একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪ - আধুনিক শিক্ষার বিকাশে ভারতীয়দের অবদান (অষ্টম অধ্যায়)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

1.বিদ্যাসাগর মহাশয় ছদ্মনামে কোন কোন গ্রন্থ রচনা করেছিলেন ?
Answer: বিদ্যাসাগর মহাশয় ছদ্মনামে যেসকল গ্রন্থ রচনা করেছিলেন সেগুলি হলো— ‘ ব্রজবিলাস ’ , ‘ রত্নপরীক্ষা ’ , ‘ অতি অল্প হইল ’ এবং ‘ আবার অতি অল্প হইল’ইত্যাদি । 

2.বুনিয়াদি শিক্ষার দু’টি উপযোগিতা লেখো । 
Answer: ( I ) বুনিয়াদি শিক্ষা শিক্ষার্থীকে উপার্জনক্ষম করে তোলে । ( ii ) এটি কর্মভিত্তিক শিক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে । 

3.ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘ ঈশপ ফেল্স ‘ অবলম্বনে যে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন , তার নাম কী ছিল ? 
Answer: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশপ ফেল্স অবলম্বনে যে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তার নাম ছিল ‘ কথামালা ‘ । 

4.Hs শিক্ষা বলতে কী বোঝায় ? 
Answer: Hs শিক্ষা বলতে বোঝায় Hand ( হাত ) , Head ( মাথা ) এবং Heart ( হৃদয় ) — এই তিনটির মাধ্যমে শিক্ষাকে । 

5.‘ পেগান ‘ কথাটির অর্থ কী ? 
Answer: ‘ পেগান ‘ কথাটির অর্থ হলো বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গত সৌন্দর্যভোগ । 
6.বিদ্যাসাগর রচিত যেকোনো দু’টি শিক্ষামূলক গ্রন্থের নাম লেখো । 
Answer: বিদ্যাসাগর রচিত দু’টি শিক্ষামূলক গ্রন্থ হলো— ‘ ‘ পশ্বাবলী ’ , ‘ জীবনচরিত ’ । 

7.রবীন্দ্রনাথের ব্রক্ষ্মচর্যাশ্রম স্থাপনের উদ্দেশ্য কী ছিল ? 
Answer: রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মচর্যাশ্রম স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল উপনিষদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা ।

8.বিবেকানন্দ কী ধরনের শিক্ষাদান পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন ? 
Answer: বিবেকানন্দ স্বয়ংশিক্ষা ধরনের শিক্ষাদান পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন । 

9.নর্মাল স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক কে ছিলেন ?
Answer: নর্মাল স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত । 

10.গান্ধিজির মতে শিক্ষা কী ? 
Answer: গান্ধিজির মতে শিক্ষা হলো মানুষের দেহ , মন এবং আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশ । 

11.রাষ্ট্রীয় সঙ্গীকরণ ‘ কার লেখা ? 
Answer: ‘ রাষ্ট্রীয় সঙ্গীকরণ ‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – এর লেখা । 

12.স্বামীজি ‘ মানুষ গড়ার শিক্ষার জন্য কোন কোন বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদানের কথা বলেছেন ? 
Answer: স্বামীজি ‘ মানুষ গড়ার শিক্ষার ’ জন্য যেসকল বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদানের কথা বলেছেন তা হলো সহযোগিতা , আত্তীকরণ , সমন্বয়সাধন এবং শাস্তি । 

13.বুনিয়াদি শিক্ষার যেকোনো দু’টি ত্রুটি উল্লেখ করো ।
Answer: বুনিয়াদি শিক্ষার দু’টি ত্রুটি হলো- ( i ) মাত্রাতিরিক্ত শিল্পনির্ভর শিক্ষা এবং ( ii ) জনসাধারণের মধ্যে অনীহা । 

14.রবীন্দ্রনাথের মতে ধর্ম কী ? 
Answer: রবীন্দ্রনাথের মতে ধর্ম হলো ঈশ্বরকে উপলব্ধি করার জন্য ব্যক্তির আবেগপূর্ণ আকুলতা ।

15.CABE কার সভাপতিত্বে গড়ে উঠেছিল ? 
Answer: CABE স্যার জন সার্জেন্ট – এর সভাপতিত্বে গড়ে উঠেছিল । 
16.রবীন্দ্রনাথকে ‘ গুরুদেব ‘ আখ্যা কে দিয়েছিলেন ? 
Answer: রবীন্দ্রনাথকে ‘ গুরুদেব ‘ আখ্যা গান্ধিজি দিয়েছিলেন । 

