একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪ - বৃদ্ধি ও বিকাশের স্তরভেদ (চতুর্থ অধ্যায়)
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1.কে শিশুকে খেলার ছলে শিক্ষার কথা বলেছেন ?
Answer: ক্যান্ডওয়েল কুক শিশুকে খেলার ছলে শিক্ষার কথা বলেছেন ।
2.কে মুদালিয়র কমিশনের সভাপতি ছিলেন ?
Answer: মুদালিয়র কমিশনের সভাপতি ছিলেন ড . লক্ষ্মণস্বামী মুদালিয়র ।
3.মন্তেসরি পদ্ধতিতে ‘ পরিচালিকা ‘ কারা ? Answer: মন্তেসরি পদ্ধতিতে ‘ পরিচালিকা ’ হলেন শিক্ষিকারা ।
প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম কী ?
Answer: প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম হলো পিটিটিআই ।
4.কখন ও কত বছর বয়সে শিশুর বৃদ্ধি খুব দ্রুতগতিতে হয় ?
Answer: জন্ম থেকে 3 বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর বৃদ্ধি খুব দ্রুত গতিতে হয় ।
5.কোথায় শিশুর প্রথম জ্ঞানমূলক বিকাশ ঘটে ?
Answer: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর প্রথম জ্ঞানমূলক বিকাশ ঘটে ।
6.দৈহিক কার্যাবলি কোনগুলি ?
Answer: দৈহিক কার্যাবলি হলো খেলাধুলো , ব্যায়াম ।
7.কত মাস বয়সে শিশু হামাগুড়ি দিতে পারে ?
Answer: ৪ মাস বয়সে শিশু হামাগুড়ি দিতে পারে ।
8.প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান দু’টি স্তর কী কী ? Answer: প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান দু’টি স্তর হলো- ( i ) নিম্ন প্রাথমিক শিক্ষাস্তর ( প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ) ( ii ) উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষাস্তর ( পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ) ।
9.কোঠারি কমিশনে প্রাথমিক শিক্ষার যে পাঠ্যক্রমের কথা বলা হয়েছে , তার মূল ভাগগুলি কী ?
Answer: কোঠারি কমিশনে প্রাথমিক শিক্ষার যে পাঠ্যক্রমের কথা বলা হয়েছে , সেগুলি হলো– ( i ) খেলাধুলা ও শারীরচর্চামূলক কার্যাবলি , ( ii ) উৎপাদনমূলক ও সৃজনমূলক কার্যাবলি ও ( iii ) প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যাবলি এবং পঠনপাঠননির্ভর কার্যাবলি ।
10.UNICEF- এর সম্পূর্ণ নাম কী ?
Answer: UNICEF- এর সম্পূর্ণ নাম হলো United Nations International Children’s Emergency Fund .
11.সুষম বিকাশ বলতে কী বোঝো ?
Answer: ব্যক্তিজীবনের সকল সম্ভাবনার পরিমাণগত ও গুণগত বিকাশ ঘটিয়ে পরিপূর্ণ জীবনের অধিকারী করে তোলাই হলো সুষম বিকাশ ।
12.বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে একটি পার্থক্য উল্লেখ করো ।
Answer: বৃদ্ধি পরিমাণগত ও পরিমাপযোগ্য কিন্তু বিকাশ গুণগত ও পর্যবেক্ষণসাপেক্ষ ।
13.কোন সময়কালকে মধ্য বাল্যকাল বলা হয় ?
Answer: শিশুর জীবনবিকাশের দ্বিতীয় পর্যায়কে অর্থাৎ পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সকালকে মধ্য বাল্যকাল বলা হয় ।
14.বিকাশ বলতে কী বোঝো ?
