একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪ - বৈদিক ও বৌদ্ধ শিক্ষা (পঞ্চম অধ্যায়)


অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1.ব্রাক্মণ্য শিক্ষায় বিদ্যাস্নাতক উপাধি কাদের দেওয়া হতো ? 
Answer: যিনি সমগ্র বেদ অধ্যয়ন করেছেন , কিন্তু সমস্ত ব্রত সমাপন করেননি , তাঁকে = বিদ্যাস্নাতক উপাধি দেওয়া হতো । 

2.উপনয়ন কী ? 
Answer: উপনয়ন – এর অর্থ শিক্ষার জন্য কোনো শিশুকে গুরুর কাছে নিয়ে যাওয়া । 

3.বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার একটি লক্ষ্য উল্লেখ করো । 
Answer: বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার একটি লক্ষ্য হলো পরিনির্বাণ ও যাবতীয় জাগতিক দুঃখের অবসান । 

4.তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোথায় ছিল ? 
Answer: বর্তমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নিকটবর্তী অঞ্চলে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল । 

5.বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রথিতযশা অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করো । 
Answer: বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন প্রথিতযশা অধ্যাপক হলেন — অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান , অভয় করগুপ্ত , প্রভাকরমতি , জ্ঞানপদ ইত্যাদি । 

6.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় নৈষ্ঠিক কাদের বলা হতো ? 
Answer: ব্রাক্ষ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় যেসকল শিষ্য গুরুগৃহে পঠনপাঠন শেষ করে চিরকৌমার্য ব্রত অবলম্বন করে আচার্যগৃহে বাস করত , তাদের নৈষ্ঠিক বলা হতো । 

7.প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষায় কত প্রকার স্নাতকের উল্লেখ আছে ও কী কী ? 
Answer: প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষায় তিন প্রকার স্নাতকের উল্লেখ আছে । যথা — বিদ্যাস্নাতক , ব্রতস্নাতক ও বিদ্যারত স্নাতক । 

8.ঋগ্‌বেদ সংহিতা কাকে বলে ? 
Answer: যে গ্রন্থে ঋগ্‌বেদের মন্ত্রগুলি সংকলিত হয়েছে তাকেই ঋগ্‌বেদ সংহিতা বলে । 

9.বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের দু’টি গুণ লেখো । 
Answer: বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের দু’টি গুণ হলো- ( i ) প্রাচীন যুগে আচার্যগণ বিদ্যাদানকে জীবনের মহান ব্রত বলে মনে করতেন । ( ii ) বিভিন্ন শাস্ত্র সহ শিক্ষাদান কার্যে যথেষ্ট পারদর্শী হতেন । 

10.মহাভারতের যুগের কয়েকটি শিক্ষাকেন্দ্রের নাম বলো । 
Answer: মহাভারতের যুগের কয়েকটি শিক্ষাকেন্দ্রের নাম- ( i ) মিথিলার বিদ্যাপীঠ , ( ii ) C বদ্রিকাশ্রম , ( iii ) কম্বের আশ্রম , ( iv ) অযোধ্যা ।

11.প্রাচীন যুগে শিক্ষার পর্বগুলি কী ছিল ? 
Answer: প্রাচীন যুগে শিক্ষার পর্বগুলি ছিল— আদিবৈদিক শিক্ষা , ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা , মহাকাব্যের যুগের শিক্ষা ও বৌদ্ধ শিক্ষা । 
12.চারটি আর্যসত্য কী কী ? 
Answer: চারটি আর্যসত্য হলো মানুষের জীবনে দুঃখ আছে , দুঃখের কারণ আছে , দুঃখ নিবারণের উপায় আছে ও দুঃখ নিবারণের জন্য সঠিক পথের প্রয়োজন আছে । 

