একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪- শিক্ষার উপাদান (দ্বিতীয় অধ্যায়)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

1.“ 12 বছর বয়স পর্যন্ত শিশু প্রকৃতি থেকেই শিক্ষালাভ করবে ” —কে বলেছেন ? 
Answer: “ 12 বছর বয়স পর্যন্ত শিশু প্রকৃতি থেকেই শিক্ষালাভ করবে ” —কথাটি রুশো বলেছেন । 

2.বিশ্ব জনসংখ্যা বর্ষ কোন বছর ? 
Answer: বিশ্ব জনসংখ্যা বর্ষ হলো 1974 খ্রিস্টাব্দ । 

3.সিলিকনের চিহ্ন কী ? 
Answer: সিলিকনের চিহ্ন হলো Si .

4.সংগতিবিধান বলতে কী বোঝো ? 
Answer: সংগতিবিধান বলতে অভিযোজনকে বোঝায় । 

5.বাংলা পাঠ্যক্রম শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ কী ?
Answer: বাংলা পাঠ্যক্রম শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Curriculum . 

6.“ শিক্ষার্থী যা কিছু শেখে তা – ই হলো পাঠ্যক্রম ” —কথাটি কে বলেছেন ? 
Answer: শিক্ষার্থী যা কিছু শেখে তাই হলো পাঠ্যক্ৰম ‘ কথাটি হরনি বলেছেন । 

7.ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কোন রাসায়নিক যৌগ ?
Answer: MIC ( মিথাইল আইসোসায়ানেট ) রাসায়নিক যৌগ । 

8.বৌদ্ধিক কাজের দু’টি উদাহরণ দাও । 
Answer: বৌদ্ধিক কাজের দু’টি উদাহরণ হলো- ( i ) বিতর্কসভা , ( ii ) সাহিত্যসভা । 

9.মানব সৃষ্টি পরিবেশ বলতে কী বোঝো ?
Answer: মানুষ তার নিজের প্রয়োজনের তাগিদে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটিয়ে যে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে , তাকেই মানবসৃষ্টি পরিবেশ বলে । 

10.জৈবিক পরিবেশ কী ? 
Answer: আস্তর পরিবেশের যেসব উপাদান শিশুর বা ব্যক্তির জৈবিক সত্তার সঙ্গে যুক্ত , সেগুলির যোগফলকেই বলা হয় জৈবিক পরিবেশ । 
11.সমন্বয়ী পাঠ্যক্রম বলতে কী বোঝো ? 
Answer: যে বিশেষ প্রকার পাঠ্যক্রমে শিক্ষণীয় বিষয়কে ছোটো ছোটো অংশে বিভাজিত না করে অখণ্ডভাবে উপস্থাপন করা হয় , তাকে সমন্বয়ী পাঠ্যক্রম বলে । 

12.পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচির মধ্যে সম্পর্ক কী ? Answer: পাঠ্যক্রম আকারে অনেক বড়ো আর পাঠ্যসূচি আকারে অনেক ছোটো । মোটকথা পাঠ্যসূচি হলো পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত একটি নির্বাচিত অংশ ।
13.পাঠ্যসূচি বলতে কী বোঝো ? 
Answer: পাঠ্যসূচি বলতে আমরা পাঠক্রমের অন্তর্গত নির্বাচিত অংশকে বুঝে থাকি । ওই অংশ মুল্যায়নের ক্ষেত্র হিসেবে সীমিত রাখা হয় । 
14.একজন আদর্শ শিক্ষকের দু’টি গুণ উল্লেখ করো । 
Answer: একজন আদর্শ শিক্ষকের দু’টি গুণ হলো— ( 1 ) শিক্ষক তার চিন্তায় ও আচরণে প্রগতিশীল হবেন এবং ( 2 ) শিক্ষক হবেন দায়িত্বশীল । 

15.শিক্ষার উপাদান কয়টি ও কী কী ? 
Answer: শিক্ষার উপাদান 4 টি । যথা – শিক্ষার্থী , শিক্ষক , পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার পরিবেশ । 

