একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৪- শিক্ষামনোবিদ্যা (তৃতীয় অধ্যায়)
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1.শিক্ষক ও মনোবিজ্ঞানের সাধারণ উদ্দেশ্য কী ?
Answer: শিক্ষক ও মনোবিজ্ঞানের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো — শিক্ষার্থীর আচরণ বিশ্লেষণ , পরিবর্তন ও পূর্বাভাস দেওয়া ।
2.কোন পরিস্থিতিতে শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানে চিকিৎসামূলক পদ্ধতির সাহায্য গ্রহণ করা হয় ?
Answer: যখন ছাত্র – ছাত্রীদের মধ্যে গুরুতর অপসংগতিমূলক আচরণ দেখা যায় , তখন শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানে চিকিৎসামূলক পদ্ধতির সাহায্য গ্রহণ করা হয় ।
3.শিক্ষামনোবিজ্ঞানের দু’টি বিষয়বস্তু উল্লেখ করো ।
Answer: শিক্ষার্থীর বিকাশ এবং শিখনে প্রয়োজনীয় মানসিক প্রক্রিয়া হলো শিক্ষাবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ।
4.শিক্ষামনোবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন কয়েক জন মনোবিজ্ঞানীর নাম লেখো ।
Answer: শিক্ষামনোবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন কয়েক জন মনোবিজ্ঞানী হলেন— স্কিনার , থর্নডাইক , 5.কোহলার , ব্রুনার , উডওয়ার্থ , আলফ্রেড বিনে প্রমুখ ।
মনোবিজ্ঞান কী ?
Answer: মনোবিজ্ঞান হলো এমন এক বিজ্ঞান যার সাহায্যে মানুষের বিভিন্ন প্রকার আচরণের ব্যাখ্যা , নীতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যায় ।
6.অ্যাবনর্মাল সাইকোলজি বা অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞান কাকে বলে ?
Answer: মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তির অপসংগতিমূলক আচরণকে শনাক্ত করা ও তা দূর করে স্বাভাবিক মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয় , তাকে অ্যাবনর্মাল সাইকোলজি বা অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞান বলে ।
7.আচরণ বলতে কী বোঝো ?
Answer: প্রাণীরা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে , তাকেই আচরণ বলা হয় ।
8.শিক্ষার্থীর কোন কোন বিকাশ সম্পর্কে শিক্ষামনোবিজ্ঞান আলোচনা করে ?
Answer: শিক্ষার্থীর শারীরিক , বৌদ্ধিক , সামাজিক , প্রাক্ষোভিক এবং নৈতিক বিকাশ সম্পর্কে শিক্ষামনোবিজ্ঞানে আলোচনা করে ।
9.শিক্ষামনোবিজ্ঞানকে কি বিজ্ঞান পদবাচ্য বলা যায় ?
Answer: হ্যা , শিক্ষামনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান পদবাচ্য বলা যায় । কারণ এটি বিজ্ঞানের বিষয়ের মতোই পর্যবেক্ষণ , পরীক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর যেকোনো আচরণ বিশ্লেষণ , নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে ।
10.শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতা কত প্রকার ?
Answer: শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতা দু’প্রকার ।
11.‘ Psyche ‘ কথার অর্থ কী ?
Answer: ‘ Psyche ‘ কথার অর্থ আত্মা ।
12.‘ Textbook of Psychology ‘ গ্রন্থের লেখক কে ?
Answer: ‘ Textbook of Psychology ‘ গ্রন্থের লেখক এডওয়ার্ড ব্রাডফোর্ট ।
13.প্রয়োগমূলক মনোবিদ্যার জনক কে ?
Answer: জা জ্যাক রুশো ।
14.শিক্ষক ও মনোবিদের সাধারণ উদ্দেশ্য কী ?
Answer: শিক্ষক ও মনোবিদের সাধারণ উদ্দেশ্য আচরণের পরিবর্তন ।
15.ম্যাকডুগালের মতে আচরণের মূল কথা কী ?