17.Religion of Man ‘ গ্রন্থটি কে লিখেছিলেন ?
Answer: ‘ Religion of Man ‘ গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন । 

18.রামকৃয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? 
Answer: রামকৃয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ । 

19.বাল্যবিবাহের দোষ ‘ প্রবন্ধটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ? 
Answer: ‘ বাল্যবিবাহের দোষ ‘ প্রবন্ধটি সর্বশুভকারী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । 

20.‘ বেঙ্গল হেরাল্ড ‘ কী ?
Answer: ‘ বেঙ্গল হেরাল্ড ‘ হলো একটি সাপ্তাহিক ইংরেজি পত্রিকা । 
21.‘ দিগ্‌দর্শন ‘ কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ? 
Answer: ‘ দিগ্‌দর্শন ‘ 1818 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ৷

22.কী কারণে রামমোহন রায় ভারতবাসীর জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার চেয়েছিলেন ? 
Answer: বিজ্ঞান শিক্ষালাভ করলে ভারতবাসীর মন থেকে কুসংস্কার দূরীভূত হবে এবং তারা ইউরোপ ও আমেরিকার মতো অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে । 

23.কোন বৌদ্ধগ্রন্থটি রামমোহন রায় অনুবাদ করেন ? 
Answer: ‘ ব্রজসূচি ’ নামক বৌদ্ধগ্রন্থটি রামমোহন রায় অনুবাদ করেন । 

24.বুনিয়াদি শিক্ষা ভারতের সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি কেন ?
Answer: সরকারি কর্মচারীদের উদাসীনতা , জনসাধারণের অনীহা এবং গান্ধিজির অনুগামীদের নিষ্ঠার অভাবে বুনিয়াদি শিক্ষা ভারতের সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি । 

25.সংবিধানের কত নম্বর ধারায় তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের শিক্ষার কথা বলা হয়েছে ?
Answer: সংবিধানের 46 নং ধারায় তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের শিক্ষার কথা বলা হয়েছে । 

26.মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার কে ছিলেন ? 
Answer: মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত । 

27.ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পরিকল্পিত মডেল স্কুলগুলি পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলায় স্থাপিত হয় ?
Answer: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পরিকল্পিত মডেল স্কুলগুলি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি , বর্ধমান ও মেদিনীপুর জেলায় স্থাপিত হয় । 

28.“ যেখানে নারীরা সম্মানিত হন , সেখানে ভগবান বাস করেন । ” এই উক্তিটির প্রবক্তা কে ?
Answer: “ যেখানে নারীরা সম্মানিত হন , সেখানে ভগবান বাস করেন । ” এই উক্তিটির প্রবক্তা হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর । 

29.‘ আত্মীয়সভা ‘ স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল ? 
Answer: ‘ আত্মীয়সভা ’ স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আধ্যাত্মিক বিষয়ের ওপর আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো বিষয়কে যুক্তির মাধ্যমে বিচারবিশ্লেষণ করা এবং তার সত্যতা যাচাই করা । 

MCQ প্রশ্নোত্তর

1.ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত বছর বয়সে ‘ বিদ্যাসাগর ’ উপাধি লাভ করেন ? (A) 21 বছর বয়সে (B) 28 বছর বয়সে (C) 19 বছর বয়সে D) 25 বছর বয়সে 
Answer: (A) 21 বছর বয়সে

2.ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের জন্য রাজা রামমোহন রায় যে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন , তার নাম (A) ইংলিশ স্কুল (B) ইঙ্গ – বৈদিক স্কুল (C) মডার্ন স্কুল (D) বেদান্ত স্কুল 
Answer: (B) ইঙ্গ – বৈদিক স্কুল

3.সবরমতীতে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন— (A) স্বামী বিবেকানন্দ (B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (C) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (D) মহাত্মা গান্ধি 
Answer: (D) মহাত্মা গান্ধি

4.শিক্ষাসত্র হলো একটি গ্রামীণ – (A) বিশ্ববিদ্যালয় (B) মহাবিদ্যালয় (C) বিদ্যালয় (D) পান্থশালা 
Answer: (C) বিদ্যালয়