16.পাঠ্যক্রম রচনার যেকোনো একটি নীতি উল্লেখ করো । 
Answer: পাঠ্যক্রম রচনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নীতি হলো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাহিদার বিকাশের দিকে লক্ষ রাখা একান্ত আবশ্যক । 

17.School and Society ‘ গ্রন্থটি কার লেখা ? Answer: School and Society ‘ গ্রন্থটি ডিউই – এর লেখা । 

18.বংশধারা কাকে বলে ? 
Answer: যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পিতা – মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে সস্তানসন্ততিদের মধ্যে যায় বা বর্তায় , তাকে বংশধারা বলে । 

19.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি কাকে বলে ? 
Answer: বিদ্যালয়ে যেসকল ছাত্র – ছাত্রীদের বৌদ্ধিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনবিকাশের অন্য দিকগুলিকেও সার্থক করে তোলে , সেগুলিকে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি বলে । 

20.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ? 
Answer: সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যথা— ( i ) শরীরচর্চামূলক || কার্যাবলি , ( ii ) মানসিক কার্যাবলি ও ( iii ) সামাজিক কার্যাবলি ৷ 

21.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির যেকোনো একটির নাম উল্লেখ করো । 
Answer: সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির একটি হলো বিদ্যালয়ের বার্ষিক সামাজিক অনুষ্ঠান / শিক্ষামূলক ভ্রমণ । 

22.পাঠ্যক্রমের একটি মৌলিক নির্ধারক উপাদান উল্লেখ করো । 
Answer: পাঠ্যক্রমের একটি মৌলিক নির্ধারক উপাদান হলো শিক্ষার্থীর চাহিদা , অর্থাৎ শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে । 

23.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির যেকোনো একটি শিক্ষামূলক উপযোগিতা উল্লেখ করো ।
 Answer: সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি ছাত্র – ছাত্রীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে , এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ে এবং তা স্বনির্ভর হয়ে উঠতে সাহায্য করে । 
24.শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান কী ? 
Answer: শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান হলো বংশগতি ও পরিবেশ ।

MCQ প্রশ্নোত্তর

1.“ শিক্ষার্থী যা শেখে তা – ই হলো পাঠক্রম । ” — বলেছেন (A) অ্যারিস্টটল (B) ফ্রয়েবেল (C) রুশো(D) পেস্তালৎসি 
Answer: (B) ফ্রয়েবেল

2.প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার চারটি উপাদানের মধ্যে কার স্থান সবার ওপরে ? (A) পাঠ্যক্রমের (B) শিক্ষালয়ের (C) শিক্ষকের(D) শিক্ষার্থীর 
Answer: (C) শিক্ষকের

3.UNEP- এর পুরো নাম কী ? (A) Under Nations Environment Programme(B) United Nations Educational Programme (C) United Nations Environment Programme (D) United National Environment Programme 
Answer: (C) United Nations Environment Programme

4.“ শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সুপরিকল্পিত অভিজ্ঞতাপুঞ্জ হলো পাঠ্যক্রম । ” বলেছেন— (A) হার্নি (B) পেইনি (C) ব্লুবেচার (D) সি ভি গুড 
Answer: (D) সি ভি গুড

5.‘ কুরিয়ার ‘ শব্দের অর্থ হলো– (A) জ্ঞানার্জন করা (B) দৌড়ের পথ (C) পাঠ্যক্রম(D) বেড়ানোর পথ 
Answer: (B) দৌড়ের পথ

6.পাঠ্যক্রমের বিন্যাস সংক্রান্ত উপাদান -(A) শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতা (B) সমাজ উন্নয়ন (C) পরিবর্তনশীল (D) বিদ্যালয়ের পরিবেশ 
Answer: (C) পরিবর্তনশীল

7.মহান বৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় – (A) টিউশনকে (B) চাকরিবৃত্তিকে (C) শিক্ষাকতাকে (D) সবক’টিই ঠিক 
Answer: (C) শিক্ষাকতাকে

