একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪ - ভারতীয় শিক্ষাবিদদের অবদান (সপ্তম অধ্যায়)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1.সার্জেন্ট কমিটি কার নেতৃত্বে গঠিত হয় ?
Answer: সার্জেন্ট কমিটি CABE- এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এর নেতৃত্বে গঠিত হয় । 

2.শিক্ষকদের শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ করা হয় ? 
Answer: শিক্ষকদের শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থার জন্য নর্মাল স্কুল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয় ।

3.হান্টার কমিশন 1883 খ্রিস্টাব্দে ক’টি প্রস্তাব পেশ করে ?
Answer: 1883 খ্রিস্টাব্দে 222 টি প্রস্তাব সহ 600 পৃষ্ঠার সর্ববৃহৎ রিপোর্ট উত্তর পেশ করে । 

4.হান্টার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী দৈহিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ছাত্রদের কীসে উৎসাহিত করতে হবে ? 
Answer: হান্টার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী দৈহিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ছাত্রদের ব্যায়াম , স্কুল ড্রিল ও দেশীয় খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে । 

5.বয়স্কদের শিক্ষার জন্য কোন কোন সুপারিশ করা হয় ?
Answer: বয়স্কদের শিক্ষার জন্য নাইট স্কুল ও বয়স্কশিক্ষাকেন্দ্রের সুপারিশ করা হয় । 

6.কত খ্রিস্টাব্দে স্যাডলার কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ হয় ? 
Answer: 1917 খ্রিস্টাব্দে স্যাডলার কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ হয় । 

7.কার্জন সাহেব কবে এবং কোথায় প্রথম ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিল উপস্থাপন করেছিলেন ?
Answer: কার্জন সাহেব 1904 খ্রিস্টাব্দের 21 মার্চ ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল ‘ – এ প্রথম ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিল উপস্থাপন করেছিলেন । 

8.কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য ছিলেন এমন দু’জন বিদেশির নাম উল্লেখ করো ।
Answer: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য ছিলেন এমন দু’জন বিদেশি হলেন ডক্টর গ্রেগরি এবং অধ্যাপক মুর । 

9.মেকলে কে ছিলেন ? 
Answer: মেকলের পুরো নাম টমাস ব্যারিংটন মেকলে । তিনি ছিলেন লর্ড বেন্টিঙ্ক – এর আইন পরিষদের সদস্য এবং শিক্ষা কমিটির সভাপতি । 

10.পার্লামেন্টারি এনকোয়ারি কমিটির যেকোনো দু’জন সদস্যের নাম উল্লেখ করো । 
Answer: পার্লামেন্টারি এনকোয়ারি কমিটির দু’জন সদস্য হলেন— আলেকজান্ডার ডাফ ও জন ক্লার্ক মার্শম্যান । 

11.সার্জেন্ট পরিকল্পনায় মাধ্যমিক স্তরে যে দু’ধরনের বিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয় , তা উল্লেখ করো । 
Answer: সার্জেন্ট পরিকল্পনায় মাধ্যমিক স্তরে যে দু’ধরনের বিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয় , তা হলো— ( i ) আকাডেমিক স্কুল এবং ( ii ) টেকনিক্যাল স্কুল । 
12.বড়োলার্ট লর্ড বেন্টিঙ্ক কত খ্রিস্টাব্দে মেকলেকে GCPI- এর সভাপতি নিযুক্ত করেছিলেন ? 
Answer: বড়োলার্ট লর্ড বেন্টিঙ্ক 1834 খ্রিস্টাব্দে মেকলেকে GCPI- এর সভাপতি নিযুক্ত করেছিলেন । 

13.সার্জেন্ট পরিকল্পনায় ‘ টেকনিক্যাল স্কুল ’ – এ কোন কোন শাখায় পাঠদানের কথা বলা হয় ?
Answer: সার্জেন্ট পরিকল্পনায় ‘ টেকনিক্যাল স্কুল এ শিল্প , বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের ফলিত বা প্রয়োগমূলক শাখার পাঠদানের কথা বলা হয় । 