Answer: বিকাশ হলো মানুষের আচরণের গুণগত পরিবর্তন । পরিণমন এবং অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি হিসেবে ব্যক্তির মধ্যে যে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে তা – ই হলো বিকাশ ।
15.মাধ্যমিক শিক্ষা কীভাবে কৈশোরের চাহিদা পরিতৃপ্ত করে , তার একটি উদাহরণ দাও ।
Answer: মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মহাপুরুষদের জীবনীপাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনাদর্শ গঠনেরও চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হয় । মাধ্যমিক পাঠক্রমে বিভিন্ন ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে মনীষীদের জীবনীপাঠের ব্যবস্থা থাকে ।
16.ডাইজ্যাকটিক অ্যাপারেটাস কী ?
Answer: মাদাম মন্তেসরি প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় যে যান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয় , তা ডাইজ্যাকটিক অ্যাপারেটাস নামে পরিচিত ।
17.বৌদ্ধিক বিকাশ বলতে কী বোঝো ?
Answer: বৌদ্ধিক বিকাশ বলতে ব্যক্তির বা শিক্ষার্থীর সেই জাতীয় বিকাশকে বোঝানো হয় , যার সাহায্যে সে তার জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য বা ক্ষমতা অর্জন করে ।
18.কৈশোরের দু’টি সামাজিক চাহিদার উল্লেখ করো ।
Answer: কৈশোরের দু’টি সামাজিক চাহিদা হলো- ( i ) সমাজসেবাসেমূলক কাজের চাহিদা , ( ii ) সামাজিক স্বীকৃতির চাহিদা । ( কৈশোরকালের একটি মনোবৈজ্ঞানিক চাহিদা উল্লেখ করো । উত্তর কৈশোরকালের একটি মনোবৈজ্ঞানিক চাহিদা হলো আত্মপ্রকাশের চাহিদা ।
19.শৈশবের একটি বিকাশমূলক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।
Answer: শৈশবের একটি বিকাশমূলক বৈশিষ্ট্য হলো এইসময় শিশুদের দেহের বিকাশ খুব দ্রুত ঘটে । এইসময় দেহের পাশাপাশি শিশুর বিভিন্ন ধরনের মানসিক পরিবর্তনও ঘটে ।
20.কোনটি নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার দ্বিতীয় স্তর ?
Answer: প্রাথমিক শিক্ষাস্তর নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার দ্বিতীয় স্তর ।
21.বুনিয়াদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয় ?
Answer: বুনিয়াদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুবন্ধ পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয় ?
22.কত বছর বয়সের পর শৈশবে প্রাক্ষোভিক বিকাশ ঘটে ?
Answer: 4 বছর বয়সের পরে শৈশবে প্রাক্ষোভিক বিকাশ ঘটে ।
23.প্রাকৃজন্মস্তর কী ?
Answer: প্রাকৃজন্মস্তর হলো— ভ্রুণ স্যার থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে পর্যন্ত ।
MCQ প্রশ্নোত্তর
1.বৃদ্ধির সমাপ্তি – (A) ধারণায়(B) পরিণমনে(C) মনোযোগে (D) আগ্রহে
Answer: (B) পরিণমনে
2.বিকাশ হলো একপ্রকার -(A) জটিল প্রক্রিয়া (B) নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া (C) অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া (D) সামস্যবিধানের প্রক্রিয়া
Answer:
3.শৈশবকাল হলো– (A) 3-8 বছর পর্যন্ত (B) 1-5 বছর পর্যন্ত (C) 6-12 বছর পর্যন্ত (D) 5-10 বছর পর্যন্ত
Answer: (B) 1-5 বছর পর্যন্ত
4.ইলেকট্রা কমপ্লেক্স হলো – (A) মায়ের প্রতি ছেলেদের আকর্ষণ (B) বাবার প্রতি ছেলেদের আকর্ষণ (C) বাবার প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ (D) মায়ের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ
Answer: (C) বাবার প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ
5.নার্সারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় – (A) 1909 খ্রিস্টাব্দে (B) 1937 খ্রিস্টাব্দে (C) 1907 খ্রিস্টাব্দে (D) 1837 খ্রিস্টাব্দে
Answer: (A) 1909 খ্রিস্টাব্দে
6.প্রথম নার্সারি বিদ্যালয় স্থাপন করেন – (A) ডিউই (B) ফ্রয়েবেল(C) মস্তেসরি (D) মার্গারেট ম্যাকমিলান র্যাচেল ম্যাকমিলান
Answer: (D) মার্গারেট ম্যাকমিলান র্যাচেল ম্যাকমিলান
7.ICDS- এর অর্থ হলো— (A) Intergrated Child Develop Scheme (B) Intergrated Children Development Scheme (C) Integrated Child Development Scheme (D) Intergrated Child Development School
Answer: (C) Integrated Child Development Scheme
8.বৃদ্ধি একপ্রকার _____ প্রক্রিয়া । (A) বৌদ্ধিক (B) সামাজিক (C) রাজনৈতিক (D) জৈবিক
Answer: (D) জৈবিক
9.জীবনবিকাশের যে স্তরটি ‘ ঝড়ঝঞ্ঝার কাল ’ বলা হয় । তা হলো(A) কৈশোর (B) শৈশব(C) প্রাপ্তবয়স্ক(D) বাল্য
Answer: (A) কৈশোর
10.ব্যক্তির বিকাশের প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হতে থাকে – (A) মধ্যবয়স পর্যন্ত (B) সারাজীবনব্যাপী (C) বয়ঃপ্রাপ্তিকাল পর্যন্ত (D) কৈশোরকালের সমাপ্তি পর্যন্ত
Answer: (B) সারাজীবনব্যাপী
11.মনোবিদ ‘ Pikunuss ‘ জীবনবিকাশের স্তরকে কয়টি ভাগে ভাগ করেছেন ? (A) সাতটি (B) নয়টি (C) দশটি (D) আটটি
Answer: (C) দশটি
12.ঘুমের চাহিদা হলো একপ্রকার – (A) শারীরিক চাহিদা (B) প্রাক্ষোভিক চাহিদা (C) মানসিক চাহিদা(D) সামাজিক চাহিদা
Answer: (A) শারীরিক চাহিদা
13.জীবনবিকাশের শৈশব স্তরে অন্তর্ভুক্ত একটি শিশুর বয়স হলো – (A) 8 বছর (B) 6 বছর (C) 3 বছর (D) 11 বছর
Answer: (C) 3 বছর
14.বৃদ্ধি কীরূপ প্রক্রিয়া ? (A) বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া(B) নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া (C) সীমিত সময়ের প্রক্রিয়া(D) জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া
Answer: (C) সীমিত সময়ের প্রক্রিয়া
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1.বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো । বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে তা বিশ্লেষণ করো ।
Answer: সূচনা : একটি মানবশিশু জন্মগ্রহণ করার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্রক্রিয়া হলো বৃদ্ধি এবং বিকাশ । বৃদ্ধি বলতে বোঝায় জীবদেহের আকার , উচ্চতা , ওজন ও আয়তনের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তনকে । অন্যদিকে বিকাশ বলতে বোঝায় অভিজ্ঞতার ফল হিসেবে ব্যক্তির মধ্যে যে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে তাকে ।
বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য :
স্থানবিশেষে : বৃদ্ধির স্থান বা ক্ষেত্র স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট বোঝা যায় , যেমন — পায়ের বিভিন্ন ব্যায়াম করলে পেশির যথাযথ বৃদ্ধি হয় । অন্যদিকে বিকাশের স্থান বা ক্ষেত্র নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নয় । কারণ বিকাশ একটি মানসিক ব্যাপার । মানুষের বিকাশের প্রতিফলন সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে লক্ষ করা যায় ।
সময়কালের ক্ষেত্রে : মানুষের বৃদ্ধি কখনোই সারাজীবন ধরে চলে না । এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে চলতে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় । অন্যদিকে বিকাশ পর্যন্ত চলতে থাকে কারণ বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া , যা সারাজীবন চলতে থাকে ।
