথাযথ ভাবে আয়ত্ব করতে হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন অনুশীলন করা প্রয়োজন।
14. ব্রেইল পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর- অন্ধ শিশুদের জন্য স্পর্শভিত্তিক পাঠের একটি পদ্ধতি হল ‘ব্রেইল’, প্যারিসের অন্ধ বিদ্যালয়ের ছাত্র লুইস ব্রেইল 1829 খ্রিঃ আবিষ্কার করেন ব্রেইল পদ্ধতি। 1950 খ্রিস্টাব্দে UNESCO পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ব্রেইল প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
* গঠন : ব্রেইলের গঠন হল আয়তাকার শক্ত কাগজ দিয়ে পুরু কাগজের ওপর ছটি উঁচু নিচু বিন্দুকে বিভিন্ন ভাবে বিন্যস্ত করে a, b, c, d প্রভৃতি বর্ণ লেখা হয়। এছাড়া স্টাইলাস দিয়ে চাপ দিয়ে নীচে রাখা শক্ত কাগজ চাপের ফলে গর্ত হয়ে যায়।
* ব্রেইল পাঠের পদ্ধতি: এই স্পর্শ পদ্ধতি স্টাইলাসের সাহায্যে লেখা হয়। সাধারণত বাম থেকে ডান দিকে ব্রেইল পাঠ করতে হয়। একজন দক্ষ ব্রেইল পাঠক প্রতিমিনিটে সর্বাধিক 60 টি শব্দ পড়তে পারে। শিক্ষার্থীরা ব্রেইল পড়ার পর ব্রেইল লেখা শেখানো হয়। বর্তমানে দ্রুত লেখার জন্য টাইপ মেশিন ও কম্পিউটারের সাহায্য নেওয়া হয়। ব্রেইল পদ্ধতির বাংলা সংস্করণ উদ্ভাবন করেন কলকাতা ব্লাইন্ড স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা লালবিহারী শাহ ।
* অসুবিধা : খুব ভারী এবং আয়তনে বড়ো হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হয়। এছাড়া ব্যয়বহুল ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব আছে।
   বর্তমানে ব্রেইল আরো ছোটো আকারে ব্যবহারিত হচ্ছে যা ব্রেইল স্লেট নামে পরিচিত। এইভাবে এই পদ্ধতিতে আরো সহজ ও কম খরচের ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
15. দৃষ্টিহীন শিশুদের শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি কী কী ?
উত্তর- সাধারণত দৃষ্টিহীন আমরা তাদেরকেই বলি যে কোনো কিছুই স্পষ্ট দেখতে পায় না, বা বড়ো হরফে লেখা পড়তে পারে, এরা চিরকালই সমাজের দয়ার পাত্র। কিন্তু উপযুক্ত নির্দেশনা ও সুযোগসুবিধা প্রাপ্তির মাধ্যমেও সমাজের দায়বদ্ধতা সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এদেরকেও সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসা সম্ভব।
• দৃষ্টিহীন শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্য :
1. দৃষ্টিহীন শিশুরা হীনমন্যতায় ভোগে। তাদের নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য শিক্ষাদান করা উচিত।
2. পরিবর্তনশীল সমাজের সঙ্গে সংগতি বিধানের জন্য এদের শিক্ষার একান্ত প্রয়োজন।
3. দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী বিকাশমূলক শিক্ষা বাধাপ্রাপ্ত হলেও অন্য ইন্দ্রিয় ব্যবহারমূলক প্রশিক্ষণ তাদের একান্ত প্রয়োজন হলে তাদের কর্মদক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
4. দৃষ্টিহীন শিশুরা দৈনন্দিন কাজে অপারক। তাই শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে তাদের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
5. দৃষ্টিহীন শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তারা যে সমাজে বসবাস করে সেই সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এই বোধ জাগ্রত করা।
       দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাহিদা, মানসিকতা, শিক্ষার উদ্দেশ্যের কথা মাথায় রেখে তাদের শিক্ষার পাঠ্যক্রম গঠন করতে হবে, যা তাদের সুঅভ্যাস গঠনে, আত্মবিশ্বাস গঠনে, দৈহিক ও মানসিক সামাজিক বিকাশে সহায়তা করবে।
16.1986 সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সংশোধিত রূপটির বিবরণ দাও।
উত্তর- 1986 খ্রিস্টাব্দের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং রামমূর্তি কমিটির সুপারিশ কতগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলিকে কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায় তা বিচার-বিবেচনা করবার জন্য ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড সম্রাে Suggestions অন্ধ্রপ্রদেশের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনার্দন রেড্ডির নেতৃত্বে 17 জন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি জনার্দন রেড্ডি কমিটি নামে পরিচিত।
রামমূর্তি কমিটির রিপোর্ট ও জনার্দন কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে 1986 খ্রিস্টাব্দের জাতীয় শিক্ষানীতির কিছু পরিবর্তন সাধন করে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী তা সংসদে পেশ করেন। এই সংশোধিত শিক্ষানীতির শিরোনাম হল ‘National Policy of Education Revised Policy Formulation, 1992 1992-এর Programme of Action এ যেসব ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হল-