14.ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট স্তরের সুপারিশ কোন কমিশনে করা হয় ?
Answer: ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট স্তরের সুপারিশ স্যাডলার কমিশনে করা হয় । 

15.হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ‘ A কোর্স ‘ বলতে কী বোঝো ? 
Answer: হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ‘ A কোর্স ‘ হলো তত্ত্বমূলক শিক্ষাগ্রহণের ব্যবস্থা । এই স্তর বিদ্যালয়ের প্রবেশের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন হয় । 

16.কত খ্রিস্টাব্দে GCPI গঠিত হয় ? 
Answer: 1823 খ্রিস্টাব্দে GCPI গঠিত হয় । 

17.উড – এর ডেসপ্যাচের একটি উদ্দেশ্য লেখো ।
Answer: উড – এর ডেসপ্যাচের একটি উদ্দেশ্য হলো— ভারতীয় জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় পাশ্চাত্য জ্ঞান ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটানো । 

18.DPI- এর পুরো নাম কী ? 
Answer: DPI- এর পুরো নাম Director of Public Instruction . 

19.‘ ম্যাগনা কার্টা ‘ কী ? 
Answer: ‘ ম্যাগনা কার্টা ’ হলো ইংল্যান্ডের অধিবাসীদের একটি অধিকারপত্র । 

20.হান্টার কমিশনের একজন ভারতীয় সদস্যের নাম উল্লেখ করো ।
Answer: হান্টার কমিশনের একজন ভারতীয় সদস্যর নাম হলো ভূদেব মুখোপাধ্যায় । 

21.স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘ ইন্টারমিডিয়েট স্তর ’ কোনটিকে বলা হয়েছে ?
Answer: ম্যাট্রিকুলেশনের পরের আরও দু’বছরের অতিরিক্ত পাঠ বা +2 হলো ইন্টারমিডিয়েট স্তর । 

22.উড সাহেবের প্রস্তাবে শিক্ষার মাধ্যম সম্পর্কে কী বলা হয়েছিল ? 
Answer: উড সাহেবের প্রস্তাবে শিক্ষার মাধ্যম সম্পর্কে বলা হয়েছিল , শিক্ষার মাধ্যম হবে মাতৃভাষা । 

23.ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে মেকলের বস্তুব্য কী ?
Answer: ইংরেজি ভাষা শিক্ষার দ্বারা এদেশে এমন এক শ্রেণির মানুষ সৃষ্টি হবে যারা রক্তে ও বর্ণে থাকবে ভারতীয় কিন্তু রুচি , মতামত ও নীতিগতভাবে ইংরেজ হবে । 

24.কোন সময়কালকে প্রাচ্য – পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্বের যুগ বলা হয় ? 
Answer: 1813-1835 সাল এই সময়কালকে প্রাচ্য – পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্বের যুগ বলা হয় । 

25.কলকাতা ও মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শে তৈরি হবে ?
Answer: কলকাতা ও মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি লন্ডনের লিড্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শে তৈরি হবে । 

26.স্কটিশ চার্চ কলেজের আগের নাম কী ছিল ?
Answer: স্কটিশ চার্চ কলেজের আগের নাম ছিল জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন । 

MCQ প্রশ্নোত্তর

1.‘ চুঁইয়ে পড়া ‘ নীতির কথা বলা হয় – (A) হান্টার কমিশনে (B) মেকলে মিনিটে (C) উড – এর ডেসপ্যাচে(D) স্যাডলার কমিশনে 
Answer: (B) মেকলে মিনিটে

2.ইন্টারমিডিয়েট স্তর হলো – (A) প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিকের সীমানা (B) মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা (C) কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা (D) প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সীমানা 
Answer: (B) মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা

3.স্যাডলার কমিশনের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বময় কর্তৃত্ব কার হাতে থাকত ? (A) University Service Commission (B) Academic Council (C) Vice – Chancellor (D) সবক’টিই ঠিক 
Answer: (C) Vice – Chancellor

4.6-14 বছর বয়স পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা কোন রিপোর্টে বলা হয়েছে ? (A) কার্জনের শিক্ষানীতিতে (B) সার্জেন্ট রিপোর্টে (C) সনদ আইনে (D) সবক’টিই ঠিক 
Answer: (B) সার্জেন্ট রিপোর্টে