8.শিক্ষককে কার বিকল্প বলা হয় ? (A) দাদুর (B) পিতার (C) দাদার (D) মাতার 
Answer: (B) পিতার

9.আধুনিক ধারণায় শিক্ষকের স্থান – (A) শিক্ষার্থীর আগে (B) শিক্ষার্থীর পরে (C) কোনোটিই নয়(D) দু’টিই ঠিক 
Answer: (B) শিক্ষার্থীর পরে

10.নীচের কোনটি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত ? (A) ব্ল্যাকবোর্ড (B) পাঠ্যপুস্তক (C) শিক্ষক(D) কম্পিউটার 
Answer: (C) শিক্ষক

11.‘ Environment ‘ কথাটি যে শব্দ থেকে উদ্ভব ? হয়েছে , তা হলো (A) Envirance (B) Environ (C) Envaron (D) Environment 
Answer: (B) Environ

12.‘ Currere ’ শব্দের অর্থ হলো – (A) দৌড় (B) ছোটাছুটি (C) হাঁটা(D) ঝাপানো 
Answer: (A) দৌড়
13.নিম্নলিখিত যে দু’টি উপাদানের নিরন্তর মিথস্ক্রিয়ার ফলশ্রুতি হলো শিক্ষার্থী , সে দু’টি হলো— (A) প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ (B) পরিবেশ ও বংশগতি (C) বংশগতি ও জিনোম (D) পরিবেশে ও বিদ্যালয় 
Answer: (B) পরিবেশ ও বংশগতি

14.প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার চারটি উপাদান – এর সবার উপরে থাকে – (A) সমাজ (B) পাঠক্রম (C) শিক্ষার্থী(D) শিক্ষক 
Answer: (D) শিক্ষক

15.শিক্ষক হলেন সক্রিয় উপাদান আর শিক্ষার্থী হলো -(A) নিষ্ক্রিয় গ্রহণাত্মক উপাদান (B) সংযোগকারী মাধ্যম(C) দু’টিই ঠিক (D) কোনোটিই নয় 
Answer: (A) নিষ্ক্রিয় গ্রহণাত্মক উপাদান

16.শিক্ষার মুখ্য উপাদান ক’টি ? (A) 3 টি (B) 5 টি (C) 2 টি (D) 4 টি 
Answer: (D) 4 টি

17.আলোচনা ও বিতর্ক যে ধরনের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি হিসাবে বিবেচিত , তা হলো— (A) সৃজনমূলক (B) আত্মপ্রকাশমূলক (C) সামাজিক(D) শরীরচর্চামূলক 
Answer: (A) সৃজনমূলক

18.‘ আত্মসক্রিয়তার তত্ত্ব ’ – শিক্ষাচিন্তা । (A) রুশোর (B) বিবেকানন্দের (C) ফ্রয়েবেলের(D) মন্তেসরির
Answer: (C) ফ্রয়েবেলের

19.নিম্নলিখিত কোনটি সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ ? (A) বিদ্যালয় (B) ক্লাব (C) পরিবার(D) গ্রন্থাগার 
Answer: (A) বিদ্যালয়

20.” Heredity and environment are correlative factors . ” – বলেছেন (A) স্টোন (B) স্যান্ডিফোর্ড (C) ক্যাটেল(D) মরগেন 
Answer: (D) মরগেন

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

1.কৃত্রিম পরিবেশ কাকে বলে ? সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পরিবেশবিদ্যার পাঠ কতটা উপকারী ? 
Answer: সূচনা : পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের সামঞ্জস্যপূর্ণতায় প্রকৃত পরিবেশ গড়ে ওঠে । প্রাকৃতিক নিয়মে জল , বায়ু , গাছপালা যেমন সৃষ্টি হয়েছে , ঠিক তেমনই মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে তৈরি করেছে বনভূমি , তৈরি করেছে কৃত্রিম হ্রদ , তৈরি করেছে নদী যা তাদের জীবনকে করে তোলে সুন্দর মানুষের নিজেদের সৃষ্ট এই ধরনের পরিবেশকে বলা হয় কৃত্রিম পরিবেশ । তবে কৃত্রিম পরিবেশ দেখতে সুন্দর চকচকে হলেও তা সবক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হয় না । একজন শিক্ষার্থীর প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে যে ধরনের শিক্ষালাভ করে তা কখনোই কৃত্রিম পরিবেশ থেকে সম্ভব হয় না । 

