একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪ - শিক্ষার ধারনা এবং লক্ষ্য (প্রথম অধ্যায়)
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1.HRD- এর সম্পূর্ণ নাম লেখো ।
Answer: HRD- এর সম্পূর্ণ নাম- Human Resource Development .
2.সংকীর্ণ ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার অর্থ কী ?
Answer: সংকীর্ণ ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার অর্থ হলো কিছু জ্ঞান ও কৌশল আয়ত্ত করা ।
3.জ্ঞান বলতে কী বোঝায় ?
Answer: জ্ঞান বলতে পঠন , শিখন ও গণিত সম্পর্কে জ্ঞানকে বোঝায় ।
4.কণাদ – এর মতে শিক্ষা কী ?
Answer: কণাদ – এর মতে , শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যক্তির বা শিক্ষার্থীর আত্মতৃপ্তির বিকাশ ঘটায় ৷
5.শিক্ষাশ্রয়ী ভাববাদী দার্শনিকদের মতে শিক্ষা কী ?
Answer: শিক্ষাশ্রয়ী ভাববাদী দার্শনিকদের মতে শিক্ষা হলো নিজেকে সঠিকভাবে জানা বা আত্মোপলব্ধি করা ।
6.NCERT- এর পুরো কথাটি কী ?
Answer: NCERT- এর পুরো নাম হলো ‘ National Council of Educational Research and Training’.
7.“ শিক্ষা হলো জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ” —এটি কী ধরনের শিক্ষার সংজ্ঞা ?
Answer: এটি সংকীর্ণ শিক্ষার সংজ্ঞা ।
8.গোল্ড স্যাক ( Gold Sack Theory ) বলতে কী বোঝো ?
Answer: সাধারণভাবে পুস্তক বা শিক্ষক – শিক্ষিকা হলেন জ্ঞানের ভাণ্ডার । সেই ভাঙার থেকে স্বর্ণরূপ জ্ঞান শিক্ষার্থীর শূন্যমনে সঞ্চারিত করাই হলো শিক্ষার কাজ । একেই বলে গোল্ড স্যাক তত্ত্ব ।
9.শিক্ষার নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন কেন ?
Answer: শিক্ষার নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন । কারণ এর দ্বারা শিক্ষার্থীর কর্মসম্পাদনের ইচ্ছা জাগ্রত করা , তার পথনির্দেশ করা এবং সুষ্ঠুভাবে কর্মসম্পাদনে সাহায্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সাফল্যের পরিমাপ করা সম্ভব ।
10.সংগতিবিধান বলতে কী বোঝো ?
Answer: পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া বা খাপ খাইয়ে নেওয়াকে বলে সংগতিবিধান ।
11.“ সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে ” —কথাটির অর্থ কী ?
Answer: “ সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে ” কথাটির অর্থ হলো যা মানুষকে মুক্তিলাভে সহায়তা করে , তা – ই হলো শিক্ষা ।
12.” শিক্ষা একটি প্রক্রিয়া ‘ — এই কথার অর্থ কী ?
Answer: এই কথার অর্থ হলো শিক্ষার এক প্রান্তে আছেন শিক্ষক এবং অন্য প্রান্তে আছেন শিক্ষার্থী । উভয়ের জ্ঞানের স্বতঃস্ফূর্ত দেওয়া – নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা সার্থক হয়ে ওঠে । শিক্ষক তার জ্ঞান , ব্যক্তিত্ব , আদর্শ প্রভৃতির দ্বারা শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করেন ।
13.জাতীয় বিকাশে সহায়ক শিক্ষার একটি লক্ষ্য উল্লেখ করো ।
Answer: জাতীয় বিকাশে সহায়ক শিক্ষার লক্ষ্য হলো — অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক ঐক্য স্থাপন ।
14.জীবনব্যাপী শিক্ষার লক্ষ্য কী ?
Answer: জীবনব্যাপী শিক্ষার লক্ষ্য হলো ধারাবাহিকভাবে জ্ঞানার্জন , জ্ঞান , দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্নবীকরণ । প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত কিংবা অল্পবয়সে পাঠত্যাগ করা , শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাও এই শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
15.দৈহিক বিকাশ বলতে কী বোঝায় ?