13.বৈদিক শিক্ষায় ক্ষত্রিয়দের কী কী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো ? 
Answer: বৈদিক শিক্ষায় ক্ষত্রিয়দের যুদ্ধবিদ্যা , অস্ত্রবিদ্যা , নীতিশাস্ত্র , রাজনীতি , দণ্ডনীতি , আয়ুর্বেদ প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষাদান করা হতো । 

14.বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বজনীন শিক্ষা বলার কারণ কী ? 
Answer: বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় মেধার ভিত্তিতে ধর্ম – বর্ণ – জাতি নির্বিশেষে সবধরনে মানুষকে পঠনপাঠনের সুযোগ দেওয়াকে সর্বজনীন শিক্ষা বলা হয় ।

15.বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার যেকোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো । 
Answer: বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো— এটি গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা । জাতি , ধর্ম , বর্ণ , ধনী , দরিদ্র ইত্যাদি নির্বিশেষে এই শিক্ষা সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল । 

16.ব্রাক্মণ্য শিক্ষার একটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো ।
Answer: ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার একটি উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সুব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা । 

17.প্রব্রজ্যা কী ? 
Answer: প্রব্রজ্যা হলো বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় বৌদ্ধসংঘ বা বিহারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পালনীয় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান । 

18.নালন্দার একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদের নাম লেখো ।
Answer: নালন্দার একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদের নাম নাগার্জুন । 

19.অপরাবিদ্যা কী ? 
Answer: প্রাচীন যুগের বৈদিক ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় যাবতীয় বিজ্ঞান ও শিল্পকলাভিত্তিক বিদ্যাকে অপরাবিদ্যা বলে । 

20.ব্রাক্মণ্য যুগে কোন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদ্যাগ্রহণ শুরু হতো ?
Answer: ব্রাহ্মণ্য যুগে উপনয়ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদ্যাগ্রহণ শুরু হতো ।

21.বৈদিক শিক্ষার যুগ উল্লেখ করো । 
Answer: আনুমানিক 2000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 300 খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত । 

22.অষ্টাঙ্গিক মার্গের আটটি বিষয় কী কী ? 
Answer: অষ্টাঙ্গিক মার্গের আটটি বিষয় হলো- ( i ) সম্যকদৃষ্টি , ( ii ) সম্যকসংকল্প , ( iii ) সম্যগ্বাক্য , ( iv ) সম্যককর্ম , ( v ) সম্যকজীবিকা , ( vi ) সম্যকব্যায়াম , ( vii ) সম্যগ্দান ও ( viii ) সম্যকধ্যান । 

23.প্রাচীন যুগে পরাবিদ্যার লক্ষ্য কী ছিল ? 
Answer: প্রাচীন যুগে পরাবিদ্যার লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিকে ভাবজগতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া । 

24.আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায়ব্রক্মস্থান বলতে কী বোঝাত ?
Answer: আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ব্রহ্মস্থান বলতে পড়াশোনার স্থানকে বোঝাত । 

25.আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মহেন্দ্রস্থান বলতে কী বোঝাত ? 
Answer: আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মহেন্দ্রস্থান বলতে যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষার স্থানকে বোঝাত । 

26.আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় গরুড়স্থান বলতে কী বোঝাত ?
Answer: আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থায় গরুড়স্থান বলতে পরিবহণের স্থানকে বোঝাত । 

27.অপরাবিদ্যা কী কী নিয়ে গঠিত ? 
Answer: অপরাবিদ্যা চতুর্বেদ , কল্প , ব্যাকরণ , ছন্দ , নিরুক্ত , জ্যোতিষ , শিক্ষা প্রভৃতি নিয়ে গঠিত । 

MCQ প্রশ্নোত্তর

1.বৌদ্ধদের ত্রিপিটক তিনটি হলো -(A) সূত্রপিটক , বিনয়পিটক , শ্রবণপিটক (B) সূত্রপিটক , শান্তপিটক , ক্ষমাপিটক (C) সূত্রপিটক , বিনয়পিটক , ধর্মপিটক (D) সূত্রপিটক , বিনয়পিটক , অভিধর্মপিটক 
Answer: (D) সূত্রপিটক , বিনয়পিটক , অভিধর্মপিটক