* শিক্ষা কাঠামো : সারাদেশে একই শিক্ষা কাঠামো থাকবে। এর উপরেই ভিত্তি করে 10 + 2 + 3 প্রথা গৃহীত হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক +2 স্তরের শিক্ষা হবে স্কুল শিক্ষা।
* কমন স্কুল : যত শীঘ্র সম্ভব কমন স্কুল ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মধ্যে যে সমস্ত বৈষম্য রয়েছে সেগুলি দূর করতে হবে।
* নবোদয় বিদ্যালয় : নবোদয় বিদ্যালয় ব্যবস্থা চালু থাকবে। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তে বহাল থাকবে।
*Standing Committee গঠন: তপশিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের শিক্ষার জন্য দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে CABE একটি Standing Committee গঠন করবে।
* প্রাথমিক শিক্ষা : 14 বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর সর্বজনীন অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বয়স্ক শিক্ষা ও সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে।
* অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড কর্মসূচি অগ্রাধিকার পাবে। তা ছাড়া প্রাথমিক স্তরে MLL অর্থাৎ Minimum Levels of Learning কতটা হওয়া উচিৎ তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
* NCERT-এর দায়িত্ব : প্রাথমিক শিক্ষার জন্য জাতীয় স্তরে একই পাঠক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। এই পাঠক্রম প্রণয়নের দায়িত্বে থাকবে NCERT.
* দুটি নতুন অনুচ্ছেদ সংশোধিত শিক্ষানীতিতে অন্তর্ভুক্ত :
(i) ক্রম উন্নয়নশীল ভারতে দক্ষ কর্মীর চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করা বৃত্তিমুখী শিক্ষাকে পরিচালনা করতে হবে।
(ii) শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকের অভাব অভিযোগ বিচার-বিবেচনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে।
: মাধ্যমিক শিক্ষা: সমস্ত রাজ্যের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাথমিক কাঠামোর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলিকে পুনর্গঠন করে তাদের স্বশাসন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
* উচ্চশিক্ষা : উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হবে মানুষের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানবিকতা বোধ জাগ্রত করা।
* বৃত্তিগত শিক্ষা: উচ্চমাধ্যমিক স্তরে 10% ছাত্রছাত্রীদের 1995 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ও 25% ছাত্রছাত্রীদের 2000 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বৃত্তিশিক্ষার আওতায় আনতে হবে।
* প্রথামুক্ত শিক্ষা : স্কুলছুটদের জন্য প্রথামুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যে সব শিশু কর্মরত এবং যে সব মেয়ের পক্ষে সারাদিনব্যাপী স্কুলে যাওয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য প্রথামুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
* জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা : জাতীয় স্তরে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গড়ে তুলতে হবে। যার কাজ হবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান নির্ধারণ করা। 
       1992-এর POA-এর অন্য সুপারিশগুলি হল:
(i) সারাদেশে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি।
(ii) শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বোর্ডের ভূমিকার পরিবর্তন প্রয়োজন।
(iii) সমস্ত স্তরের শিক্ষার আধুনিকীকরণ প্রয়োজন।
(iv) সমস্ত স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক চেতনা, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিকতার বিকাশ ঘটানো দরকার।
(v) শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সমতা আনা দরকার ।
      সবশেষে বলা যেতে পারে জাতীয় শিক্ষানীতি ও পরবর্তী Programme of Action (POA) 1992-এর সুপারিশসমূহ শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে বাঞ্ছিত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। অনেক সুপারিশ কার্যকর করা হয়েছে। তবে অর্থের অভাব এবং উপযুক্ত সমন্বয় এর ঘাটতি শিক্ষার অগ্রগতিকে বহু পরিমাণে ব্যাহত করেছে। লক্ষ্যপূরণে এখনো অনেক পথ চলতে হবে।
17. প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কোঠারি কমিশনের সুপারিশগুলি আলোচনা করো। 