Answer: দৈহিক বিকাশ বলতে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ , পেশি , অস্থি প্রভৃতির বিকাশকে বোঝায় ।
16.পেস্তালৎসির মতে শিক্ষা কী ?
Answer: পেস্তালৎসি মতে শিক্ষা হলো মানুষের সহজাত ক্ষমতাগুলির স্বাভাবিক সুসামঞ্জস্যর পূর্ণ ক্রমোন্নয়নমূলক বিকাশ ।
17.কারা সমাজকে একটি কলুষিত প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন ?
Answer: প্রকৃতিবাদীরা সমাজকে একটি কলুষিত প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন ।
18.অ্যারিস্টটলের মতে শিক্ষা কী ?
Answer: অ্যারিস্টটলের মতে , একটি সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হলো শিক্ষা ।
19.কয়েক জন পাশ্চাত্যবাদী শিক্ষাবিদের নাম লেখো ।
Answer: কয়েক জন পাশ্চাত্যবাদী শিক্ষাবিদের নাম – ডিউই , রুশো , ফ্রয়েবেল এবং প্লেটো ।
20.ব্যাপক অর্থে শিক্ষার লক্ষ্য কী ?
Answer: ব্যাপক অর্থে শিক্ষার লক্ষ্য শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশসাধন ।
21.‘ আত্মানাং বিদ্ধি ‘ কথাটির অর্থ কী ?
Answer: ‘ আত্মানাং বিদ্ধি ’ কথাটির অর্থ হলো নিজেকে জানার মধ্যে দিয়ে পরমসত্তাকে উপলব্ধি করা ।
22.মোক্ষ বলতে কী বোঝো ?
Answer: মোক্ষ কথার অর্থ হলো মুক্তি । শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে উপনিষদে বলা হয়েছে , শিক্ষা হলো এমন এক কৌশল যার শেষ পরিণতি হলো মোক্ষ বা মুক্তিলাভ । আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে এই মুক্তিলাভ সম্ভব।
MCQ প্রশ্নোত্তর
1.“ শিক্ষা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ । ” একথা বলেছেন – (A) ডিউই (B) বিবেকানন্দ(C) রবীন্দ্রনাথ(D) গান্ধিজি
Answer: (B) বিবেকানন্দ
2.“ শিক্ষা হলো ভাজ হয়ে থাকা বিষয়ের ভাজ খোলার প্রক্রিয়া ” – কে বলেছেন ? (A) ফ্রয়েবেল(B) মন্টেস্কু (C) প্লেটো(D) নান
Answer: (A) ফ্রয়েবেল
3.“ শিশু এবং ব্যক্তির দেহ , মন ও আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশের প্রচেষ্টা হলো শিক্ষা । ” উক্তিটি করেছেন— (A) ডিউই (B) গান্ধিজি (C) বিবেকানন্দ (D) প্লেটো
Answer: (C) বিবেকানন্দ
4.“ আত্মোপলব্ধিই হলো শিক্ষা , এই আত্মোপলব্ধি আসে জ্ঞান , ভক্তি ও কর্মের দ্বারা । ” এটি – (A) বস্তুবাদী দর্শনের বক্তব্য (B) প্রয়োগবাদী দর্শনের বক্তব্য (C) ভাববাদী দর্শনের বক্তব্য (D) প্রকৃতিবাদী দর্শনের বক্তব্য
Answer: (C) ভাববাদী দর্শনের বক্তব্য
5.বৈদিক শিক্ষার চারটি পর্বকে বলে -(A) চতুর্বেদ (B) চতুপূর্ব (C) চতুরাশ্রম (D) চারপর্ব
Answer: (C) চতুরাশ্রম
6.“ শিক্ষার্থীর দেহ , মন , আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশ হলো শিক্ষা । ” – এই কথাটি বলেছেন (A) মহাত্মা গান্ধি (B) স্বামী বিবেকানন্দ (C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(D) রাজা রামমোহন