পরিমাপের প্রকৃতির ক্ষেত্রে : পরিমাপের প্রকৃতির ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকে আধুনিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে নীতিগতভাবে পরিমাপ করা যায় । অন্যদিকে বিকাশ পরিমাপ করা যায় পরোক্ষভাবে বা ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ।
পরিবর্তনের প্রকৃতি : এবং সীমা বৃদ্ধি শুধুমাত্র দেহ বা শরীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে । অন্যদিকে বিকাশের ক্ষেত্রে দেহ , মন ও সামাজিক অবস্থা সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে ৷ বৃদ্ধি হলো পরিমাণগত পরিবর্তন কিন্তু বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন ।
পরিমাপের ক্ষেত্রে : বৃদ্ধি হলো একটি পরিমাপযোগ্য বিষয় কিন্তু বিকাশ পরিমাপ যোগ্য নয় , তবে বিকাশ একটি পর্যবেক্ষণসাপেক্ষ বিষয় ।
বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক : পরনির্ভরশীল , অপরিণত ও অসহায় এক ক্ষুদ্র সত্তা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে । তারপর বৃদ্ধি – বিকাশ ও পরিণমন প্রক্রিয়ার দ্বারা সে পরিণত অবস্থার দিকে এগিয়ে চলে । শুধুমাত্র শিশুর দৈহিক ওজন ও উচ্চতাই জীবনবিকাশের ধারাকে অবিচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় । তাই বিভিন্ন বিকাশের মধ্যে দিয়ে শিশুর জীবনবিকাশের ধারা এগিয়ে যায় এবং তাকে পূর্ণতা দান করে ।
শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধি ও বিকাশের ধারণাকে ব্যাপক অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে । আসলে এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একটি নির্ভরশীল প্রক্রিয়া । বিকাশ এবং শিক্ষা একটি আরেকটির সঙ্গে অভিন্ন । শিক্ষাই বিকাশ এবং বিকাশই শিক্ষা । তবে মানবজীবনে বৃদ্ধি ও বিকাশ ছাড়া শিশুর পক্ষে কোনো পরিবেশের সঙ্গে সংহতিবিধান সম্ভব হয় না । বৃদ্ধি বলতে দৈহিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের গুণগত পরিবর্তনকে বোঝায় । আমরা জানি , মানসিক বিকাশ দৈহিক বিকাশের পাশাপাশি ঘটে থাকে । বৃদ্ধি শব্দটিকে দৈহিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও বিকাশ দৈহিক , সামাজিক ও বৌদ্ধিক ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায় ।
2.বৃদ্ধি কাকে বলে ? বৃদ্ধির ধারণা ব্যক্ত করো । বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো ।
অথবা , বৃদ্ধি কাকে বলে ? বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ।
Answer: বৃদ্ধির সংজ্ঞা : একটি মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর থেকেই ধীরে ধীরে তার দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে , যা একটি সময় পর্যন্ত চলতে থাকে । মানবদেহের ওজন , আয়তন , উচ্চতা এবং আকারের ক্ষেত্রে এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং স্থায়ী পরিবর্তনকেই বলা হয় বৃদ্ধি বৃদ্ধি প্রতিটি শিশুর গঠনগত একটি প্রক্রিয়া । বৃদ্ধির ফলেই মানুষের স্থায়িত্বপূর্ণ এবং পরিমাপগত পরিবর্তন সাধিত হয় ।