5.উড – এর ডেসপ্যাচে বলা হয় , ‘ DPI- কে সাহায্য করার জন্য ’ তার অধীনে নিযুক্ত থাকবে – (A) সিস্টার (B) পরিদর্শক (C) তত্ত্বাবধায়ক(D) নার্স
6.পরাধীন ভারতবর্ষে শিক্ষা বিষয়ে সর্বশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন— (A) জন সার্জেন্ট (B) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (C) লর্ড রিপন (D) মাইকেল স্যাডলার 
Answer: (A) জন সার্জেন্ট

7.লর্ড কার্জনের শিক্ষানীতি বিষয়ে সিমলায় শিক্ষা সম্মেলন চলছিল – (A) 25 দিন ধরে (B) 10 দিন ধরে (C) 15 দিন ধরে (D) 20 দিন ধরে 
Answer: (C) 15 দিন ধরে

8.দৈহিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার সুপারিশ করা হয় – (A) সার্জেন্ট রিপোর্টে(B) হান্টার কমিশনে (C) স্যাডলার কমিশনে(D) উদ্ভ – এর ডেসপ্যাচে 
Answer: (A) সার্জেন্ট রিপোর্টে

9.“ সিমলা শিক্ষা সম্মেলন ’ হয়েছিল – (A) 1901 খ্রিস্টাব্দে (B) 1905 খ্রিস্টাব্দে (C) 1895 খ্রিস্টাব্দে (D) 1890 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (A) 1901 খ্রিস্টাব্দে

10.উডের ডেসপ্যাচ প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল – (A) 1823 খ্রিস্টাব্দে (B) 1854 খ্রিস্টাব্দে (C) 1882 খ্রিস্টাব্দে (D) 1890 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (B) 1854 খ্রিস্টাব্দে

11.শিক্ষার খাতে বার্ষিক এক লক্ষ টাকা অনুদান বরাদ্দ হয়েছিল –(A) 1944 – এর সার্জেন্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে (B) 1854 – এর ডেসপ্যাচের মাধ্যমে (C) 1813 – এর চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে (D) 1882 – এর হান্টার কমিশনের মাধ্যমে 
Answer: (C) 1813 – এর চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে 

12.সার্জেন্ট পরিকল্পনা গঠিত হয়েছিল – (A) 1944 খ্রিস্টাব্দে (B) 1934 খ্রিস্টাব্দে (C) 1924 খ্রিস্টাব্দে (D) 1954 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (A) 1944 খ্রিস্টাব্দে

13.মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে ‘ এ ’ এবং ‘ বি ’ কোর্সের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল – (A) সার্জেন্ট পরিকল্পনায় (B) কার্জনের শিক্ষানীতিতে (C) স্যাডলার কমিশনে (D) হান্টার কমিশনে 
Answer: (D) হান্টার কমিশনে

14.উডের দলিল ভারতে পাশ হয় (A) 1853 খ্রিস্টাব্দে (B) 1817 খ্রিস্টাব্দে (C) 1847 খ্রিস্টাব্দে (D) 1854 খ্রিস্টাব্দে 
Answer: (D) 1854 খ্রিস্টাব্দে

15.স্যাডলার কমিশনের অপর নাম হলো (A) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (B) মাধ্যমিক শিক্ষা কমিশন (C) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (D) ভারতীয় শিক্ষা কমিশন 
Answer: (C) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন

16.শিক্ষাসভা গঠিত হয় (A) 1823 খ্রিস্টাব্দের 31 জুলাই (B) 1813 খ্রিস্টাব্দের 31 মার্চ(C) 1823 খ্রিস্টাব্দের 30 সেপ্টেম্বর (D) 1813 খ্রিস্টাব্দের 31 জানুয়ারি 
Answer: (A) 1823 খ্রিস্টাব্দের 31 জুলাই

17.উড – এর ডেসপ্যাচের সুপারিশ অনুযায়ী কার মতামতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে ? (A) ভাইস চ্যান্সেলার (B) সিনেট (C) সিন্ডিকেট (D) চ্যান্সেলার 
Answer: (B) সিনেট