5.শ্রীরামপুর মিশনারিদের সঙ্গে রামমোহন যে বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন , সেটি হলো (A) সংস্কৃত শিক্ষা (B) ইংরেজি শিক্ষা (C) একেশ্বরবাদী শিক্ষা (D) ঐতিহ্য শিক্ষা 
Answer: (C) একেশ্বরবাদী শিক্ষা

6.ভারতে প্রাচ্য সংস্কৃতি মুছে ফেলে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন (A) রাজা রামমোহন রায় (B) মহাত্মা গান্ধি (C) ডিরোজিও (D) স্বামী বিবেকানন্দ 
Answer: (C) ডিরোজিও

7.রামমোহন রায়ের জীবনীকার হলেন– (A) সোফিয়া মার্গারেট(B) সোফিয়া হবসন(C) সোফিয়া নাজমা(D) সোফিয়া ডবসনকলেট 
Answer: (D) সোফিয়া ডবসনকলেট

8.“ ছাত্র – ছাত্রীদের স্বাধীনতা দিলে তারা আপনা থেকেই শৃঙ্খলিত হয়ে পড়বে । ” — এই উক্তিটির প্রবক্তা হলেন (A) রবীন্দ্রনাথ (B) বিবেকানন্দ (C) রামমোহন (D) বিদ্যাসাগর 
Answer: (A) রবীন্দ্রনাথ

9.যে বাদ বা নীতি প্রচারের জন্য বেদান্ত মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা হয় , তা হলো – (A) প্রকৃতিবাদ(B) অদ্বৈতবাদ (C) ভক্তিবাদ (D) জড়বাদ
Answer: (B) অদ্বৈতবাদ

10.ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা হলেন – (A)বিবেকানন্দ (B) রামমোহন (C) গান্ধিজি(D) বিদ্যাসাগর 
Answer: (B) রামমোহন
11.হস্তশিল্পকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রস্তাবনা যিনি – করেছিলেন তিনি হলেন – (A) গান্ধিজি (B) রাজা রামমোহন রায় (C) বিদ্যাসাগর (D) বিবেকানন্দ 
Answer: (A) গান্ধিজি

12.“ মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ ” এটির প্রবক্তা কে ? (A) গান্ধিজি (B) রবীন্দ্রনাথ (C) বিদ্যাসাগর (D) রামমোহন 
Answer: (B) রবীন্দ্রনাথ

13.বাংলা গদ্যের জনক হলেন – (A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (B) রাজা রামমোহন রায় (C) স্বামী বিবেকানন্দ (D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
Answer: (A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

14.নঈ তালিম শিক্ষার প্রবর্তক হলেন – (A) রবীন্দ্রনাথ (B) রামমোহন (C) গান্ধিজি(D) বিদ্যাসাগর 
Answer: (C) গান্ধিজি

15.‘ বাল্যবিবাহ দোষ ‘ প্রবন্ধের লেখক হলেন – (A) বিবেকানন্দ (B) বিদ্যাসাগর (C) রামমোহন(D) রবীন্দ্রনাথ 
Answer: (B) বিদ্যাসাগর

16.হিন্দু স্কুল স্থাপিত হয়েছিল – (A) 1825 খ্রিস্টাব্দে (B) 1823 খ্রিস্টাব্দে (C) 1817 খ্রিস্টাব্দে (D) 1819 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (C) 1817 খ্রিস্টাব্দে

17.ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – (A) 1813 খ্রিস্টাব্দে (B) 1818 খ্রিস্টাব্দে (C) 1757 খ্রিস্টাব্দে (D) 1862 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (B) 1818 খ্রিস্টাব্দে

18.“ যেখানে নারীরা সম্মানিত হয় , সেখানে ভগবান বাস করেন । ” — এই উক্তিটির প্রবক্তা হলেন— (A) স্বামী বিবেকানন্দ (B) মহাত্মা গান্ধি (C) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ (D) ঋষি অরবিন্দ
Answer: (D) ঋষি অরবিন্দ

19.“ আমি একজন ভারতীয় প্রতিটি ভারতীয় আমার – ভাই । ” এই কথাটি বলেছেন– (A) স্বামী বিবেকানন্দ (B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (C) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (D) রাজা রামমোহন রায় 
Answer: (A) স্বামী বিবেকানন্দ