2.বেদের অপর নাম হলো – (A) জ্ঞানী (B) শ্ৰুতি (C) শ্রমণ (D) ব্রহ্মচারী 
Answer: (B) শ্ৰুতি

3.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় নারী ঋষিদের বলা হতো -(A) তনয়া (B) শিক্ষিকা (C) ব্রহ্মবাদিনী(D) গায়ত্রী 
Answer: (C) ব্রহ্মবাদিনী

4.নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল – (A) পড়ানির্ভর (B) যুক্তিনির্ভর (C) লেখানির্ভর (D) আবৃত্তিনির্ভর 
Answer: (D) আবৃত্তিনির্ভর

5.মধ্যযুগে যেটি হিন্দু শিক্ষালয় হিসেবে স্বীকৃত ছিল না , তা হলো –(A) পাঠশালা (B) মক্তব (C) টোল (D) চতুষ্পাঠী 
Answer: (B) মক্তব

6.নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – (A) মধ্যযুগেও (B) সেনযুগে (C) পালযুগে (D) গুপ্তযুগে 
Answer: (D) গুপ্তযুগে

7.ন্যায়দর্শন তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন – (A) পতঞ্জলি (B) গৌতম (C) কপিলমুনি(D) কণাদ 
Answer: (B) গৌতম

8.যারা একবার শুনেই মন্ত্র মনে রাখতে পারত , তাদের বলা হতো— (A) শ্রবণশ্রুতি (B) শ্রুতিঋষি (C) শ্রুতিমান(D) শ্রুতিধর 
Answer: (D) শ্রুতিধর

9.প্রাচীন কালের ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় নিয়মিত পাঠ বন্ধ থাকলে তাকে বলা হতো – (A) নৈমিত্তিক অধ্যায় (B) সাধারণ ছুটি (C) নিত্য অনধ্যায়(D) নিত্যপাঠ বন্ধ 
Answer: (C) নিত্য অনধ্যায়

10.বৈশ্যদের জন্য উপনয়নের বয়স ছিল –- (A) দশ (B) এগারো(C) বারো (D) তেরো 
Answer: (C) বারো

11.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার সুযোগ লাভ করত – (A) শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শিক্ষার্থী (B) ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য শিক্ষার্থী (C) সকল বর্ণের শিক্ষার্থী (D) ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় এবং শূদ্র শিক্ষার্থী 
Answer: (B) ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য শিক্ষার্থী 

12.প্রব্রজ্যা অনুষ্ঠানটি পালিত হতো -(A) বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায় (B) ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থায় (C) ভারতে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় (D) বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় 
Answer: (A) বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থায়

13.কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৌদ্ধ শিক্ষার সূচনা ঘটত ? (A) উপসম্পদা (B) সমাবর্তন(C) উপনয়ন(D) প্রব্রজ্যা 
Answer: (D) প্রব্রজ্যা

14.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষালয় হলো – (A) ঠাকুরবাড়ি (B) গুরুকুল (C) বিহার (D) মঠ 
Answer: (B) গুরুকুল

15.প্রাচীন ভারতে কোন স্থানটি ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল ? (A) তক্ষশীলা (B) অযোধ্যা(C) জৌনপুর(D) নালন্দা 
Answer: (A) তক্ষশীলা

16.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার মাধ্যম ছিল – (A) উর্দু ভাষা (B) পালি ভাষা(C) সংস্কৃত ভাষা(D) বাংলা ভাষা 
Answer: (C) সংস্কৃত ভাষা