Answer: (A) মহাত্মা গান্ধি
7.GNP- এর সম্পূর্ণ নামটি হলো – (A) জেনারেল ন্যাশনাল প্রোডাক্ট (B) গ্রস ন্যাশনাল প্রোগ্রাম (C) জেনারেল ন্যাশনাল প্রোগ্রাম (D) গ্রস ন্যাশনাল প্রোডাক্ট
Answer: (D) গ্রস ন্যাশনাল প্রোডাক্ট
8.সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসাবে যেটিকে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় , সেটি হলো -(A) হিন্দুমন্দির(B) পরিবার (C) বৌদ্ধমঠ(D) বিদ্যালয়
Answer: (D) বিদ্যালয়
9.বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের ও শৃঙ্খলাবিধানের লক্ষ্য হলো– (A) চরিত্রগঠন (B) দেহগঠন (C) অর্থউপার্জন (D) সমাজগঠন
Answer: (A) চরিত্রগঠন
10.‘ Education ‘ শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে ? (A) ফরাসি (B) ইংরেজি (C) লাতিন(D) গ্রিক
Answer: (C) লাতিন
11.লাতিন শব্দ ‘ Educere’- এর অর্থ হলো – (A) শিক্ষণ কম (B) শৃঙ্খলাবদ্ধ করা (C) লালনপালন করা (D) বাইরে নিয়ে আসা বা নিষ্কাশন করা
Answer: (D) বাইরে নিয়ে আসা বা নিষ্কাশন করা
12.ডিউই – এর মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো – (A) দৈহিক বিকাশ (B) সামাজিক বিকাশ (C) আধ্যাত্মিক বিকাশ(D) নৈতিক বিকাশ
Answer: (B) সামাজিক বিকাশ
13.শিক্ষা একটি দ্বিমেরুবিশিষ্ট প্রক্রিয়া যার এক দিকে রয়েছেন শিক্ষক এবং অপর দিকে রয়েছে – (A) শিক্ষার্থী (B) পাঠক্রম (C) শিক্ষিকা(D) বিদ্যালয়
Answer: (A) শিক্ষার্থী
14.নীচের কোনটি ব্যাপক অর্থে শিক্ষার বৈশিষ্ট্য নয় ? (A) শিক্ষা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া (B) শিক্ষা একটি জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়া (C) শিক্ষা হলো একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া (D) শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া
Answer: (C) শিক্ষা হলো একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া
15.সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা হলো – (A) সংগতিবিধান (B) জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া (C) অভিজ্ঞতার পুনর্গঠন ও পুনঃসৃজন (D) জ্ঞানার্জন
Answer: (D) জ্ঞানার্জন
16.বিবেকানন্দের মতে শিক্ষা হলো -(A) মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথ (B) মানুষের মনে আনন্দ জাগ্রত করা (C) মানুষের অন্তর্নিহিত শিক্ষা (D) মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশ –
Answer: (C) মানুষের অন্তর্নিহিত শিক্ষা
17.“ শিক্ষা একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া ” – উক্তিটি কার ? (A) রবীন্দ্রনাথ(B) অ্যাডামস (C) রুশো (D) ডিউই ?