বৃদ্ধির ধারণা : একটি মানুষ শিশু অবস্থা থেকেই ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে কারণ শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি যথাযথভাবে সংগঠিত হলে সে দৌড়াতে সক্ষম হয় । বৃদ্ধি হলো এমন একটি সহজাত প্রক্রিয়া যেকোনো শিশুর পঞ্চইন্দ্রিয়ের কার্যকারিতার উন্নতিতে সাহায্য করে । মনোবিদ পেজ এবং থমাস বলেছেন , “ মানুষের দৈহিক কাঠামো এবং আকৃতির স্বাভাবিক পরিবর্তন হলো বৃদ্ধি । ” বুদ্ধি অভীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে , বয়সের সাথে সাথে মানুষের বুদ্ধির যে বৃদ্ধি ঘটে তার দ্বারাই মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সময়ের সাথে সাথে পারদর্শি হয়ে ওঠে ।
বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য :
বৃদ্ধির হার – এর বিভিন্নতা : বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের বৃদ্ধির হার বিভিন্ন রকমভাবে পরিবর্তন হয় । অধ্যাপক এইচ . ভি . মেরেডিথ বৃদ্ধির হার প্রসঙ্গে গবেষণা করে বলেছেন , যেকোনো শিশুর জন্ম থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত দেহ ও মস্তিষ্কের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে । আবার দুই থেকে এগারো বছর বয়সে বেশিরভাগ শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও চেহারা শীর্ণ হয় । আবার এগারো থেকে আঠারো বছর বয়সে শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক স্তরে শিশুর বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হয় ।
বৃদ্ধি ও দক্ষতা : একটি মানুষের বৃদ্ধি যখন পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় তখন সে বিভিন্ন কর্মে দক্ষতা অর্জনের ক্ষমতা ভোগ করে । উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে কোনো ছেলে যদি সঞ্চালনমূলক কাজে দক্ষ হয় তখন তার পেছনে বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকে ।
বৃদ্ধি হলো একক প্রক্রিয়া : বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের যে উন্নতি ঘটে তা কখনোই আলাদা আলাদাভাবে ঘটে না । যেমন — বলা যেতে পারে , কোনো শিশুর ওজন ও উচ্চতা সবসময় একইসাথে বৃদ্ধি হয় । কখনো এরকম হয় না যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু ওজন বৃদ্ধি পাবে না ।
বৃদ্ধি বংশধারা ও পরিবেশ সমন্বয়ের ফলাফল : বিষয়টি বিতর্কিত হলেও কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী বংশধারার স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করলেও কেউ কেউ আবার পরিবেশের প্রভাবকে অধিক স্বীকার করেছেন । কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী আবার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বংশধারা ও পরিবেশের সমন্বয়ের ফল হিসেবে বৃদ্ধিকে দেখিয়েছেন । তবে যা – ই হোক , বংশধারা এবং পরিবেশ এই দুই উপাদানের ভূমিকাকে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো দিক থেকেই অস্বীকার করা যায় না ।
বৃদ্ধির সঙ্গে অনুশীলনের সম্পর্ক : একাধিক মনোবিদদের গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে , বৃদ্ধির ওপর অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । যেমন— একটি শিশুর উপযুক্ত দৈহিক বৃদ্ধি হলে তবেই সে নির্দিষ্ট অনুশীলনে সক্ষম হবে ।
ব্যক্তিভেদে বৃদ্ধির হারের সমতা : কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোনো কোনো শিশুর বৃদ্ধির হার প্রথম দিকে যতটা থাকে পরেও একই ভাবে বজায় থাকে অর্থাৎ ব্যক্তিভেদে বৃদ্ধির হারের সমতা বজায় থাকে ।
3.কৈশোর বলতে কী বোঝো ? কৈশোরের মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো ।