Answer: ম্যাকডুগালের মতে আচরণের মূলকথা হলো উদ্দেশ্যসাধন ।
16.কোন মনোবিদ , কত খ্রিস্টাব্দে ‘ Principles of Psychology ‘ প্রকাশ করেন ?
Answer: 1890 খ্রিস্টাব্দে মনোবিদ উইলিয়াম জেমস ‘ Principles of Psychology প্রকাশ করেন ।
17.শিক্ষামনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী ?
Answer: শিক্ষামনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ্ধতি হলো অস্তদর্শন , পর্যবেক্ষণ , পরীক্ষণ , পার্থক্যমূলক , চিকিৎসামূলক , রাশিবিজ্ঞানের পদ্ধতি এবং সমাজগত পদ্ধতি ।
18.শিক্ষাক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের দু’টি প্রভাব উল্লেখ করো ।
Answer: শিক্ষাক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের দু’টি প্রভাব হলো— ( i ) শিক্ষাকে শিশুকেন্দ্রিক করা , ( ii ) শিশুর রুচি , চাহিদা ও সামর্থ্যের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম রচনা করা ।
19.মৌলিক মনোবিজ্ঞানের বিষয়গুলি কী ?
Answer: মৌলিক মনোবিজ্ঞানের বিষয়গুলি হলো— সমাজ মনোবিজ্ঞান , পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞান , ভূমনোবিদ্যা , শরীর মনোবিদ্যা , অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞান , বিকাশমূলক মনোবিদ্যা ইত্যাদি ।
20.শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি কীরূপ ?
Answer: শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি হলো- ( i ) এটি একপ্রকার প্রয়োগমূলক বিজ্ঞান , ( ii ) এটি শিশুর শিক্ষাকালীন আচরণ অনুশীলন করে ।
21.শিক্ষামনোবিজ্ঞানের দু’টি গুরুত্ব বা তাৎপর্য উল্লেখ করো ।
Answer: শিক্ষামনোবিজ্ঞানের দু’টি গুরুত্ব হলো- ( i ) এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আনে , ( ii ) এটি শ্রেণিশিক্ষণকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সাহায্য করে ।
22.অন্তদর্শন বলতে কী বোঝো ?
Answer: কোনো ব্যক্তির নিজের মানবিক অবস্থার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে অন্তর্দর্শন বলে ।
23.চিকিৎসামূলক পদ্ধতি বলতে কী বোঝো ?
Answer: শ্রেণিকক্ষে ছাত্র – ছাত্রীদের কোনো আচরণমূলক অপসংগতি বিশ্লেষণ করার জন্য যে পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় , তাকেই চিকিৎসামূলক পদ্ধতি বলে ।
MCQ প্রশ্নোত্তর
1.“ মনোবিদ্যা হলো চেতনার অনুশীলনকারী বিজ্ঞান । ” এটির প্রবক্তা হলেন (A) পিলসবারি (B) উইলিয়াম জেমস অথবা অ্যাঙ্গেল(C) ম্যাকডুগাল(D) ওয়াটসন
Answer: (B) উইলিয়াম জেমস অথবা অ্যাঙ্গেল
2.একজন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী হলেন – (A) কোহলার (B) প্যাভলভ (C) জেরোম ব্রুনার(D) থর্নডাইক