20.প্রথম বিধবাবিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় – (A) 1856 খ্রিস্টাব্দের 7 এপ্রিল (B) 1856 খ্রিস্টাব্দের 7 জুন (C) 1856 খ্রিস্টাব্দের 7 ডিসেম্বর (D) 1856 খ্রিস্টাব্দের 7 মার্চ 
Answer: (C) 1856 খ্রিস্টাব্দের 7 ডিসেম্বর

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1.শিক্ষার তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবদান আলোচনা করো । 
Answer: সূচনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিক্ষাজীবনে যেসকল সুন্দর ও সত্য গ্রহণ করতে পেরেছেন তার সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন তার বিভিন্ন স্মরণীয় সৃষ্টির মাধ্যমে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শন নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত নয় , তাঁর শিক্ষার আদর্শের ভিত্তি ছিল জীবন ও বিশ্বপ্রকৃতি । তাঁর যেসকল অমর সৃষ্টি আ বিশ্ববাসীর কাছে রয়েছে তা প্রকৃতিবাদী এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । 

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন : 

( i ) শিশুর বিকাশ : রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবজাতির ব্যক্তিসত্তার বিকাশ । তাঁর মতে , যেকোনো শিশুর সার্বিক বিকাশে শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য । কারণ শিক্ষা শিক্ষার্থীর মন , আত্মা ও দেহের পূর্ণ বিকাশে সাহায্য করে । 

( ii ) শিক্ষায় আনন্দ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুঁথিগত শিক্ষা কোনো শিক্ষার্থীকেই আনন্দ দেয় না । তাঁর মতে , আনন্দের মধ্যে দিয়ে প্রকৃত শিক্ষালাভ সম্ভব । তাই তিনি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজকে পাঠ্যক্রমের আন্তর্ভুক্ত করার পক্ষপাতী ছিলেন । 

( iii ) শিক্ষায় সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন , শিক্ষার পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে প্রতিটি শিশু তাদের সৃজনশীল প্রতিভার অর্থাৎ অঙ্কন , শিল্প , ভাস্কর্য প্রভৃতির বিকাশ ঘটাতে পারবে । এটা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে । 

( iv ) মানুষের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন , মুক্ত পরিবেশে মানুষের প্রকৃত শিক্ষালাভ সম্ভব । তাই তিনি বলেছেন , প্রকৃতি থেকে দু রে সরিয়ে রেখে শিশুকে পাঠদান করা কখনোই উচিত নয় । তিনি শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রম থেকে সম্পূর্ণ আশ্রমিক প্রথায় শিক্ষাদানের পক্ষপাতী ছিলেন । 

( v ) শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা রবীন্দ্রনাথের মতে , যেকোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলে সেই শিক্ষার্থীর মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে উঠবে । যা তাদের সঠিক শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে । তিনি মনে করতেন , শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর শাসন ও নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রয়োজন নেই । কারণ কঠোর শাসন ও নিয়ন্ত্রণ শিশুর চিন্তা , বিচারশক্তি ও মেধার বিকাশ ঘটাতে বাধার সৃষ্টি করে । 

ভারতীয় সংস্কৃতি ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সমন্বয় : রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য শিক্ষা অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ছিলেন । অবশ্য তিনি আবার পাশ্চাত্য দেশগুলির বিজ্ঞান শিক্ষাকে দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করার পক্ষপাতী ছিলেন । 

শিক্ষার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান : 

( i ) শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা : ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে বীরভূমের বোলপুরে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন । এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় কৃষ্টি ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে শিক্ষাদান , সাংস্কৃতিক উৎসব , খেলাধুলা , অভিনয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করা । আসলে তিনি যেকোনো শিক্ষার্থীকেই আবদ্ধ রাখার পক্ষাপাতী ছিলেন না । 

( ii ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিশুভবন শিশুশিক্ষার জন্য , পাঠভবন মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য , শিক্ষাভবন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য , এবং বিদ্যাভবন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার জন্য গড়ে তোলে এই । ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্যে যোগ্য প্রশিক্ষক গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক – শিক্ষণ মহাবিদ্যালয় যেমন গড়ে তোলা হয় , তেমনি পল্লি উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান শ্রীনিকেতনও প্রতিষ্ঠা করা হয় ।