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য : একটি শিশু যে পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে F এবং বড়ো হয় সেই পরিবেশের সাথেই সে মানিয়ে চলে । প্রতিটি পরিবেশের একটা নিজস্বতা থাকে । শিক্ষার্থীরা ছোটো থেকেই তাদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত লাভ করতে পারে । পরিবেশ শিক্ষা সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা বিশেষভাবে সাহায্য করে যা নিম্নরূপ — 

স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে : যেকোনো পরিবেশেই একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ দিক লক্ষ করা যায় । পরিবেশের মধ্যেই মানুষের জন্ম হয় এবং মানুষ বড়ো হয় । সেখানে তাদের বিভিন্ন ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় । পরিবেশে শিক্ষা মানুষকে যেমন স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলে , ঠিক তেমনই সুস্থ স্বাস্থ্যবানভাবে বেঁচে থাকার জন্যে পরিবেশ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । 

উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করা : পরিবেশ সংক্রান্ত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক , খনিজ , বনজ সম্পদ – এর উৎপাদন , উত্তোলন এবং তার ব্যবহার প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে । এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের দ্বারা অন্যান্য সম্পদের উৎপাদন সম্পর্কে জানতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিবেশ সংক্রান্ত শিক্ষা সাহায্য করে । 

পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা : পরিবেশ সংক্রান্ত শিক্ষা মানবজাতিকে পরিবেশের ভয়াবহ দিকগুলি সম্পর্কে জানতে যেমন সাহায্য করে , ঠিক তেমনই পরিবেশের দূষণ এবং দূষণরোধের বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে । এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে সাহায্য এবং আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা । 

পরিবেশ দূষণ রোধে সাহায্য করা : পরিবেশ শিক্ষার মূল লক্ষ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা । জল , বায়ু , আলো , বাতাস , দৃশ্য ও সামাজিক দূষণের হাত থেকে মানবজাতিকে সংরক্ষিত করে পরিবেশ শিক্ষা । এর মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য রক্ষার কাজটিও হতে পারে । 

পরিবেশের উপাদান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ : আমরা জানি , পরিবেশ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত । পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন — মাটি , বাতাস , জল , উয়তা প্রভৃতি আমাদের সমাজ , সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে । 

  উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট , পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ । সকলেরই পরিবেশ সম্পর্কে কিছু নির্দিষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন । পরিবেশের জ্ঞান ছাড়া আগামী দিনে আমাদের বেঁচে থাকায় সংশয় দেখা দিতে পারে এবং আমাদের এই সভ্যতা লুপ্ত হতে পারে । এই কারণে পরিবেশ শিক্ষাকে আবশ্যিক করা প্রয়োজন ।

2.পাঠ্যক্রমের সংজ্ঞা দাও । আধুনিক পাঠ্যক্রমের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো । 
Answer: পাঠ্যক্রম কী : 

1)বাংলা ‘ পাঠ্যক্রম ‘ শব্দটির ইংরেজি শব্দ হলো ‘ Curriculum . যা লাতিন শব্দ Currere ‘ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘ দৌড় ‘ । 

2) শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে যে জ্ঞান অর্জন করে , তা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ভিতরে বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে থেকে । 

3) শিক্ষাবিজ্ঞানে পাঠ্যক্রমকে গতিমান প্রক্রিয়া বলা হয়েছে । শিক্ষাবিদ পেইনি বলেছেন , শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ এবং তাদের মধ্যে আচরণের পরিবর্তনের জন্য বিদ্যালয় যে কর্মসূচি তৈরি করেছে এবং তা সচেতনভাবে পরিচালনা করেছে , তাদের একত্রিত রূপকেই পাঠ্যক্রম বলে । 