17.চতুরাশ্রমের স্তর হলো -(A) 12 টি (B) 4 টি (C) 6 টি (D) ৪ টি 
Answer: (B) 4 টি

18.বৌদ্ধ শিক্ষার প্রধান বা মূল লক্ষ্য ছিল – (A) পরিনির্বাণ লাভ (B) সন্ন্যাসধর্ম পালন (C) ব্যাবহারিক শিক্ষাদান(D) আত্মোপলব্ধি 
Answer: (A) পরিনির্বাণ লাভ
19.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ছিল – (A) শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক (B) কর্মকেন্দ্রিক (C) ধর্মকেন্দ্রিক (D) বৃত্তিকেন্দ্রিক 
Answer: (C) ধর্মকেন্দ্রিক

20.ব্রাক্ষ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় ক্ষত্রিয়দের শিক্ষাগ্রহণের সময়কাল হলো – (A) 16 বছর (B) 11 বছর(C) 9 বছর(D) 13 বছর 
Answer: (B) 11 বছর

21.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির অন্যতম কারণ হলো – (A) যাগযজ্ঞের ওপর গুরুত্ব আরোপ (B) পাঠ্যক্রমের ভার (C) অবৈতনিক আবাসিক শিক্ষা (D) গুরু – শিষ্যের মধুর সম্পর্ক 
Answer: (A) যাগযজ্ঞের ওপর গুরুত্ব আরোপ

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

1.ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । অথবা , ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম , প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে লেখো ।
Answer: সূচনা : ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা শাশ্বতধারায় যুগান্তরের পথে পরিবর্তিত হয়েছে । প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম স্তর হলো ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থা । এই শিক্ষা ছিল ধর্মভিত্তিক । তখন মনে করা হতো জগতের সব কিছুর মধ্যেই ব্রষ্ম বিরাজমান । উপাসনার মাধ্যমে দুঃখ পারাবার পৃথিবী থেকে মুক্তির পথ খোঁজাই এই শিক্ষার লক্ষ্য । পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজের উচ্চশ্রেণি হিসাবে চিহ্নিত ব্রাহ্মণদের দ্বারা এই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বলে একে ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থা বলা হয় । 

ব্রাক্মণ্য শিক্ষার লক্ষ্য : মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো জগতের অধিকর্তা পরমব্রহ্মকে জানা এবং উপলব্ধি করা । ব্যক্তি যখন এই পরমব্রষ্মকে উপলব্ধি করতে পারবে তখনই সে এই জড় জগতের সকল দুঃখকষ্ট , যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবে । তাই এই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ব্যক্তির মধ্যে এই পরমসত্তাকে উপলব্ধি করার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির মোক্ষলাভে সহায়তা করা । অন্যদিকে শিক্ষার রূপসাধনের মধ্যে দিয়ে ধর্মের উদ্দেশ্যসাধন , চরিত্রগঠন , ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ , সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্বের যথাযথ অনুশীলন করা এবং বেদের চর্চা ও ধর্মাচরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় শিক্ষা – সংস্কৃতির সংরক্ষণ এই শিক্ষার লক্ষ্য । 

ব্রাক্মণ্য শিক্ষার পাঠ্যক্রম : ব্রাহ্মণ্য যুগে পাঠ্যক্রম ছিল বর্ণভিত্তিক । এর সঙ্গে দু’টি বিদ্যা — পরাবিদ্যা ও অপরাবিদ্যার যোগ ছিল । পরাবিদ্যার শিক্ষার্থীদের আটটি বেদ , বেদাঙ্গ , পুরাণ , ইতিহাস , তর্কশাস্ত্র , ভূতবিদ্যা ইত্যাদি পড়তে হতো । ব্রাহ্মণদের পড়ার পাশাপাশি ধর্মীয় – অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করা , অধ্যাপনা এবং ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ছাত্রদের পড়াতে হতো । 

ক্ষত্রিয়ের পাঠ্যক্রম : তির , ধনুক , তরবারি প্রভৃতি অস্ত্রের চালনা পদ্ধতি , যুদ্ধ করা , সৈন্য সাজানো , রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় ক্ষত্রিয়দের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল । 