2.স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাচিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করো । 
Answer: সূচনা : ভারতবর্ষে যেসকল মনীষী শিক্ষাচিন্তার ক্ষেত্রে নিজেদের শিক্ষাদর্শন ও যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ । তিনি তার শিক্ষাচিন্তায় পরমজ্ঞান ও বক্তৃজ্ঞানে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন । আসলে তার বৈপ্লবিক ধারণা যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছে আধুনিক শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে । 

বিবেকানন্দের শিক্ষাচিন্তা : 

দৈহিক ও মানসিক বিকাশ : বিবেকানন্দ দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর জন্যে শিক্ষাগ্রহণের পক্ষপাতী ছিলেন । তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল মানুষ তৈরির শিক্ষাগ্রহণের প্রতি । তার মতে , শিক্ষা হবে এমন যা শিক্ষার্থীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতী । তাঁর মতে , শিক্ষা মানে তথ্যসংগ্রহ করা নয় , শিক্ষা হবে মানুষের চরিত্রগঠনের জন্যে , শিক্ষা হবে মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধার ভাব জাগ্রত করার জন্যে , শিক্ষা হবে শিক্ষার্থীকে আত্মনির্ভরশীল গড়ে তোলার জন্যে । শিক্ষাক্ষেত্রে বিবেকানন্দ এতটাই জোর দিয়েছিলেন যে তিনি মনে করেছিলেন , গীতাচর্চা না করে ফুটবল খেলার মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা সম্ভব । 

মানবসেবা : বিবেকানন্দ মনে করতেন শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব । তিনি গর্বের সঙ্গে বলতেন— “ Every Indian is my brother ‘ ‘ তিনি মনে করতেন , শিক্ষাধর্ম হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা যা এককথায় গভীর মানবপ্রেম । পাঠক্রম : স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন , “ আর অনুকরণ করিও না , আর অনুকরণ করিও না — তোমরা আত্মবিশ্বাস সম্পন্ন হও । ” শিক্ষার পাঠক্রমের ক্ষেত্রে বিবেকানন্দ প্রাচ্য , ভাষা , ইতিহাস , ভূগোল , সংগীত সহ প্রাচীন ভারতীয় মুনি ঋষির জীবনের ওপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন । 

সর্বজনীন শিক্ষা : বিবেকানন্দ মনে করতেন , ভারতবর্ষের মতো একটি অনগ্রসর দেশকে শিক্ষাই পারে একমাত্র অগ্রসর করে দিতে । যে কারণে তিনি সর্বজনীন শিক্ষার কথা বলেছেন । তিনি বলেছেন , “ নতুন ভারত বেরুকলাঙ্গল ধরে চাষার কুটির ভেদ করে ।

শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা : বিবেকানন্দ তাঁর শিক্ষাচিন্তার ক্ষেত্রে শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষানীতিতে ভরসা রেখেছিলেন । তিনি মনে করতেন শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুর মনোযোগ , একাগ্রতা তখনই বৃদ্ধি পাবে যখন শিক্ষাগ্রহণে শিশুকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে । তিনি মনে করতেন যেকোনো শিক্ষাই গুরু থেকে শিষ্যের কাছে সঞ্চারিত হয় । 

নারীশিক্ষা : বিবেকানন্দ নারীশিক্ষা প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন । তার মতে , মেয়েরা মানুষ হলে তবেই তা সন্তানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং সন্তানরা তা দেশের উন্নতি ঘটাতে পারবে । 

ব্যক্তিজ্ঞান লাভ : বিবেকানন্দের মতে , আত্মজ্ঞান মানুষের মধ্যে বিকাশ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিজ্ঞান লাভ করা প্রয়োজন । তাই তিনি যথাযথই বলেছেন— “ Education is – 1 the manifestation of the perfection already in man . ” 

সৃজনাত্মক শিক্ষা : বিবেকানন্দ বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন । তিনি শিক্ষার্থীকে আধুনিক করতে ও তারা যাতে নিজের কাজ নিজেই করতে পারে তার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন । 

মূল্যায়ন : বিবেকানন্দের মতে , স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ যুবশক্তির মধ্যে সৃষ্টি করা হলো শিক্ষার সাফল্য । তিনি বলেছেন , “ ভারত আবার উঠিবে কিন্তু জড়ের শক্তিতে নয় , চৈতন্যের শক্তিতে । ” তাই ভারতে শিক্ষার সাফল্য ও বিকাশে বিবেকানন্দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ৷