18.লর্ড কার্জনকে ভারতের শিক্ষাজগতের ঔরঙ্গজেব বলে উপহাস করেছিলেন— (A) গোপালকৃষ্ণ উপাধ্যায় (B) গোপালকৃষ্ণ রায় (C) গোপালকৃষ্ণ গোখলে (D) গোপালকৃয় গান্ধি 
Answer: (C) গোপালকৃষ্ণ গোখলে

19.নীচের কোনটি শিক্ষক শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ? • (A) ট্রেনিং স্কুল(B) মাধ্যমিক স্কুল (C) মডেল স্কুল (D) নর্মাল স্কুল 
Answer: (D) নর্মাল স্কুল 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

1.হান্টার কমিশনের সুপারিশগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Answer: ভারতবর্ষে শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে যেসকল কমিটি বা কমিশন গঠিত হয়েছিল । তার মধ্যে 1882 খ্রিস্টাব্দের হান্টার কমিশন ছিল অন্যতম । 1882 খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 20 জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় ভারতীয় শিক্ষা কমিশন বা হান্টার কমিশন । এই কমিশন আগামী তিন বছরের মধ্যে 222 টি প্রস্তাব সহ 600 পৃষ্ঠার একটি সুবৃহৎ রিপোর্ট পেশ করে । এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ভারতের পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে । 

হান্টার কমিশনের প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশ : হান্টার কমিশনের সুপারিশক্রমে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছিল তা এইরকম— 

1) কমিশন প্রাথমিক শিক্ষাকে সাধারণের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষারূপে গড়ে তোলার কথা বলে । 

2) প্রাথমিক শিক্ষা হবে জনসাধারণের মাতৃভাষায় শিক্ষা । 

3) প্রাথমিক শিক্ষার এক তৃতীয়াংশ ব্যয় সরকার কর্তৃক করা হবে । 

4) প্রাথমিক শিক্ষার মূল বিষয় হলো গণিত , বিজ্ঞান , হস্তশিল্প , কৃষিবিদ্যা , স্বাস্থ্যবিজ্ঞান , সাহিত্য , ভাষা ইত্যাদি । 

মাধ্যমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশ : হান্টার কমিশনের নীতি অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে যেসকল সুপারিশ করা হয়েছিল তা এইরকম— 

1) প্রত্যেক জেলায় মডেল স্কুল হিসেবে সরকারিভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হবে । 

2) এইসময়কার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিকেও সমান সুযোগসুবিধা দিতে হবে । 

3) বেসরকারি প্রচেষ্টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ গড়ে উঠবে । 

4) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে । 

5) মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালনায় সরকার সক্রিয় ভূমিকা নেবে না , ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হবে । 

6) মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করতে হবে । 

7) স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারলে বেসরকারি পরিচালনায় স্কুলগুলি ছেড়ে দেওয়া হবে । 

8) সরকারি অনুদানের সাহায্যে বিদ্যালয়গুলির আর্থিক সংকট মোচন করা হবে ।
 উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশ : হান্টার কমিশনের নীতি অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত যেসকল সুপারিশ করা হয়েছিল তা হলো— 

1) সরকারি পরিচালনায় কতকগুলি আদর্শ কলেজকে মডেল হিসেবে তুলে ধরা হবে । 

2) কমিশন ধর্ম সম্পর্কে নিরপেক্ষ নীতির মূল বিষয়কে মেনে নিয়ে যেকোনো বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষার বিরোধিতা করবে । 

3) দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যে সরকারি বৃত্তি চালু করতে হবে । 
 4) শিক্ষক – শিক্ষণ পরীক্ষায় যাঁরা উত্তীর্ণ হবেন কেবলমাত্র তাঁদের মধ্যে থেকেই সরকারি স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হবে । 

5) বেসরকারি উদ্যোগে দেশে উন্নত পরিকাঠামোযুক্ত কলেজ যাতে গড়ে ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । 

6) সরকার কর্তৃক উচ্চশিক্ষার জন্য আধুনিক শিক্ষানীতি অনুসরণ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে । 

নারীশিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশ : 1882 খ্রিস্টাব্দে হান্টার কমিশনের নারীশিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশে বলা হয় — নারীশিক্ষার জন্য উপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে । শিক্ষাক্ষেত্রে নারী পরিদর্শক নিয়োগ করতে হবে । 

গুরুত্ব : ভারতবর্ষে শিক্ষাবিস্তারে হান্টার কমিশনের গুরুত্ব কোনো দিক থেকেই কম নয় । শিক্ষাবিস্তারের সকল স্তরে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে হান্টার কমিশনের সুপারিশগুলিকে বাস্তবায়িত করা হয়েছিল । এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একদিকে যেমন ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে ঠিক তেমনই নারীশিক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি করা যায় ।

2.মেকলের মন্তব্য বলতে কী বোঝো ? কীভাবে মেকলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান করে ।
Answer: ভারতবর্ষে শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক পরিবর্তনের সময় ছিল 1835 খ্রিস্টাব্দ । কারণ এইসময় টমাস ব্যারিংটন মেকলে তাঁর বিখ্যাত মেকলে মিনিটস – এর ঘোষণা করেছিলেন । 1813 খ্রিস্টাব্দের চার্টার আইন অনুসারে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের শিক্ষাখাতে বার্ষিক এক লক্ষ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । কিন্তু এই অর্থ প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পেশ করা হয়নি । তাই এবিষয়ে যে দ্বন্দ্ব তা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত । 

প্রাচ্য – পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্বের অবসান : ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাচ্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যাখ্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— 

 প্রথমত , প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার দ্বন্দ্ব অবসানের অন্যতম পদক্ষেপ ছিল 1823 খ্রিস্টাব্দে জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্যাকশনের প্রতিষ্ঠা । অবশ্য এর দ্বারা এই দ্বন্দ্বের পরিপূর্ণ সমাধান হয়নি । 

 দ্বিতীয়ত , 1813 সালের সনদ আইনের 43 নং ধারার ব্যাখ্যা অনুসারে সাহিত্য বলতে কেবল সংস্কৃত বা আরবি সাহিত্য বোঝায় না , ইংরেজি সাহিত্যকেও বোঝায় । 

 তৃতীয়ত , মেকলে মিনিটস অনুসারে টমাস ব্যারিংটন মেকলের বক্তব্য ছিল এদেশীয় প্রাচীন ভাষাগুলি ইংরেজি ভাষার তুলনায় নিকৃষ্টতর । তার মতে , ইউরোপীয় যেকোনো একটি ভালো গ্রন্থাগারে যে সাহিত্যসম্ভার রয়েছে তা ভারত ও আরবদেশের সাহিত্যভাণ্ডারের সমান । কাজেই আধুনিক জ্ঞান – বিজ্ঞানের বাহন হওয়ার যোগ্যতা এদেশের মাতৃভাষার নেই । 

 চতুর্থত , মেকলে সাহেবের অপর একটি বক্তব্য হলো — ভারতবর্ষে এমন একটি শিক্ষাসমাজ গড়ে তুলতে হবে যারা রক্ত ও বর্ণের দিক থেকে ভারতীয় থাকলেও মতামত আদর্শের দিক থেকে খাঁটি ইংরেজ । এক্ষেত্রে তিনি বলেছেন , ইংরেজ মনোভাবাপন্ন একটি সহযোগী শ্রেণি প্রতিষ্ঠা করাই এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য । 