বৈশ্যদের পাঠ্যক্রম : শিক্ষার্থীদের শস্যবপন প্রণালী , পশুপালন , জমির গুণাগুণ বিচার , ধাতু ও রত্নের মূল্যবিচার শিখতে হতো । ব্যাবসার স্বার্থে বিভিন্ন ভাষা , ভৌগোলিক অবস্থান বিষয়ে জানতে হতো । কৃষি , বাণিজ্য , চিকিৎসাবিদ্যায় জ্ঞানার্জন করতে হতো । শূদ্রদের জন্য প্রথাগত কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না । 

শিক্ষাদান পদ্ধতি : ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার রীতি অনুসারে শিক্ষাদানে যেসব পদ্ধতি ছিল , তা ছিল এইরকম— 

 উপক্রম : এটি ছিল শিক্ষার্জনের প্রথম পর্যায় । এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাপোযোগী প্রস্তুতি আনা হতো । 

 শ্রবণ : এই পদ্ধতি অনুসারে শিক্ষাগুরুর কাছ থেকে সবকিছু শুনে শুনে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হতো । কারণে শিক্ষার্থীরা সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনত । 

 মনন : এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা আলোচনা ও যুক্তির মাধ্যমে বিষয়বস্তুর তাৎপর্য উপলব্ধি করত । 

 আবৃত্তি : এই স্তরে গুরুর পড়াশোনার বিষয়ে শোনার পর শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে আবৃত্তি করত । 

 নিদিধ্যাস : ধ্যানের মাধ্যমে পরমসত্যকে উপলব্ধি করার নাম নিদিধ্যাস । ব্রাক্ষ্মণ্য শিক্ষায় কোনো বিষয়ে ভালোভাবে না বুঝে মুখস্থ করাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হতো । 

 আশ্রম : ব্রাহ্মণ্য শিক্ষায় গুরুর কথাই ছিল শেষকথা । শিক্ষার্থীদের কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলতে হতো । শিক্ষার্থীকে বলা হতো অন্তর্বাসী । আশ্রমে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হতো । এছাড়া এখানে দিবানিদ্রা নিষিদ্ধ ছিল । এছাড়া নিত্য , গীত , বাদ্য প্রভৃতিতে যোগদান না করার নিয়ম ছিল । প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভিক্ষে করে অন্নসংগ্রহ , সংযত জীবনে অভ্যস্ত হওয়া , যজ্ঞের কাঠ সংগ্রহ করা এবং গুরুর দেখাশোনা করতে হতো ।

2.প্রাচীন ভারতের শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
Answer: প্রাচীন ভারতবর্ষে শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি শিক্ষাকেন্দ্র ছিল তার মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতনামা এবং সুপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় । বৈদিক যুগে স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি খ্রিস্টপূ ব ষষ্ঠ শতকে বৌদ্ধ যুগে প্রবল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল । এটি ছিল সমকালীন ভারতবর্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অনন্য ক্ষেত্র ।

 ভৌগোলিক অবস্থান : প্রাচীন কালে ভারতবর্ষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও বর্তমানে এটি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে 20 মাইল উত্ত র – পশ্চিমে গান্ধারে অবস্থিত । এটি প্রাচীন গাধার রাজ্যের রাজধানী তক্ষশীলার নামে বিশ্বদরবারে আজও জনপ্রিয় । প্রায় 12 বর্গ মাইল স্থানব্যাপী তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত ছিল । 

সময়কাল : মনে করা হয় , তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম থেকে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অব্দ পর্যন্ত প্রায় 400 বছর ধরে গৌরবের সাথে তার অস্তিত্ব বজায় রেখেছে । 

শিক্ষাকাল : তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের বয়সকাল ছিল 16 বছর অর্থাৎ 16 বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা এখানে প্রবেশের সুযোগ পেত এবং 4 বছর ধরে তারা শিক্ষাগ্রহণ করত । এই শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি আবাসিক ছিল না । গুরুগৃহে বা পৃথকভাবেও থাকা যেত , শূদ্ররা এখানে পঠনপাঠনের সুযোগ না পেলেও ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরা পঠনপাঠনের সুযোগ পেত । 