3.শিক্ষার লক্ষ্য , শিক্ষার পাঠ্যক্রম , পুস্তক প্রণয়ন এবং জনশিক্ষা সম্পর্কে রাজা রামমোহনের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Answer: রাজা রামমোহন রায়ের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান : রাজা রামমোহন রায় বাংলা তথা নবজাগরণে ও ভারতের নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন । তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার ও শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে রাজনৈতিক , সামাজিক , ধর্মীয় ক্ষেত্রে নতুন ভারতবর্ষ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন । 

শিক্ষার পাঠক্রম : রাজা রামমোহন রায় শিক্ষার পাঠ্যক্রম রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন । নিম্নরূপ— 

প্রথমত : তিনি গণিত , দর্শন , রসায়ন , অস্থিবিদ্যা , যন্ত্রবিদ্যা প্রভৃতি বিষয় শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মতপ্রকাশ করেছিলেন । 

দ্বিতীয়ত : রামমোহন রায় তার প্রতিষ্ঠিত বেদান্ত কলেজে হিন্দু দর্শন ও সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনার আয়োজন করেছিলেন । 

তৃতীয়ত : তিনি অ্যাংলো হিন্দু বিদ্যালয় ইউক্লিডের জ্যামিতি , কারিগরিবিদ্যা , জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় পড়াশোনার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । 

চতুর্থত : তিনি সংস্কৃত , আরবি , ফারসি প্রভৃতি দেশীয় ভাষা ছাড়া ও ভারতীয়দের উন্নয়নের জন্য ইংরেজি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন । 

পুস্তক প্রণয়ন : রাজা রামমোহন রায় ভারতের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বাংলা ভাষায় পুস্তক রচনা করেছিলেন । তিনি ব্যাকরণ , শাস্ত্রবিচার , ধর্মবিষয়ক পুস্তক রচনা করেছিলেন । প্রথম ব্যাকরণ বই গৌড়ীয় ব্যাকরণ , গদ্যগ্রন্থ বেদান্ত গ্রন্থ , প্রভৃতি পুস্তক তিনি রচনা করেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার জন্য । 

শিক্ষার লক্ষ্য : রাজা রামমোহন রায়ের মতে শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল – 

( i ) শিক্ষার লক্ষ্য হলো জনগণকে আধুনিক করে তোলার জন্য কুসংস্কারমুক্ত করে তোলা । করা । 

( ii ) ভারতীয়দের মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার উন্নত দিকগুলিকে প্রসারিত 

( iii ) পাশ্চাত্যের জ্ঞান – বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক ভারতীয় শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেশীয় শিক্ষাকে পুনরুদ্ধার করা । 

জনশিক্ষায় রামমোহন রায়ের অবদান : রাজা রামমোহন রায় জনশিক্ষা প্রসারের জন্য শিক্ষাকেই হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন । তিনি সাধারণ মানুষের শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের পুস্তক , পত্রিকা প্রণয়ন করেছিলেন । এছাড়াও ‘ সম্বাদ কৌমুদী ’ , ‘ দ্য ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন ’ , ‘ মিরাৎ – উল আখবার ‘ ইত্যাদি ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা । তার এই পত্রিকাগুলি ছিল সমাজ , ধর্ম , শিক্ষা , রাজনীতি , অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ে পথের দিশা । 

মূল্যায়ন : রাজা রামমোহন রায় যে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন তা ভারতীয় জনজীবনকে সংস্কারমুক্ত করে আরও আধুনিক করে তোলার পক্ষপাতী ছিল । তিনি ভারতবাসীকে নতুনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছিলেন শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে । 

4.বিদ্যালয় শিক্ষার উন্নতির জন্য বিদ্যাসাগর যে অবদান রেখে গেছেন তা আলোচনা করো । 
Answer: বিদ্যাসাগরের অবদান : উনিশ শতকে পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভারতবর্ষের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন । বিদ্যাসাগর প্রাথমিক শিক্ষা , স্ত্রীশিক্ষা , গণশিক্ষা , সমাজ সংস্কার , উচ্চশিক্ষা প্রসার , সাহিত্যের উন্নতির জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেন । তাঁর অবদান নিম্নরূপ — 