4) আধুনিক ধারণায় পাঠ্যক্রম বলতে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ও শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক – শিক্ষিকার পরিচালনার দ্বারা তারা যে জ্ঞানলাভ করে , তাকে বোঝায় । 

5) মনোবিদ ক্লো অ্যান্ড ক্লো – এর মতে , পাঠ্যক্রম হলো বিদ্যালয়ের বাইরে ও ভিতরে থেকে শিক্ষার্থীরাযে জ্ঞানলাভ করেছে তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে , যা তাদের মানসিক , সামাজিক , প্রাক্ষোভিক , শারীরিক , আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিক থেকে বিকাশে সাহায্য করে। 

আধুনিক পাঠ্যক্রমের বৈশিষ্ট্য : শিক্ষাবিজ্ঞানে পাঠ্যক্রমের আধুনিক ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে এর কতকগুলি বৈশিষ্ট্যের খোঁজ পাওয়া যায় । এই বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো— 

বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শ্রেণি : আধুনিক ধারণায় পাঠ্যক্রম বহু বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিজ্ঞতার সমন্বয় । অভ্যন্তরীণ শ্রেণিকক্ষে সবধরনের জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয় , জ্ঞান অর্জনের জন্য বাহ্যিক শ্রেণিকক্ষেরও প্রয়োজন হয় । যেমন— সামাজিক ও শারীরিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাহ্যিক শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন হয় । 

পাঠ্যক্রমে শিক্ষার উদ্দেশ্য : আধুনিক পাঠ্যক্রম পরিচালনার সময় শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলিকে বিবেচনা করে বিভিন্ন বিষয় পাঠ্যক্রমের আয়ত্তে আনা হয় । 

সর্বাঙ্গীণ বিকাশসাধন : আধুনিক পাঠ্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ছাত্র – ছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশসাধন । তাই শিক্ষার্থীর সামাজিক বিকাশ , নৈতিক বিকাশ , প্রাক্ষোভিক বিকাশ , আধ্যাত্মিক বিকাশ , চারিত্রিক বিকাশ , বৌদ্ধিক বিকাশ প্রভৃতিতে লক্ষ রেখে বিকাশ সাধনে পাঠক্রম সাহায্য করে । 

পরিবর্তনশীলতা : ‘ আধুনিক পাঠ্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পরিবর্তনশীলতা । সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয় । আবার চাহিদা পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষার লক্ষ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে । শিক্ষার লক্ষ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমেরও পরিবর্তন হচ্ছে । 

তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক জ্ঞান : পাঠ্যক্রম হলো শিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছানোর থেকেই কেবলমাত্র শিক্ষার্থীরা সবধরনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে না । তাই শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য আধুনিক পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা থাকা দরকার । 

সার্বিক বিকাশ : আধুনিক পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বিকাশ পূর্বনির্ধারিত , কারণ ছাত্র – ছাত্রীর বয়স , সংখ্যা , চাহিদা , আগ্রহ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা হয় । 
নৈতিক ভিত্তি : আধুনিক পাঠ্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নৈতিক ভিত্তি । শিক্ষার্থীর সামর্থ্য , চাহিদা এবং সমাজের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে পাঠ্যক্রম রচনা করা হয় । এছাড়াও বৈজ্ঞানিক ও মনোবৈজ্ঞানিক যুক্তিকে মনে রেখে পাঠ্যক্রম রচনা করা হয় । 

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা নির্ধারণ : আধুনিক পাঠ্যক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । দর্শন , মনোবিদ্যা , সমাজবিজ্ঞান , শিক্ষাতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয় । জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারাই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয় । 

আদর্শগত ও বাস্তবতাভিত্তিক : আধুনিক পাঠ্যক্রমের অন্যতম ভিত্তি হলো এর আদর্শগত ও বাস্তবতাভিত্তিক দিক । আদর্শের দিকে লক্ষ রেখে পাঠ্যক্রম রচনা করলে ছাত্র – ছাত্রীরা সামাজিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে । কিন্তু বাস্তবতা না থাকলে তারা সাধারণ জীবনযাপনে পিছিয়ে পড়বে । এই জন্য দুই দিকই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ । 