শিক্ষার খরচ : তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার খরচ হিসেবে গুরুকে সহস্র স্বর্ণমুদ্রা দিত । তবে দুস্থ ছাত্র – ছাত্রীদের বিনা মূল্যে দৈহিক পরিশ্রমের বিনিময়ে শিক্ষাদান করা হতো ।

 পাঠ্যক্রম : তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বেদ ও আঠারোটি কলাবিদ্যা শেখানো হতো । এছাড়াও জ্যোতির্বিজ্ঞান , কারিগরিবিদ্যা , সমরবিদ্যা , কৃষিবিদ্যা , হস্তশিল্প ইত্যাদি বিষয়েও পাঠদান করা হতো । 

শিক্ষকমণ্ডলী : তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গুরু , আচার্য ও উপাধ্যায় এই তিনটি বিশেষণে ভূষিত করা হতো । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছিলেন ক্রম । একাধিক শাস্ত্রে পণ্ডিত । 

কৃতী ছাত্র : তক্ষশীলার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে অর্থশাস্ত্রের রচয়িতা কৌটিল্য , গৌতম বুদ্ধের চিকিৎসক জীবক প্রসেনজিৎ , ব্যাকরণের পণ্ডিত পাণিনি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য । 

শিক্ষাদান পদ্ধতি : তৎকালীন সময়ে তক্ষশীলায় শিক্ষণ পদ্ধতি হিসাবে আবৃত্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হতো । একই জিনিস বারবার শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে উচ্চারণের মাধ্যমে আয়ত্ত করত । এছাড়া ব্যক্তিগত এবং দলগত শিক্ষণ পদ্ধতিরও প্রচলন ছিল । অন্যদিকে , উচ্চশ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিম্নশ্রেণিতে পাঠদান প্রক্রিয়ার রীতি চালু ছিল । 

প্রকৃতি : এই প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি বহুদুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল । ফলে সারা ভারতবর্ষ এমনকী বহির্ভারত থেকে শিক্ষর্থীরা জ্ঞানার্জনের জন্য এখানে ভিড় করত । এখানকার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিখ্যাত চিকিৎসক জীবক , বৈয়াকরণ পাণিনি , অর্থশাস্ত্রের লেখক কৌটিল্য বা চাণক্য প্রমুখ । 

পরিচালনা : তক্ষশীলায় শিক্ষা একেবারে অবৈতনিক ছিল না । অবস্থাপন্ন ঘরের শিক্ষার্থীরা নিজ ব্যয়ভার বহন করত । দরিদ্র শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কায়িক শ্রম , গুরুসেবা ইত্যাদির বিনিময়ে শিক্ষালাভ করার সুযোগ পেত । আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার ভার মূলত অধ্যাপকদের হাতেই ন্যস্ত ছিল । 
3.প্রাচীন ভারতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আলোচনা করো । 
অথবা , প্রাচীন ভারতের যেকোনো একটি শিক্ষাকেন্দ্রের বর্ণনা দাও । 

Answer: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় : প্রাচীন ভারতবর্ষে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রকৃত শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গৌরবময় শিক্ষাকেন্দ্র ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় । প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নালন্দা তক্ষশীলা ও বিক্রমশীলার মতো জগদ্বিখ্যাত ছিল । সমকালীন ভারতবর্ষে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালনা , অধ্যাপনা , অধ্যাপক প্রভৃতি দিক থেকেই নালন্দা ছিল সেযুগের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান । বিজ্ঞানেন্দ্দ শূন্য , দশমিক , আহ্নিক গতি , বার্ষিক গতি প্রভৃতির বিশদ ব্যাখ্যা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে এসেছে । শুধু ভারতে , নয় এশিয়া মহাদেশের মধ্যেও এটি ছিল শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র । সঠিক অর্থে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল একটি বৃহৎ আকৃতির বৌদ্ধমঠ । 