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতিতে অবদান : ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যাসাগর প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বড়োেলাট লর্ড ডালহৌসিকে দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করান । বিদ্যাসাগরের প্রতিবেদন হলো- ( ক ) পাঠ্যবিষয় হিসেবে ভূগোল , ইতিহাস , বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ইত্যাদি বিষয় যুক্ত করা । ( খ ) বিদ্যালয়গুলির অবস্থা পরিদর্শনে পরিদর্শক নিয়োগ । ( গ ) শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার ব্যবহার । ( ঘ ) শিক্ষক শিক্ষণের জন্য নর্মাল স্কুল স্থাপনের সুপারিশ । ( ঙ ) প্রতিটি জেলায় মডেল স্কুল স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগ । 

স্ত্রীশিক্ষায় অবদান : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যাসাগর স্ত্রীশিক্ষার প্রসারের জন্য ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং সেগুলি স্থাপন করেন হুগলি , বর্ধমান , মেদিনীপুর এবং নদিয়া জেলায় । বিদ্যালয়ের আর্থিক সমস্যা সমাধানের জন্য এবং বিদ্যালয়গুলি চালানোর জন্য তিনি ‘ নারীশিক্ষা ভাণ্ডার ‘ গঠন করেন । 

উচ্চশিক্ষার বিকাশে অবদান : বিদ্যাসাগরের চেষ্টায় কলকাতার ‘ মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন ‘ নামের বিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় । যেখানে আইনশাস্ত্র , বি.এ ( অনার্স ) ও এম.এ পড়ানোর ব্যবস্থা হয় । 

বর্ণপরিচয় : বিদ্যাসাগর রচিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘ বর্ণপরিচয় ’ প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগর এখানে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের ব্যবহার অনেক সরল করেন । এছাড়া মূল সংযুক্ত বর্ণ , ‘ র ‘ ফলা , মিশ্র সংযোগের ব্যবহারও তিনি এখানে । শিখিয়েছেন । প্রাথমিক স্তরের শিশুদের উপযোগী অন্যান্য বইও তিনি লিখেছেন । 

পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার : বিদ্যাসাগর দেশীয় তথা প্রাচ্য শিক্ষার পাশাপাশি পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য জোর সওয়াল করেন । তিনি বিশ্বাস করতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয়সাধনেই বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের উন্নতি ঘটবে । 

সাহিত্যের উন্নতিতে অবদান : বিদ্যাসাগরকে বলা হয় বাংলা গদ্যের জনক । তিনি ভাষা সহজসরল করার জন্য যতি চিহ্নের প্রচলন করেন । এছাড়াও ভাষাশিক্ষার জন্য বিদ্যাসাগর ‘ বোধোদয় ‘ ও ‘ কথামালা ‘ রচনা করেন । বিদ্যাসাগর অনুদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘ শকুন্তলা ‘ , ‘ ভ্রান্তিবিলাস ’ , ‘ জীবনচরিত ‘ , ‘ বেতাল পঞ্চবিংশতি প্রধান এছাড়াও সহজ ভাষায় রচনা করেন ‘ ব্যাকরণ কৌমুদী ’ , ‘ উপক্রমণিকা ‘ । তিনি দেশি – বিদেশি সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করেন । 

গণশিক্ষার প্রসার : বিদ্যাসাগর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গণশিক্ষার প্রসারের জন্য প্রবন্ধ , গল্প লিখতে শুরু করেন । এর জন্য তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা , সোমপ্রকাশ , হিন্দু প্যাট্রিয়ট প্রভৃতি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন । 

সমাজ সংস্কারে অবদান : ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যাসাগরের নিরলস প্রচেষ্টায় বিধবাবিবাহ আইন পাশ হয় । তিনি বহুবিবাহ বন্ধ করার জন্য গভর্নর জেনারেলের কাছে । আবেদন জানান । এছাড়াও তিনি কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলেন । এইসময়ে মহাবিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়লে তখন আইন করে বহুবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি । 

উপসংহার : আধুনিক বাঙালি হিসেবে বিদ্যাসাগর সারাজীবন ভারতীয়দের মনে থাকবেন । তাঁর নিরলস প্রয়াস ও নিঃস্বার্থ সংস্কারসাধনের জন্য আজও তিনি প্রাতঃ স্মরণীয় , আগামীতেও তিনি অমর হয়ে থাকবেন।