উত্তর - মানুষের প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী এবং সংহতিপূর্ণ একটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য 1964 খ্রিঃ 14 জুলাই ‘ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' বা কোঠারি কমিশন গঠিত হয়। ড. ডি. এস. কোঠারির নেতৃত্বে প্রাথমিক সম্রাট শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য যে সুপারিশগুলি করেন তা নিম্নরূপ:
* সংবিধান বাস্তবায়ন: সংবিধানের নির্দেশ রয়েছে 14 বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ছেলেমেয়ের বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র করবে।
* অনুন্নয়ন ও অপচয় কমিয়ে আনা: অনুন্নয়ন ও অপচয় এমনভাবে কমিয়ে আনতে হবে যাতে বিদ্যালয়ে যারা ভরতি হল তাদের যেন শতকরা 80 জন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
* প্রাথমিক স্কুল স্থাপন: নিম্নপ্রাথমিক স্কুল এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য । মাইলের বেশি দূরে যেতে না হয় এবং উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব শিক্ষার্থীর বাসস্থান থেকে 1-3 মাইলের মধ্যে হতে হবে।
* আংশিক শিক্ষার ব্যবস্থা: যেসব শিশু নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে আরও পড়তে চায় অথচ আর্থিক কারণে পড়া সম্ভব নয় তাদের জন্য আংশিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
* সর্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা: মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার দিকে কমিশন বিশেষ দৃষ্টি দিতে বলেছেন। তাদের জন্য সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্পর্কেও অবহিত থাকতে হবে।
* মাতৃভাষা: প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা হবে শিক্ষার মাধ্যম।
* মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা: উচ্চ প্রাথমিক স্তরে মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সুপারিশ করে প্রতিটি ছাত্রের জন্য সর্বাত্মক পরিচয়পত্র রাখার প্রস্তাব করেছেন।
* সমাজসেবা: সমগ্র প্রাথমিক স্তরে সমাজসেবার কর্মসূচি গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীর কর্ম অভিজ্ঞতার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ের শিক্ষা ভবিষ্যত জীবনের বুনিয়াদ তৈরি করে। সরকারের সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ফলে গড়ে উঠেছিল সৃজনশীল সুযোগ্য নাগরিক।
18.কোঠারি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য গুলি আলোচনা করো।
উত্তর -যে শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার পর শুরু হয়ে সুনাগরিকত্ব অর্জনের পথে মানুষের ব্যক্তি জীবনের সার্বিক সহায়তা করে ও সামাজিক গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে মানুষকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ এবং উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উপযোগী করে তোলে তাকে বলে মাধ্যমিক শিক্ষা। সুতরাং প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মধ্যবর্তী শিক্ষাই হল মাধ্যমিক শিক্ষা।
মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
* দৈহিক বিকাশ: বৌদ্ধিক বিকাশ নির্ভর করে দৈহিক বিকাশের উপর। শিক্ষার্থীর দৈহিক বিকাশ সুস্থ জীবনের জন্য একান্ত প্রয়োজন। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হল দৈহিক বিকাশ ঘটানো।
* নৈতিক বিকাশ: সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে নৈতিক মূল্যবোধ একটি বিশেষ গুণ এবং একান্ত প্রয়োজন। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হল নৈতিক বিকাশ।
* প্রাক্ষোভিক বিকাশ: প্রাক্ষোভিক বিকাশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথাযথ হওয়া উচিত। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, উল্লাস এই প্রাক্ষোভগুলি সঠিক বিকাশ না ঘটলে শিক্ষার্থীর জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল প্রাক্ষোভিক বিকাশ।
* শিক্ষা ও উৎপাদন: কোঠারি কমিশনের মতে, দেশের অগ্রগতি নির্ভর করে বিশেষভাবে উৎপাদনের উপর। দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শিক্ষাকে আবশ্যিকভাবে উৎপাদনমুখী করা দরকার।
* শিক্ষা ও জাতীয় সংহতি: দেশের সংহতি বজায় রাখতে হলে সর্বাগ্রে জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ঐক্যবোধ গঠন করা দরকার। এই জন্য কমিশন জাতীয় সংহতি স্থাপনকে শিক্ষার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
* বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকাশ: বৃত্তিমূলক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলে। বৃত্তিই ভবিষ্যত জীবন গড়ে তোলে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হল বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকাশ ঘটানো।
* সুনাগরিক তৈরি: সুনাগরিক শক্তিধর রাষ্ট্র তৈরি করে তাই শিক্ষার লক্ষ্য হল সু-নাগরিক তৈরি করে সুস্থ সবল জাতিগঠন করা।
* নেতৃত্বদানের ক্ষমতা: সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া দেশের অগ্রসর সম্ভব নয়। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হল নেতৃত্ব দানের ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো।
* আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ: আধ্যাত্মিক চেতনাই মানুষকে অসৎকর্ম থেকে বিরত থাকে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ।
* জাতীয়তাবোধের জাগরণ: রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মানুষের জীবন বিষিয়ে তোলে। তাই আজ জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করা ।
      সুতরাং কোঠারি কমিশন মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক দিক গুরুত্ব দিলেও বৌদ্ধিক দিকটি উপেক্ষিত ছিল না। সুনাগরিক, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছেন।
19. বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ করো।[HS. 22]
উত্তর- সাধারণ অর্থে বৃত্তি শিক্ষা হল সেই শিক্ষা যা শিক্ষার্থীকে স্বাবলম্বী করে তোলে এবং শ্রমের প্রতি মর্যাদা দিতে সাহায্য করে। UNESCO 'র মতে বৃত্তি শিক্ষা হল সাধারণধর্মী শিক্ষারই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ যা শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান, বাস্তবধর্মী দক্ষতা, প্রবণতা প্রভৃতি বিষয় দক্ষ করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৃত্তিমূলক ক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
• আবার কারিগরি শিক্ষা' হল এমন শিক্ষা যা সাধারণজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক বিষয়কে কৃষি, কলা, শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে সমর্থ করে।বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এর মাধ্যমে 
শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। বৃত্তিমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীকে বিশেষ কোনো বৃত্তি সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে। আর কারিগরি শিক্ষা ব্যক্তিকে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিককে কাজে লাগাতে শেখায়। এই দুই শিক্ষার সাদৃশ্যমূলক দিকগুলি আলোচনা করার মধ্যে দিয়ে বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরা হল:
* লক্ষ্য: বৃত্তি ও কারিগরি উভয় শিক্ষার লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক পারদর্শিতা অর্জনে সহায়তা করা।
* উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: বৃত্তি ও কারিগরি উভয় শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
*কর্মকেন্দ্রিক: বৃত্তি ও কারিগরি উভয় শিক্ষাব্যবস্থা কর্মকেন্দ্রিকতার নীতির ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। * কর্মসংস্থান: এই উভয় শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
* শ্রদ্ধা ও মর্যাদাবোধ: বৃত্তি ও কারিগরি উভয় শিক্ষার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদাবোধ জাগরিত করার চেষ্টা করা হয়।
* তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান: এই উভয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয়সাধন ঘটে থাকে।
* শিক্ষার্থীর ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনতা: বৃত্তিও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
* ব্যক্তি স্বার্থ ও সামাজিক স্বার্থ: এই দুই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষিত হয়।
* শিক্ষার্থীর চাহিদামূলক: সাধারণ শিক্ষার মতো বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সমস্ত ধরনের চাহিদাপূরণে সমর্থ হয়।
* সর্বজনীনতা: সব ধরনের শিক্ষার্থী এই শিক্ষাব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারে না বলে এই শিক্ষা সর্বজনীন নয় ।
* সৃজনশীলতা: এই ধরনের শিক্ষার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রয়োগ দেখা যায়।