ভৌগোলিক অবস্থান : বিহারের রাজধানী বর্তমান পাটনা ও প্রাচীন পাটলিপুত্রের চল্লিশ মাইল থেকে তেতাল্লিশ মাইল দুরে এবং মগধের রাজধানী রাজগৃহের সাত মাইল দুরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ছিল । বর্তমানে বিহারের শরিফ মহকুমার বরগাও – এর কাছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ছিল । 

সময়কাল : কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন আনুমানিক তিনশো খ্রিস্টাব্দে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । অন্যদিকে কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন সম্রাট অশোক এই বৌদ্ধবিহারটি নির্মাণ করেন । পরবর্তীতে গুপ্ত শাসকদের আমলে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল । বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন – সাং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন । 

নামকরণ : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ঐতিহাসিকদের মধ্যে একটি বিতর্কিত বিষয় । ইং – সিং – এর মতে , নাগানন্দ সরোবর থেকে নালন্দা নামের উৎপত্তি হয়েছে । অন্যদিকে ফা – হিয়েন নালন্দাকে নাল নামে অভিহিত করেছেন । 

ছাত্রভর্তি : সম্পূর্ণ মেধার উপর ভিত্তি করে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তবেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পাওয়া যেত , তবে এখানে জাতি – ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে মেধাবী ছাত্ররাই শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পেত । 

পরিকাঠামো : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুরদিকে সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত ছিল । এখানে প্রায় তিনশোটি শ্রেণিকক্ষ ছিল এবং সাত থেকে আটটি বৃহৎ হলঘর ছিল । প্রায় সাড়ে তিন বর্গ মাইল জুড়ে এই মহাবিহারের অবস্থান ছিল । যেখানে প্রায় এক হাজার অধ্যাপক – এর অধীনে দশ হাজার শিক্ষার্থী পঠনপাঠন করত । 

গ্রন্থাগার : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে রত্নরঞ্জক , রত্নদধি , রত্নসাগর নামে তিনটি বৃহৎ গ্রন্থাগার ছিল । গুলিতে প্রচুর গ্রন্থের সমাহার লক্ষ করা যায় । 

শিক্ষণ পদ্ধতি : জানা যায় মূলত আবৃত্তির মাধ্যমে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের পদ্ধতি প্রচলিত ছিল । এছাড়াও বিতর্ক , আলোচনা প্রভৃতি মৌখিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান ও উপাধিদানের ওপর জোর দেওয়া হতো । প্রবন্ধ রচনা , বক্তৃতা প্রভৃতি এখানে অভ্যাস করানো হতো । আলোচনা ও বিতর্কের ব্যবস্থা থাকায় অর্জিত বিদ্যাকে উপলব্ধি না করে কেউ সাফল্য লাভ করতে পারত না । 

পরীক্ষা পদ্ধতি : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ কৃতিত্বের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রাজসভায় উপনীত করা হতো । এই রাজসভা থেকে বিভিন্ন বিতর্কে জয়যুক্ত হলে কৃতী ছাত্রদের উপাধি ও ভূমিদান করা হতো । 

নিয়মাবলি : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যেমন শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হতো , একইসাথে শিক্ষার্থীদেরও কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতে হতো । এই কারণে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী হয়েছিল । 

খ্যাতির বিস্তৃতি : কেবলমাত্র ভারতবর্ষে নয় , নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি কোরিয়া , চিন , তিব্বত , জাভা , সুমাত্রা প্রভৃতি দেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল । নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব দীর্ঘস্থায়ী হলেও কালের নিয়মে একদিন ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছিল । দ্বাদশ শতাব্দীতে 1193 খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ ঘোরির সেনাপতি ইকতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির আক্রমণে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যায় ।