মূল্যায়ন : আধুনিক পাঠ্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী পরিমাণ সফল হয়েছে তা জানার জন্য পাঠ্যক্রমের মূল্যায়ন করা হয় । শিক্ষার্থীদের কাছে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে তা বিচার করাই হলো চূড়ান্ত মূল্যায়ন । তাই মূল্যায়ন হলো আধুনিক পাঠ্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য । 

3.পাঠ্যক্রম কী ? পাঠ্যক্রম নির্ধারণে শিশুর কোন কোন চাহিদা ও ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত ? 

Answer: ইংরেজি Curriculum শব্দটির বাংলা অর্থ পাঠ্যক্রম যা লাতিন শব্দ Currere থেকে এসেছে বলে মনে করা হয় । এর অর্থ দৌড় । শিক্ষাবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞায় শিক্ষাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয় । শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে যেসকল অভিজ্ঞতা অর্জন হয় , তা – ই হলো পাঠ্যক্রম । আধুনিক শিক্ষার মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে শিশুর চাহিদা ও সামর্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । এক্ষেত্রে শিক্ষার মূল বৈশিষ্ট্য হলো একটি শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশসাধন । আর এই কারণেই পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষমতা , চাহিদা ও আগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । 

পাঠ্যক্রম নির্ধারণে শিশুর চাহিদা ও গুরুত্ব : প্রত্যেক শিশুর চাহিদাকে মনোবিজ্ঞানীরা 3 টি ভাগে ভাগ করেছেন । যথা– সামাজিক চাহিদা , মানসিক চাহিদা , জৈবিক চাহিদা । 

সামাজিক চাহিদা : যেকোনো পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সমাজবিদ্যা , ভূগোল , ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় রাখতে হয় , যা শিক্ষার্থীর সামাজিক চাহিদা পুরণে সহায়ক হয়। 

জৈবিক চাহিদা : পাঠ্যক্রমে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত হলে মাধ্যমে শিশুর জৈবিক চাহিদা বিকাশে সহায়ক হয় । 

মানসিক চাহিদা : পাঠ্যক্রমে ভাষা , গণিত , সাহিত্য , বিজ্ঞান ইত্যাদি রাখা হয় কেবলমাত্র 

শিশুদের মানসিক চাহিদা : বিকাশের লক্ষ্যে । শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতা মনোবিদ স্পিয়ারম্যানের মতে , মানুষের মানসিক ক্ষমতার দু’টি দিক রয়েছে । একটি হলো সাধারণ মানসিক ক্ষমতা , অপরটি হলো বিশেষ মানসিক ক্ষমতা । এই ক্ষমতাগুলি শিশুর পূর্ণ বিকাশে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে । তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে সব কর্ম এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাঠ্যক্রম রাখা প্রয়োজন , যা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে বিকশিত করতে পারে । 

শিক্ষার্থীর মানসিক প্রবণতা : যেকোনো শিশুর মধ্যে কোনো কিছু জানার এবং বোঝবার এমনকী প্রশ্ন করার প্রবণতা অধিক লক্ষ করা যায় । এই প্রবণতাকেই বলা হয় মানসিক প্রবণতা । প্রতিটি শিশুর মানসিক প্রবণতার ওপর নির্ভর করে সেই শিশুটি কতটা দক্ষ হবে । তাই পাঠ্যক্রম এমন হওয়া উচিত যাতে শিশুরা নিজ নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে । 

মূল্যায়ণ : উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট যে শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষমতা এবং মানসিক প্রবণতার ওপর ভিত্তি করেই পাঠ্যক্রম তৈরি করা প্রয়োজন । এতে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন হলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ চাহিদামতো জ্ঞান অর্জন করে এবং নিজেদের বিকশিত করতে পারে ।