শিক্ষা কতগুলি দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে, যাতে সে তার ভবিষ্যৎ জীবনের রুজিরোজগার সঠিকভাবে করতে পারে। বৃত্তিমুখি ও কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত জীবিকা অর্জনে স্বনির্ভর করে তুলতে সাহায্য করে।
20. প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কোঠারি কমিশনের সুপারিশগুলি আলোচনা করো। [HS. 22] 
উত্তর- মানুষের প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী এবং সংহতি পূর্ণ একটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য 1964 খ্রিস্টাব্দের 14 জুলাই ‘ভারতীয়  শিক্ষা কমিশন' বা কোঠারি কমিশন গঠিত হয়। ড. ডি. এস কোঠারির নেতৃত্ব প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য যে সুপারিশগুলি করেন তা নিম্নরূপ: * সংবিধান বাস্তবায়ন: সংবিধানের নির্দেশ রয়েছে 14 বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ছেলেমেয়ের বাধ্যতা শিক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র করবে।
* অনুন্নয়ন ও অপচয় কমিয়ে আনা: অনুন্নয়ন ও অপচয় এমনভাবে কমিয়ে আনতে হবে যাতে বিদ্যালয়ে যারা ভরতি হল তাদের যেন শতকরা ৪০ জন ছেলেমেয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
* প্রাথমিক স্কুল স্থাপন: নিম্ন প্রাথমিক স্কুল এমনভাবে স্থাপন করা হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য 1 মাইলের বেশি দূরে যেতে না হয় এবং উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব শিক্ষার্থীর বাসস্থান থেকে 1–3 মাইলের মধ্যে হতে হবে।
* আংশিক শিক্ষার ব্যবস্থা: যেসব শিশু নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে আরও পড়তে চায় অথচ আর্থিক কারণে পড়া সম্ভব নয় তাদের জন্য আংশিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
* সর্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা: মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার দিকে কমিশন বিশেষ দৃষ্টি দিতে বলেছেন। তাদের জন্য সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্পর্কেও অবহিত থাকতে হবে।
* মাতৃভাষা: প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা হবে শিক্ষার মাধ্যম।
* মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা: উচ্চ প্রাথমিক স্তরে মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সুপারিশ করে প্রতিটি ছাত্রের জন্য সর্বাত্মক পরিচয়পত্র রাখার প্রস্তাব করেছেন।
* সমাজসেবা: সমগ্র প্রাথমিক স্তরে সমাজসেবা কর্মসূচি গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীর কর্ম অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
   প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ের শিক্ষা ভবিষ্যত জীবনের বুনিয়াদ তৈরি করে। সরকারে সঠিক পরিকল্পনা ও বাক্ষ্ম স্তবায়নের ফলে গড়ে উঠেছিল সৃজনশীল সুযোগ্য নাগরিক ।
21. জানার জন্য শিক্ষা'—বক্তব্যটির অর্থ নিজের ভাষায়
লেখো। 
অথবা, 'জানার জন্য শিক্ষা'—বক্তব্যটির অর্থ নিজের ভাষায় লেখো।[HS 12, 10, 207]

উত্তর - জানার জন্য শিক্ষা : জানার জন্য শিক্ষা বলতে সেই শিখন প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যা শিক্ষার্থীকে বিশ্বজগতের নানান বস্তু সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে ও ব্যাবহারিক জীবনে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ ঘটায়।
1972 সালে The World Education Today & Tomorrow -তে শিক্ষার চারটি মূল উদ্দেশ্য নিরূপণ করা হয়। যার প্রথমটি হল ‘জানার জন্য শিক্ষা’। ডেলরের মতে, ব্যাবহারিক জ্ঞান শিক্ষার্থীকে পরবর্তীকালে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তিতে পরিণত করবে।
    জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। শিক্ষার্থী জড়প্রকৃতি, মনুষ্যপ্রকৃতি, তার ইতিহাস ও পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্যসংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া জ্ঞানার্জনের মতো একটি নিরন্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তির স্মৃতি, কল্পনা, বিচারবুদ্ধি, সমস্যাসমাধানের ক্ষমতার বিকাশ হবে।
1.দার্শনিক মতামত :
(i) ডিউই-এর মতে, জ্ঞান হল বস্তুরঅভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি। (ii) স্বামী বিবেকানন্দের মতে, মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন হল শিক্ষা ৷
2.উপাদান একাগ্রতা, স্মৃতি ও চিন্তন এর উপাদান।
3. বৈশিষ্ট্য : (i) কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা, (II) তথ্যের উপযুক্ত ব্যবহার করা, (iii) সংগতিবিধানে সাহায্য করা ইত্যাদি।