Answer: কৈশোর : প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হলো কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল । এইসময়ে ছেলে ও মেয়েদের দেহ , মন , চিন্তাভাবনা ও অনুভূতিক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যায় । ছেলে – মেয়েদের জীবনে এই পর্বের বয়সকাল 12 থেকে 18 বছর বা 20 বছর । এই সময়কালকে মানুষের জীবনের সন্ধিকাল হিসেবে মনে করা হয় । মনোবিদ স্ট্যানলি কৈশোরকালে মানুষের জীবনের এই পর্বে যে আমূল পরিবর্তন ও জাগরণ সৃষ্টি হয় তাকে ‘ ঝড়ঝঞ্ঝা ‘ – র কাল বলে উল্লেখ করেছেন ।
কৈশোরকালের বৈশিষ্ট্য : মানবদেহে কৈশোরকালের যে পরিপূর্ণ বিকাশ হয়ে থাকে তার বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ —
স্মৃতি ও কল্পনার বিকাশ : কৈশোরকালে 12 থেকে 20 বছর বয়সের মধ্যে ছেলে – মেয়েদের মধ্যে একদিকে যেমন স্মৃতিশক্তির বিকাশ হয় , অন্যদিকে তেমনই কল্পনা শক্তিরও বিকাশ হয় ।
নীতিশক্তির বিকাশ : কৈশোরকালে ছেলে – মেয়েদের মধ্যে ন্যায়নীতি সম্পর্কে সম্যকধারণা জন্মায় । এর ফলে তাদের মধ্যে নীতিবোধের ধারণা গড়ে ওঠে ।
আবেগপ্রবণতার বিকাশ : বয়ঃসন্ধিকালে বা কৈশোরকালে ছেলে – মেয়েদের মধ্যে এক আবেগঘন মানসিকতার উন্মেষ ঘটে , অর্থাৎ তারা মুনিঋষিদের মতো মহান ব্যক্তিদের আদর্শ অনুসরণ করে চলার চেষ্টা করে ।
রহস্য উদ্ঘাটনের প্রচেষ্টা : এই বয়সে পৌঁছালে ছেলে – মেয়েদের মধ্যে যেকোনো ধরনের রহস্য উদ্ঘাটনের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় । অর্থাৎ তারা যেকোনো বাধাবিপত্তি ভয়কে জয় করে রহস্যকে উদ্ঘাটন করতে চেষ্টা করে ।
প্রাক্ষোভিক বিকাশ : কৈশোরকালে লজ্জাবোধ , অপরাধবোধ , ভয় ইত্যাদির মতো প্রক্ষোভ তাদের যৌন আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন রূপলাভ করে । প্রক্ষোভমূলক আচরণ কোনো সময় খুব বেশি , আবার কোনো সময় খুব কম হয় । তাছাড়া আশঙ্কা , আক্রমণাত্মক ভাবের মতো প্রাক্ষোভিক আচরণের প্রাধান্য লক্ষ করা যায় জীবনবিকাশের এই স্তরে ।
বুদ্ধির পরিপক্কতার প্রকাশ : কৈশোরকালে বিভিন্ন নীতি , আদর্শ জ্ঞানবিকাশের মধ্যে দিয়ে ছেলে – মেয়েদের চিন্তাভাবনা বুদ্ধির পক্বতার প্রকাশ পায় ।
সামাজিক বিকাশ : কৈশোরের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছেলে – মেয়েদের নিজেকে অসামাজিক মনে হয় । কারণ হঠাৎ দৈহিক পরিবর্তনের দরুন তারা অস্বস্তিকর = পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা করে রাখার চেষ্টা করে । বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে – মেয়েরা দলগতভাবে কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে । এই বয়সে ছেলে – মেয়েরা দলের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দুঃসাহসিক কাজ করে । এইসময় ছেলে – মেয়েরা নিজেদের নির্বাচিত করার জন্য অনুরাগ ও মনোভাবকে 2 বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় ।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট , কৈশোরকালে বা বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে – মেয়েদের শারীরিক , মানসিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশ ঘটে । তবে এই বয়সে বুদ্ধির বিকাশের ক্ষেত্রে গতি ও প্রকৃতির মধ্যে একজনের সাথে আরেকজনের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । অর্থাৎ সবক্ষেত্রে সকলের সার্বিক বিকাশ যে একই হবে সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না ।
4.জীবন বিকাশের স্তরগুলি উল্লেখ করো । কৈশোরের চাহিদা কী কী ?