Answer: (B) অ্যাডামস
18.‘ Educatum ‘ শব্দটির অর্থ হলো – (A) শিক্ষাদান করা (B) লালনপালন করা (C) পরিচর্যা করা (D) নির্দেশনা দান
Answer: (A) শিক্ষাদান করা
19.“ ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে ” – কোথায় বলা হয়েছে ? (A) উপনিষদে(B) গীতায় (C) ঋগ্বেদে (D) অর্থববেদে
Answer: (B) গীতায়
20.“ শিক্ষা হলো সুস্থ দেহে সুস্থ মনের সৃষ্টি । ” কে বলেছেন ? (A) ফ্রয়েবেল (B) নান(C) প্লেটো(D) অ্যারিস্টটল
Answer: (D) অ্যারিস্টটল
21.আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হলো– (A) বিদ্যালয়কেন্দ্রিক (B) পাঠ্যক্রমকেন্দ্রিক (C) শিশুকেন্দ্রিক (D) শিক্ষককেন্দ্রিক
Answer: (C) শিশুকেন্দ্রিক
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির প্রকারভেদ আলোচনা করো ।
Answer: সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির প্রকারভেদ নীচে আলোচনা করা হলো—
সামাজিক বিকাশমূলক কার্যাবলি : ছাত্র – ছাত্রীরা সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করলে তাদের মধ্যে যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক গুণের বিকাশ ঘটে , তাকে সামাজিক বিকাশমূলক কার্যাবলি বলে । উদাহরণ হিসাবে বলা যায় স্বাস্থ্য সপ্তাহ পালন , গ্রামের উন্নয়নের কাজ , বিদ্যালয়ের সংসদ গঠন প্রভৃতি ।
কৃষ্টিমূলক কার্যাবলি : বিদ্যালয়ের ছাত্র – ছাত্রীদের যে সকল কাজের মাধ্যমে কৃষ্টির বিকাশ ঘটে , সে কার্যাবলিকে কৃষ্টিমূলক কার্যাবলি বলে । যেমন— বিদ্যালয়ে বিভিন্ন মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা , স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা , বিজ্ঞান , ভূগোল , ইতিহাসের প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি ।
স্বায়ত্তশাসনমূলক কার্যাবলি : ছাত্র – ছাত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসকল অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজেরাই আয়োজন ও পরিচালনা করে সেগুলিকে স্বায়ত্তশাসনমূলক কার্যাবলি : বলে । যেমন— হোস্টেল পরিচালনা করা ।
শরীরচর্চামূলক কার্যাবলি : যেসকল কাজের মধ্যে দিয়ে ছাত্র – ছাত্রীদের শরীরচর্চার সাথে সাথে তাদের বিভিন্ন অঙ্গ – প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন ঘটে সেইসকল কাজকে শরীরচর্চামূলক কাজ বলে । যেমন— প্যারেড , যোগাসন , বিভিন্ন রকম খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে শরীরচর্চার সাথে সাথে তা মানুষের কর্মদক্ষতা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হয় ।
শিক্ষামূলক কার্যাবলি : পরিকল্পিতভাবে যেসকল কাজের মাধ্যমে শিক্ষার বিভিন্ন লক্ষ্যপূরণ সেগুলিকে শিক্ষামূলক কার্যাবলি বলা হয় । যেমন— বিতর্কসভা , শিক্ষাক্ষেত্রে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রভৃতি ।
সহযোগিতামূলক কার্যাবলি : যেসকল কর্মসূচি রূপায়ণের মাধ্যমে ছাত্র – ছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয় , সেগুলিকে সহযোগিতামূলক কার্যাবলি বলে । যেমন— ছাত্র – ছাত্রীদের বিভিন্ন সেবামূলক কাজ , ব্রতচারী প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ ।
আত্মপ্রকাশমূলক কার্যাবলি : যেসকল কাজ করলে ছাত্র – ছাত্রীদের মধ্যে আত্মপ্রকাশমূলক জ্ঞানের সঞ্চার ঘটে সেগুলিকে আত্মপ্রকাশমূলক কার্যাবলি বলে । উদাহরণ হিসাবে বলা যায় বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণে অংশ্র গ্রহণ করা , বিদ্যালয়ে পত্রিকা প্রকাশ করা প্রভৃতি ।
প্রাক্ষোভিক বিকাশমূলক কার্যাবলি : অভিনয় , নৃত্য পরিবেশন , সংগীত পরিবেশন সহ যেসকল কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায় , সেগুলিকে প্রাক্ষোভিক কার্যাবলি বলা হয়।
অবসর জীবনযাপনমূলক কার্যাবলি : শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেসকল কর্মসূচি অবসর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে , তাদেরকে অবসর জীবনযাপনমূলক কার্যাবলি বলা হয় ।