Answer: (C) জেরোম ব্রুনার
3.জোহান ফ্রেডারিক হার্বার্ট কোন দেশের চিন্তাবিদ ছিলেন ? (A) ব্রাজিলের (B) ইতালির(C) জার্মানির (D) রাশিয়ার
Answer: (C) জার্মানির
4.“ I wish to psychologise education . ” কথাটি বলেছেন -(A) জন ডিউই (B) রুশো (C) ফ্রয়েবেল (D) পেস্তালসি
Answer: (D) পেস্তালসি
5.আধুনিক মনোবিদ্যার জনক বলা হয় -(A) জন লককে (B) উডওয়ার্থকে(C) ওয়াটসনকে(D) ডেকার্তকে
Answer: (A) জন লককে
6.মনোবিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে কে প্রথম শিক্ষাপদ্ধতি গড়ে তোলেন ? (A) প্লেটো(B) হার্বার্ট(C) স্পেনসার(D) রুশো
Answer: (B) হার্বার্ট
7.মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষাগার প্রথম তৈরি হয়— (A) 1880 খ্রিস্টাব্দে(B) 1877 খ্রিস্টাব্দে (C) 1879 খ্রিস্টাব্দে (D) 1878 খ্রিস্টাব্দে
Answer: (C) 1879 খ্রিস্টাব্দে
8.মনোবিদ পিকুনাস ব্যক্তিজীবনের বিকাশকে ভাগ করেছেন – (A) 10 ভাগে (B) 4 ভাগে (C) 12 ভাগে (D) ৪ ভাগে
Answer: (A) 10 ভাগে
9.“ শিক্ষামনোবিজ্ঞান হলো আচরণের বিজ্ঞান ” – এটির প্রবক্তা হলেন – (A) জেমস (B) রুশো (C) ওয়াটসন(D) ম্যাকডুগাল
Answer: (C) ওয়াটসন
10.আধুনিক ধারণা অনুযায়ী মনোবিজ্ঞান হলো – (A) আচরণের বিজ্ঞান (B) চেতনার বিজ্ঞান (C) আত্মার বিজ্ঞান(D) মনের বিজ্ঞান
Answer: (A) আচরণের বিজ্ঞান
11.‘ Phychology ‘ কথাটি নেওয়া হয়েছে যে শব্দ থেকে তা হলো – (A) লাতিন শব্দ (B) ফরাসি শব্দ (C) ইংরেজি শব্দ(D) গ্রিক শব্দ
Answer: (D) গ্রিক শব্দ
12.ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘ Psychology ‘ কথাটির অর্থ হলো – (A) সমাজবিজ্ঞান (B) আত্মার বিজ্ঞান (C) শিক্ষামনোবিজ্ঞান(D) আচরণের বিজ্ঞান
Answer: (B) আত্মার বিজ্ঞান
13.আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু হলো – (A) চেতনা (B) আত্মা (C) আচরণ(D) মন
Answer: (B) আত্মা
14.‘ Logos ‘ কথাটির অর্থ — ®(A) বাণিজ্য (B) দর্শন (C) কলা(D) বিজ্ঞান
Answer: (D) বিজ্ঞান
15.শিক্ষার যে ক্ষেত্রটি মনোবিজ্ঞান দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্ধারিত হয় না , তা হলো– (A) শিক্ষার লক্ষ্য (B) শৃঙ্খলা(C) পাঠ্যক্রম (D) শিক্ষণপদ্ধতি
Answer: (A) শিক্ষার লক্ষ্য
16.বিখ্যাত মনোবিদ জোন্স জীবনবিকাশের স্তরগুলিকে ভাগে ভাগ করেছেন । (A) আটটি (B) চারটি (C) দশটি (D) পাঁচটি
Answer: (B) চারটি
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1.শিক্ষার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক আলোচনা করো ।
অথবা , মনোবিজ্ঞান কীভাবে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে ?