পঞ্চমত , মেকলে মিনিটস অনুযায়ী মেকলের মূলবক্তব্য — সমগ্র জনসাধারণের শিক্ষাদানের দায়িত্ব সরকারের নয় । কেবলমাত্র অভিজাত ও মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়কে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই ক্রমশ তা নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে । একেই বলা হয় নিম্ন পরিশ্রাবণ নীতি বা চুইয়ে পড়া নীতি । মেকলে মিনিটস – এর ব্যাখ্যা তৎকালীন সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল । ভারতীয় শিক্ষাপ্রসারের ক্ষেত্রে মেকলে সাহেব গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক – এর নির্দেশ অনুসারে মেকলে মিনিটস – এর ঘোষণা করেন । এই নীতি অনুসারে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি শিক্ষানীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় । এইভাবে প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান হয় । 
3.উডের ডেসপ্যাচ কী ? এর মূল সুপারিশগুলি আলোচনা করো । এর ত্রুটিগুলি উল্লেখ করো ।
Answer: সূচনা : ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ম্যাগনা কার্টা বলা হয় চার্লস উডের সুপারিশনামা উডের ডেসপ্যাচকে । 1853 সালে কোম্পানির সনদ আইনে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিকল্পে গড়ে তোলা হয় একটি অনুসন্ধান কমিটি । এই কমিটির অনুসন্ধানের জন্যে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি হিসেবে ভারতে আসেন স্যার চার্লস উড । 

উড – এর ডেসপ্যাচ : বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উডের শিক্ষাসংক্রান্ত সুপারিশনামা উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত । 1854 খ্রিস্টাব্দের 14 জুলাই চার্লস উড তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত এই সুপারিশ ঘোষণা করেন যা ভারতবর্ষে শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে আলোড়ন নিয়ে এসেছিল । চার্লস উডের সুপারিশগুলি নিম্নরূপ — 

1) ভারতের সর্বজনীন শিক্ষাপ্রসারের ক্ষেত্রে দু’টি দেশকে উদ্যোগী হতে হবে । 

2) কলকাতা , বোম্বাই এবং মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে । 

3) 1855 খ্রিস্টাব্দে প্রতিটি প্রদেশে একটি করে জনশিক্ষা কমিটি গঠিত হয় । 

4) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে । 

5) বিদ্যালয়গুলিতে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হলেও ইংরেজি শিক্ষাবিস্তারের পথ প্রশস্ত হয় । 

6) শর্তসাপেক্ষে বিদ্যালয়গুলিতে অনুদান দেওয়ার নীতি প্রয়োগ করা হয় । 

শিক্ষার বিষয় : চার্লস উডের সুপারিশক্রমে শিক্ষার বিষয় হবে প্রাচ্য বিজ্ঞান ও দর্শন এমনটা অযৌক্তিক । এই নীতি অনুসারে ইউরোপীয় জ্ঞান – বিজ্ঞান , দর্শন এবং সাহিত্যচর্চারও সুযোগ থাকবে । কোম্পানি শাসনাধীন 5 টি প্রদেশ বাংলা , মাদ্রাজ , বোম্বাই , উত্তরপ্রদেশ , পাঞ্জাব প্রতিটি প্রদেশই খোলা হবে একটি করে শিক্ষা বিভাগ । এর প্রধান হবেন জনশিক্ষা অধিকর্তা । শিক্ষার উন্নয়নকল্পে এঁরাই সচেষ্ট হবেন । 

উডের নির্দেশনামার নীতি : চালর্স উডের সুপারিশগুলি ছিল সংকীর্ণতার দোষে দুষ্ট । এই নির্দেশনামায় যেসকল সুপারিশ করা হয়েছিল তা মূলত প্রাদেশিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রভাবিত করে । এখানে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা সম্বন্ধে তেমন কোনো সুপারিশ করা হয়নি । ডেসপ্যাচে মিশনারিদের ধর্মপ্রচারে সাহায্য করা হয়েছিল । ধর্মীয় অসহিফ্লুতা তৈরি করে এই সুপারিশে এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির ধারাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছিল । 

  এই ডেসপ্যাচ অনুসারে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বকে স্বীকার করে নেওয়া হয়নি । এছাড়া এদেশে যে ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়েছিল তা প্রধানত পুস্তকনির্ভর এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক ছিল । এই সুপারিশে পাশ্চাত্য জ্ঞান – বিজ্ঞাননির্ভর শিক্ষার পরিকল্পনা হলেও আসলে তা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের নামান্তর । এই শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিটি ধাপে সরকারি অনুমতি গ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার কাজ ব্যাহত হতে থাকে এবং শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আমলাতন্ত্রের কুক্ষিগত হয়ে পড়ে ।