সৃজনাত্মক কার্যাবলি : যেসকল কাজ করলে ছাত্র – ছাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টিশীল বা সৃজনশীল ক্ষমতার বিকাশ ঘটে , তাকে সৃজনাত্মক কার্যাবলি বলে । যেমন— আবৃত্তি , অভিনয় , বক্তৃতা , গানবাজনা প্রভৃতি ।
2.শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যগুলি আলোচনা করো ।
Answer: সমাজতন্ত্রবাদী শিক্ষার সমর্থক জন ডিউই , হেগেল , গান্ধিজি , হবস এবং হার্বার্ট স্পেনসার প্রমুখ মনে করেন প্রথমে সমাজ , তারপর ব্যক্তি । সমাজ ছাড়া কখনোই ব্যক্তির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না । ব্যক্তির জন্ম – মৃত্যু , আশা – আকাঙ্ক্ষা , কাজকর্ম , নীতিবোধ সবকিছুই সমাজের মধ্যে সংগঠিত হয় । এছাড়া সকল মানুষকেই সামাজিক রীতিনীতি , আচার – অনুষ্ঠান , নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় । তাই শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি নয় , সম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় । সমাজকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে শিক্ষার যে লক্ষ্যটির উদ্ভব ঘটে তা হলো সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য । শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য ।
প্রথমত , শিক্ষার অন্যতম সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য হলো যেকোনো ব্যক্তিকে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে তোলা , যাতে একজন মানুষ একজন সভ্য নাগরিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে পারে ।
দ্বিতীয়ত , সমাজতান্ত্রিক ক্ষেত্রে শিক্ষার অপর একটি লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশু যাতে সমাজের অন্য সদস্যদের সাথে পারস্পরিক ভাব বিনিময় ও ক্রিয়া – প্রক্রিয়া করতে পারে সেইভাবে শিশুটিকে তৈরি করা ।
তৃতীয়ত , সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে সমাজমুখী করে তোলা অর্থাৎ বিদ্যালয়গুলি হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান , যা সামাজিক চাহিদা মেটানোর জন্যে অনেকাংশে কাজ করে ।
চতুর্থত , সমাজতান্ত্রিক শিক্ষায় ব্যক্তির আশা – আকাঙ্ক্ষা , শিক্ষা – সংস্কৃতি , নীতিবোধ ইত্যাদি সমাজের সংস্পর্শে গড়ে ওঠে ।
পঞ্চমত , ব্যক্তির সার্বিক সত্তা সমাজের উপর নির্ভরশীল । তাই ব্যক্তি সমাজের জন্য , সমাজ ব্যক্তির জন্য নয় । আর এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিক্ষার সমাজতান্ত্রিক ল ।
ষষ্ঠত , জন ডিউই মনে করেন , মানবজাতির সামাজিক চেতনায় ব্যক্তির প্রচ্ছন্ন অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষালাভ ঘটে । আসলে যেকোনো ব্যক্তিজীবনকে পরিস্ফুট করতে গেলে প্রথমে সমাজজীবনকে পরিস্ফুট করা উচিত ।
সপ্তমত , দার্শনিক রেমন্ড , রস এবং হেগেল প্রমুখ মনে করেন শিক্ষা শুধু ব্যক্তির বিকাশ ঘটায় না , সমাজেরও বিকাশ ঘটায় ।
অষ্টমত , সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং কল্যাণমূলক কাজে নিয়োগ করার দিকে লক্ষ রাখা ।
নবমত , অগস্ট কোথ – এর মতে , সমাজের অতীত গৌরবান্বিত অধ্যায়গুলি ধরে রাখা এবং তা ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হলো সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য ।
দশমত , সমাজতান্ত্রিক শিক্ষায় সমাজকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমস্ত সমাজতান্ত্রিক কৌশল আয়ত্ত করা হয় । এই কৌশলগুলি আবার সামাজিক সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে । উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে শিক্ষার মাধ্যম আলাদা আলাদা হলেও শিক্ষার দ্বারা সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যকে পূরণ করা সম্ভব । আসলে যেকোনো মানুষের | ব্যক্তিগত গুণাবলির বিকাশ ঘটে সমাজের সংস্পর্শে এসে । তাই বলা যায় , শিক্ষার লক্ষ্য | ব্যক্তিস্বার্থ পূরণ করা নয় , শিক্ষার লক্ষ্য হলো সমাজের লক্ষ্যপূরণ ।