Answer: মনোবিজ্ঞান হলো প্রাণীর আচরণ অনুশীলনকারী বিজ্ঞান এর কাজ হলো ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের আচরণ অনুশীলনী করা , সেগুলির বিশ্লেষণ করা এবং বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া মানুষের শিক্ষাকালীন এই আচরণ অনুশীলনের জন্য শিক্ষামনোবিজ্ঞানের শাখাটি গড়ে উঠেছে । শিক্ষার কাজকে শিক্ষামনোবিজ্ঞান বিশেষভাবে প্রভাবিত করে । স্কিনারের মতে , মনোবিজ্ঞানের যে শাখা শিক্ষণ ও শিখন নিয়ে কাজ করে , তাকেই বলে শিক্ষামনোবিজ্ঞান । মনোবিজ্ঞানী জার্ড বলেন— জীবনবিকাশের নানা স্তরের মধ্যে দিয়ে অতিক্রান্ত শিশুদের মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটে সেবিষয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে সেটাই শিক্ষামনোবিজ্ঞান ।
বিদ্যালয়ের ধারণা : আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিদ্যালয়কে বিবেচনা করা হয় । শিক্ষাবিদগণ মনে করেন , আদর্শ সমাজ পরিবেশের মধ্যেই সার্থক শিক্ষা সম্ভব । শিক্ষার্থীরা সমাজের ক্ষুদ্ররূপ বিদ্যালয়ের মাধ্যমেই তাদের জীবনের প্রয়োজনীয় আচার – আচরণগুলি অনুধাবন করে ।
শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম : আধুনিক শিক্ষাক্ষেত্রে মনোবিদ্যাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের ব্যবহার হয়ে থাকে । পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষাদর্শনের ভূমিকা থাকলেও শিক্ষার বিষয়বস্তু সংগঠনের ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব সর্বাধিক । পাঠ্যক্রম হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশসাধনের উপযোগী । এই কারণে পাঠক্রম তৈরিতে মনোবিদ্যার উপর নির্ভরশীল হতে হয় ।
সময় তালিকা তৈরি : আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠক্রম অনুসারে শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠনের জন্যে প্রয়োজন হয় একটি সময় তালিকা । আর এই সময় তালিকা প্রস্তুতি অবশ্যই মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন ।
গণতান্ত্রিকপ্রশাসন : যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট নিয়মরীতি মেনে গণতান্ত্রিক প্রশাসনের নীতি অনুসারে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক – শিক্ষিকাদের মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হয় । এক্ষেত্রেও মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয় ।
শিক্ষার লক্ষ্য : আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাতত্ত্বে আলোচনা করা হয় শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে । এর বাস্তব রূপায়ণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানের ।
শৃঙ্খলা : বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্যে দরকার শৃঙ্খলাপরায়ণ শিক্ষার্থী । এক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা নেয় মনোবিজ্ঞান শিক্ষালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে ছাত্রকে সচেতন করার ক্ষেত্রে শিক্ষককে মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হয় ।
শিক্ষণ পদ্ধতি : এটি শিক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক । সর্বাধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে মনোবিদ্যার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ডালটন পরিকল্পনা , প্রজেক্ট পদ্ধতি , সমস্যা সমাধান পদ্ধতি – এর প্রতিটি মনোবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কার্যকারী প্রয়োগ । বর্তমানে গৃহীত হার্বার্ট পরিকল্পনাও মনোবৈজ্ঞানিক নীতিরই ফসল ।
আচরণ : শিক্ষার্থী অনেক সময় অসংগত আচরণ করে । এতে বিদ্যালয়ের পবিত্রতা নষ্ট হয় । মনোবিজ্ঞানের সাহায্যে এই আচরণের পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীকে মূলস্রোতে ফেরানো যায় ।
শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা : শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষায় মনোবিজ্ঞান বিশেষভাবে সাহায্য করে । কারণ আধুনিক শিক্ষায় শিশুর চাহিদা , পছন্দ – অপছন্দ , আগ্রহ , মনোভাব সবকিছুই মনোবিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ।