অথবা , মানবজীবন বিকাশের স্তরগুলি আলোচনা করো ।
Answer: ভূমিকা : সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জন্ম হওয়ার পর থেকে সময়ের সাথে সাথে তার সার্বিক বিকাশ একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া । তবে এই প্রক্রিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলির ভিত্তিতে মনোবিদগণ জীবনের বিকাশকালকে কত গুলি ভাগে ভাগ করেছেন । যেমন— শৈশবকাল , বাল্যকাল , কৈশোরকাল প্রভৃতি ।
জীবনবিকাশের বিভিন্ন স্তর : মানবজীবন বিকাশের ঠিক কতগুলি স্তর রয়েছে সেই সম্পর্কে বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করেছেন । এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী পিকুনাসের মতে এই স্তরগুলি নিম্নরূপ—
প্রাক্জন্মস্তর : এই পর্বকে ধরা হয় গর্ভসঞ্চার থেকে শুরু করে জন্মাবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ।
সদ্যোজাত স্তর : এই পর্ব শুরু হয় জন্মের সময় থেকে যা স্থায়ী হয় পরবর্তী চার সপ্তাহ পর্যন্ত ।
প্রারম্ভিক শৈশব স্তর : এই পর্বকে জন্মের এক মাস থেকে দেড় বছর বয়স পর্যন্ত ধরা হয় ।
প্রান্তীয় শৈশব স্তর : শিশুর দেড় বছর বয়স থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে প্রান্তীয় শৈশব স্তর হিসেবে ধরা হয় ।
প্রারম্ভিক বাল্যকাল : একটি শিশুর আড়াই বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সকালকে প্রারম্ভিক বাল্যকাল বলে ।
মধ্য বাল্যস্তর : এই পর্ব শুরু হয় পাঁচ বছর থেকে এবং তা চলে নয় বছর বয়স
প্রান্তীয় বাল্যস্তর : একটি শিশুর নয় বছর থেকে বারো বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে প্রান্তীয় বাল্যস্তর হিসেবে ধরা হয় ।
যৌবনাগম স্তর : এই পর্বের শুরু হয় বারো বছর বয়স থেকে এবং তা শেষ হয় একুশ বছর বয়সে ।
প্রাপ্তবয়স্ক স্তর : একুশ বছর বয়স থেকে সত্তর বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে প্রাপ্তবয়স্ক স্তর হিসেবে ধরা হয় ।
বার্ধক্যত্তর : এই পর্বকে ধরা হয় সত্তর বছর বয়সের পরবর্তী সময়কে । জীবনবিকাশের সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষায় বয়সভিত্তিক স্তরবিন্যাসের কথা বলা হয়েছে । এই স্তরবিন্যাস এইরকম শৈশবকাল – জন্ম থেকে ছয় বছর — প্রাকৃপ্রাথমিক শিক্ষাস্তর । বাল্যকাল ছয় থেকে এগারো বছর – প্রাথমিক স্তর । কৈশোরকাল এগারো থেকে আঠারো বছর — মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর । প্রাপ্তবয়স্ককাল – আঠারো বছরের পরবর্তী সময়কাল – উচ্চশিক্ষাস্তর ।
কৈশোরের চাহিদা :
সামাজিক চাহিদা : এইসময় বৈশ্বিক বিকাশ ঘটে বলে জীবনের লক্ষ্য বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়ে যায় , সেই লক্ষ্যে জানবার ইচ্ছে অনুভব করে । স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় মনে দ্বিধা তৈরি হয় , ফলে মনে মনে ভীত হয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে ।
মানসিক চাহিদা : কৈশোরে আত্মপ্রকাশের চাহিদা থাকায় সৃজনী দক্ষতা বিকশিত হয় নানা কাজের মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে তারা উদ্যোগী হয় , নিজেকে প্রকাশের চাহিদা থাকায় বিভিন্ন কাজে লিপ্ত হয় । যেকোনো কাজের তারা সামাজিক স্বীকৃতি চায় এবং স্বীকৃতি না পেলে বিপথে চলে যায় ।
জৈবিক চাহিদা : এই স্তরে নীতিবোধের বিকাশ ঘটে , ফলে এরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায় না । সেটা অভিযোজনের ব্যর্থতার কারণ হয় এইসময় কিশোর – কিশোরীদের যৌনাঙ্গ পরিণত হয় । তাই যৌনচাহিদা তৈরি হয় । ছেলে – মেয়ে পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয় ।