শিক্ষার বিষয়বস্তু : একটি শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে , অর্থাৎ তার শেখা বা জানার আগ্রহ , শিক্ষাক্ষেত্রে তার পছন্দ – অপছন্দ প্রভৃতি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মনোবিজ্ঞান । উপরিত্ত আলোচনায় স্পষ্ট , শিক্ষার সকল দিকে মনোবিদ্যার প্রভাব সমানভাবে রয়েছে । শিক্ষাক্ষেত্রে মনোবিদ্যা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকায় শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে মনোবিদ্যা নানাভাবে প্রভাবিত করে ।
2.মনোবিজ্ঞান কাকে বলে ? মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব আলোচনা করো ।
Answer: মনোবিজ্ঞান হলো চেতনা অনুশীলনকারী বিজ্ঞান এবং তারও পরে তাকে আচরণ অনুশীলনকারী বিজ্ঞান বলা হয় । এই মত সমর্থন করেন ম্যাকডুগাল ও ওয়ার্ডসন প্রমুখ মনোবিদ । গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে আধুনিক মনোবিদ্যার জনক বলা হয় । De – Anima ‘ গ্রন্থে মনোবিদ্যাকে আলাদা বিজ্ঞান বলা হয়েছে । আচরণবাদী মনোবিদ উডওয়ার্থ বলেছেন— “ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ক্রিয়াকলাপের বিজ্ঞান হলো মনোবিজ্ঞান ।
” মনোবিদ্যার বিষয় হলো বিভিন্ন মানসিক ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়া । জ্ঞান , প্রত্যক্ষণ ও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে এই বিদ্যা । তবে শিক্ষাক্ষেত্রে মনোবিদ্যার প্রভাব সবথেকে বেশি ৷ মানুষকে পরিপূর্ণভাবে চিনতে ও জানতে সাহায্য করে মনোবিজ্ঞান । মনোবিজ্ঞান কথাটির উৎপত্তি দু’টি গ্রিক শব্দ থেকে । গ্রিক শব্দ ‘ Psyche ‘ বলতে বোঝায় আত্মা এবং Logy ‘ বলতে বোঝায় বিজ্ঞান । এরজন্য অ্যারিস্টটল একে বলেছেন আত্মাবিজ্ঞান ।
শিক্ষামনোবিদ্যার গুরুত্ব : শিক্ষার সকল দিকে মনোবিদ্যার প্রভাব সমানভাবে প্রসারিত । মনোবিদ্যা শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে নানাভাবে প্রভাবিত করে । শিক্ষামনোবিদ্যার গুরুত্ব নিম্নরূপ—
প্রথমত , শিখনের উৎকর্ষ বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল । শিশুর বুদ্ধি কীভাবে বিকশিত হয় , কীভাবে এর পরিমাপ করা যায় ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্গত ।
দ্বিতীয়ত , শিশু কীভাবে কোনো কিছু শেখে , কীভাবে শেখাতে হয় , চাহিদা ও শিখনের সম্পর্ক — এসব নিয়েই গবেষণা করে মনোবিজ্ঞান । শিক্ষককে এগুলি জানায় শিক্ষামনোবিজ্ঞান ।
তৃতীয়ত , শিশুর অর্জিত শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন করার প্রয়োজন আছে । এক্ষেত্রে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া হয় ।
চতুর্থত , বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুর ব্যক্তিসত্তায় রূপান্তর ঘটে ।। সমাজ ও পরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে শিশুর আচরণে পরিবর্তন আসে ।
পঞ্চমত , শিশু কী আচরণ করবে তা নির্ভর করে তার সহজাত প্রবণতা ও সামর্থ্যের ওপর । শিক্ষামনোবিজ্ঞান শিশুর আচরণ ব্যাখ্যা করে ।
ষষ্ঠত , টানা পরিশ্রমের পর শিশুর মধ্যে ক্লান্তি আসে । এই ক্লান্তি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় , কখন বিশ্রামের প্রয়োজন এগুলির ব্যাখ্যা আছে মনোবিজ্ঞানে ।
সপ্তমত , যেকোনো ক্লাসে শিক্ষণ – শিখন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষক ও ছাত্র – ছাত্রীর মানসিক সুস্বাস্থ্যের ওপর । আর এই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানদান করে শিক্ষামনোবিজ্ঞান ।
অষ্টমত , যেকোনো শিশুর আচরণ নির্ভর করে মূলত তার সহজাত ক্ষমতা , প্রবণতা , দক্ষতা ও সামর্থ্যের উপর । শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্যতম কাজ হলো শিশুর মানবিক প্রবৃত্তিকে অনুধাবন করে তার ব্যক্তিত্বের বিকাশে সহায়তা করা ।
নবমত , আধুনিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো চরিত্রগঠন । শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুঅভ্যাস যেকোনো প্রক্রিয়ায় গঠন করা যায় । এই ব্যাপারে শিক্ষামনোবিজ্ঞান বিশেষভাবে সাহায্য করে ।